তরুণ উদ্যোক্তাদের পূর্ণ সরকারি সহায়তার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

আপলোড সময় : ১৪-০৭-২০২৬ , আপডেট সময় : ১৪-০৭-২০২৬


দেশের তরুণ উদ্যোক্তা ও সম্ভাবনাময় স্টার্টআপগুলোর জন্য সরকার সবসময় পাশে থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নতুন কিছু করার পথ সহজ নয়, তবে সরকার সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করবে, যাতে তারা নিজেদের উদ্যোগের মাধ্যমে দেশ ও মানুষের কল্যাণে অবদান রাখতে পারেন।
 

তারেক রহমান বলেন, আমরা আছি আপনাদের সঙ্গে, আপনাদের সহযোগিতা করার জন্য, পথ দেখানোর জন্য। আপনাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা আছি। কতটুকু পারব আমি জানি না, কিন্তু যতটুকু পারব সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

‘স্টার্টআপে গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা, সৃজনশীলতা ও উদ্যোক্তা সম্ভাবনাকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে।
 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা যারা এখানে নতুন উদ্যোক্তা বা সম্ভাব্য উদ্যোক্তা রয়েছেন, যারা এগিয়ে আসতে চাচ্ছেন, যারা কিছু করতে চাচ্ছেন, আপনাদের শুধু একটা কথা বলি—আপনারা যেটা করতে চাইছেন, এটা খুব সহজ কাজ নয়, খুবই কঠিন। কিন্তু আপনি পারবেন যদি আপনার ইচ্ছা থাকে।

উদ্যোক্তাদের অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘আপনাদের এরকম অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তবে আপনাদের এতটুকু বলতে পারি, এই মুহূর্তে সরকারের অবস্থান থেকে আমি বলতে পারি, আমরা আছি আপনাদের সঙ্গে, আপনাদের হেল্প করার জন্য, আপনাদের পথ দেখানোর জন্য। আপনাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা আছি। কতটুকু পারব আমি জানি না, কিন্তু আমরা আছি, যতটুকু পারব সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।’
 

তরুণ উদ্যোক্তাদের পূর্ণ সরকারি সহায়তার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করছেন প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই। ছবি: প্রধামন্ত্রীর দপ্তর

 

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমি ব্যবসা-বাণিজ্য করেছি। যতটুকু ডিসেন্টভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন, আমি ব্যবসা-বাণিজ্য করেছি। কারণ আমার লাইফে ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করতে না করতেই আমি রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে যাই। দুটো জিনিস একসঙ্গে চলে না। কিন্তু বেঁচে থাকতে হবে, সেজন্য যতটুকু ব্যবসা-বাণিজ্য করা প্রয়োজন, ততটুকু করেছি। বাকি সময়টা আমি রাজনীতির জন্য দিয়েছি। আমি ঠিক করে নিয়েছি যে এখানেই আমাকে এগিয়ে যেতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘কিন্তু এই এগিয়ে যেতে একটা মানুষকে অনেক কিছুর ভেতর দিয়ে যেতে হয়। আমি গিয়েছি; মানসিক নির্যাতন, শারীরিক নির্যাতন, বিভিন্ন রকম হিউমিলিয়েশন (লাঞ্ছনা) এবং যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে আমি গিয়েছি। অনেক ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয়েছে। তারপরে আমি আজ আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর রহমতে একটা জায়গায় এসেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আপনাদের নিরুৎসাহিত করছি না, বরং উৎসাহ দিতে চাইছি।’

তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের এগিয়ে আসতে হবে। আপনারা আজকে যারা অন্টারপ্রনার (উদ্যোক্তা) হবেন, যারা হতে চাইছেন, যারা হয়ে গিয়েছেন এবং এগিয়ে গিয়ে যারা মানুষ, সমাজ ও সামগ্রিকভাবে দেশের উপকার করছেন, আপনাদের প্রয়োজন। নিজের জন্য আপনাদের প্রয়োজন না, আপনাদের প্রয়োজন লাখো-কোটি মানুষের জন্য, আপনাদের প্রয়োজন এই দেশের জন্য।’

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে স্কুলশিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত উদ্ভাবনী ও ক্রীড়া কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তার আস্থা আরও বেড়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। 

তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমি রাজনীতি করি, মাঝে মাঝেই হয়তো হতাশ হয়ে যেতাম বা এখনও মাঝে মাঝে অনেক ক্ষেত্রে বেশি হতাশ লাগে। কিন্তু এই দুটো ইভেন্ট দেখার পরে, এই বাচ্চাগুলোকে দেখার পরে নিজেকে খুব কনফিডেন্ট মনে হয়েছে। আর আজ যখন আপনাদের (স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের) কতগুলো কাজ দেখলাম, কয়েকজনের বক্তব্য শুনলাম, তখন নিজের কনফিডেন্সটা (আত্মবিশ্বাস) আজকে আরও বেড়ে গিয়েছে।’
তরুণ উদ্যোক্তাদের পূর্ণ সরকারি সহায়তার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
নির্বাচিত ছয় উদ্যোক্তার মধ্যে অনুদানের চেক হস্তান্তর করছেন প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই। ছবি: প্রধামন্ত্রীর দপ্তর


দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘যেহেতু রাজনীতি করি, আমার একটা লক্ষ্য আছে, উদ্দেশ্য আছে। দলের পরিকল্পনা আছে, সবকিছু আছে, কাজ আছে। যেহেতু দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছি, দেশকে নিয়ে আমরা চিন্তা করি, দেশের বিভিন্ন সেক্টর নিয়ে চিন্তা করি।’

তিনি বলেন, ‘আজ যখন আপনাদের দেখলাম এবং ওইদিন ওই দুটো ইভেন্টে ওই বাচ্চাগুলোকে দেখেছি, আমার কাছে মনে হয়েছে—এই যে আমরা রাতদিন পরিশ্রম করছি, চেষ্টা করছি একটু চেঞ্জ করার জন্য, আমাদের এই দেশটাকে আমরা এমন কিছু মানুষের হাতে দিয়ে যেতে পারব, যারা আমরা যেখানে রেখে যাব, সেখান থেকে দেশটাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।

‘এই যে দেশটাকে আপনারা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন, আপনাদের কাছে এই প্রত্যাশা এবং এই দৃঢ় বিশ্বাস আমার আছে।’

বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বর্তমান ও আগ্রহী সব উদ্যোক্তার সাফল্য কামনা করেন এবং তাদের সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়ার ব্যাপারে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন করেন।
 

অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মামুনুর রশীদ ভূঞা। স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক এবং অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মোর্শেদ হাসান খান। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ঢাকা বিশ্বিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপর সফল স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময়পর্ব ‘গল্প নয়, সত্যি’ অনুষ্ঠিত হয়।

পরে স্টার্টআপ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে নির্বাচিত ছয় উদ্যোক্তার মধ্যে অনুদানের চেক হস্তান্তর করা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকেও সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম’ উদ্যোক্তাদের জন্য একটি ডিজিটাল লঞ্চপ্যাড হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে সরকারি সহায়তা কর্মসূচি, প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং, বিনিয়োগের সুযোগ, অংশীদার প্রতিষ্ঠানের সংযোগ এবং প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সেবা একক প্ল্যাটফর্ম থেকেই পাওয়া যাবে।

সম্পাদকীয় :

 সম্পাদক ও প্রকাশক : এসএম শহীদ উল্লাহ, নির্বাহী সম্পাদক : শারমিন সুলতানা, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এসকে তমিজ উদ্দিন

অফিস : ১৯৩/১ (৩য় তলা) মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল : 01753492430, ই-মেইল : ajkerawaz73@gmail.com

অফিস :