রাজু আহম্মেদ শাওন, মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে গালা এলাকার মাজারসংলগ্ন ধলেশ্বরী নদীর একটি শাখা খালে বাঁধ দিয়ে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় হেলাল নামের এক বাসিন্দার বিরুদ্ধে। এতে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় আশপাশের কৃষিজমি ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ধামশ্বর ইউনিয়নের গালা মাজারের পাশ দিয়ে প্রবাহিত ধলেশ্বরী নদীর শাখা খালের উপর অবস্থিত ব্রীজের নিচে বাঁধ দিয়ে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু ফেলা হচ্ছে। ফলে খালের পানি স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতে পারছে না। টানা বৃষ্টির কারণে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় খালের মধ্যে পানি জমে রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে পানি আটকে থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই আশপাশের ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যেতে পারে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, খালটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার পানি নিষ্কাশনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বর্ষা মৌসুমে এই খাল দিয়েই অতিরিক্ত পানি ধলেশ্বরী নদীতে নেমে যায়। কিন্তু খাল ভরাটের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে।
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, ব্যক্তিস্বার্থে খালের ওপর বাঁধ দিয়ে বালু ভরাট করা হচ্ছে। এতে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কয়েকশত বিঘা কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যাবে।
স্থানীয় কৃষক মতলব মিয়া বলেন, তারা যেভাবে ড্রেজার দিয়া বালি ফালাইতাছে তাতে আমাগো খেতের ফসল নষ্ট হয়ে যাইবো। তার মধ্যে যেমনে বৃষ্টি হইতাছে পানি যে বের হইবো সেই রাস্তা নাই।
আরেক বাসিন্দা হাসমত আলী বলেন, এটা শুধু কৃষকদের ক্ষতিই নয়, বরং পরিবেশ ও পানি প্রবাহের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। খাল দখল বা ভরাটের সুযোগ থাকা উচিত নয়।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত খালের ওপর নির্মিত বাঁধ অপসারণ করে পানি চলাচল স্বাভাবিক করা হোক। অন্যথায় বর্ষা মৌসুমে কৃষিজমি প্লাবিত হয়ে কৃষকদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হেলাল বলেন, ওইখানে আমারও জায়গা আছে। আমি ভেকু দিয়ে কেটে ঠিক করে দিব। দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিয়ান নুরেন বলেন, বিষটি দেখে ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।