লালমনিরহাটে তিস্তার পানি বিপৎসীমার উপরে, ফের বন্যার আশঙ্কা

আপলোড সময় : ১৪-০৭-২০২৬ , আপডেট সময় : ১৪-০৭-২০২৬
 

ভারী বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে তিস্তাবিধৌত জেলা লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৮ মিটার, যা বিপৎসীমার (৫২ দশমিক ১৫ মিটার) ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, উজানে ভারতে কয়েকদিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীতে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। হালকা বৃষ্টি আর উজানের এ ঢলের কারণে বাংলাদেশ অংশের ডালিয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহ বিপৎসীমার কাছ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

হালকা বৃষ্টি আর উজানের ঢলে সোমবার সন্ধ্যায় আবারও তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ বেড়ে গিয়ে ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করে। সন্ধ্যা ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ফলে তিস্তা নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল রাতে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং এই সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

ইতোমধ্যে তিস্তা চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। জেলার ৫টি উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ নদীতীরবর্তী এলাকার উঁচু সড়কগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না করা এসব বাঁধ চলতি বন্যায় বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এসব নিয়ে কাজ না করে ফেলে রাখে। এর ফলে পানির সময় এসব বাঁধের ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা দুষ্কর হয়ে পড়ে।

হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তার তীর-সংলগ্ন গোবর্দ্ধন গ্রামের বাসিন্দা সহিদার রহমান জানান, বিকেল থেকে পানি বাড়তে শুরু করেছে। ক্রমেই বেড়ে চলেছে তিস্তা নদীর পানি। ইতোমধ্যে চরাঞ্চলের বেশকিছু বাড়িতে পানি উঠেছে।

তিনি বলেন, পানির চাপ দেখে মনে হচ্ছে, বড় বন্যা হতে পারে। বড় বন্যা হলে দীর্ঘদিন সংস্কার না করা বাঁধগুলো ভেঙে যেতে পারে। এমন হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। বন্যার সময় আমাদের নদীপাড়ের মানুষদের নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়।

আদিতমারী উপজেলার নদীপাড়ের গরিবুল্লাহরটারী গ্রামের সাজু মিয়া বলেন, কয়েক দিন ধরে তিস্তার পানি বাড়া-কমা করছিল। আজকে বাড়ার পরিমাণটা বেশি। চরাঞ্চলের অনেক বাড়িতে পানি উঠে গেছে। তারা পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, পানিবন্দি এলাকায় শিশু, বৃদ্ধ আর প্রতিবন্ধীদের নিয়ে চরম কষ্টে থাকতে হয়। গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি নিয়েও আমাদের কষ্টের শেষ নেই। এ সবের মাঝেও থাকে সাপ-কোপের প্রাদুর্ভাব। বন্যা যতদিন, আমাদের কষ্ট তার চেয়েও বেশি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, উজানের পানি প্রবাহ অব্যাহত থাকায় ডালিয়া পয়েন্টে পানির উচ্চতা বেড়েছে। এর ফলে নদীতীরবর্তী এলাকার নিম্নাঞ্চলে হালকা বন্যা দেখা দিতে পারে।

তবে বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তারা।

লালমনিরহাট পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার জানান, উজানের ঢলে আজ সোমবার দুপুর থেকে তিস্তা নদীতে পানি প্রবাহ বেড়ে গেছে। ডালিয়া পয়েন্টে সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানির প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে। উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতি দীর্ঘ হতে পারে। উজানের ঢলের ওপরই নির্ভর করছে পানির চাপ।

সম্পাদকীয় :

 সম্পাদক ও প্রকাশক : এসএম শহীদ উল্লাহ, নির্বাহী সম্পাদক : শারমিন সুলতানা, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এসকে তমিজ উদ্দিন

অফিস : ১৯৩/১ (৩য় তলা) মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল : 01753492430, ই-মেইল : ajkerawaz73@gmail.com

অফিস :