মাসুদ রানা, ময়মনসিংহ ব্যুরো: প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ২০২৬-২৭ মৌসুমে তুলা ফসলের আবাদ বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদনে উৎসাহিত করতে ময়মনসিংহে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাইফুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ময়মনসিংহের উপপরিচালক মোঃ এনামুল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তুলা উন্নয়ন বোর্ড, ময়মনসিংহ জোনের প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা ড. খালেদা ইয়াছমীন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইসরাইল হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান বলেন, কৃষিকে আরও লাভজনক ও টেকসই করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন প্রণোদনা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তুলা একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল। এর আবাদ বৃদ্ধি পেলে কৃষকের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের বস্ত্রশিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের জোগান নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি প্রণোদনার আওতায় পাওয়া উপকরণ যথাযথভাবে ব্যবহার করে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর তুলা চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। সভাপতির বক্তব্যে ড. খালেদা ইয়াছমীন বলেন, তুলা উন্নয়ন বোর্ড উন্নত জাতের বীজ, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহের মাধ্যমে দেশে তুলা উৎপাদন বৃদ্ধিতে নিরলসভাবে কাজ করছে।সরকারের এ প্রণোদনা কর্মসূচি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের তুলা চাষে আরও উৎসাহিত করবে এবং তাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বিশেষ অতিথি মোঃ এনামুল হক বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও ফসলের বহুমুখীকরণে সরকারের প্রণোদনা কর্মসূচি অত্যন্ত কার্যকর। তুলা চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষকের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের বস্ত্রশিল্পের কাঁচামালের চাহিদা পূরণেও উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা সম্ভব। এ সময় তুলাচাষিদের পক্ষে সুলতান আহমদ ও রফিকুল ইসলাম বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, সরকারের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচি কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি তুলা চাষ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর ফলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর তুলা চাষে আরও বেশি আগ্রহী হবেন এবং দেশের তুলা উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা, তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারী, কৃষি বিভাগের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং উপকারভোগী কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে ২০২৬-২৭ মৌসুমে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ১৯০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়।