মাসুদ রানা, ময়মনসিংহ ব্যুরো: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, অক্সিজেনের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন এমপি।
শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে ময়মনসিংহ বিভাগীয় বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণে কারও কোনো ক্ষতি নেই; বরং জনগণ, সরকার এবং দেশের সবারই লাভ। পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পরিকল্পিতভাবে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ করতে হবে। তিনি বলেন, সরকার আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে নার্সারি মালিকদের এখন থেকেই উন্নতমানের চারা উৎপাদনে উদ্যোগী হতে হবে, যাতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চারা সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়। এতে যেমন তাদের ব্যবসার প্রসার ঘটবে, তেমনি দেশের সবুজায়নও ত্বরান্বিত হবে। এম ইকবাল হোসেইন বলেন, অধিক মূল্যবান বৃক্ষের চারা উৎপাদন ও রোপণে গুরুত্ব দিতে হবে। পরিকল্পিতভাবে মূল্যবান ও মানসম্মত গাছ লাগানোর মাধ্যমে মানুষ ভবিষ্যতে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে। তাই ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সব স্তরের মানুষকে বৃক্ষরোপণ আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের অনেক শহরে পরিবেশ দূষণ ও অক্সিজেন সংকটের কথা শোনা যায়। বেশি বেশি গাছ লাগানো হলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে, বায়ুর মান উন্নত হবে এবং মানুষ পর্যাপ্ত অক্সিজেন পাবে। প্রতি বছর পাঁচ কোটি করে গাছ রোপণের মাধ্যমে একটি সবুজ, সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজা মোঃ গোলাম মাসুম প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ সদর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ রুকুনোজ্জামান রোকন এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বন বিভাগের কর্মকর্তা, পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। পরে প্রধান অতিথিসহ অতিথিরা বেলুন উড়িয়ে ও ফিতা কেটে বিভাগীয় বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করেন। এরপর তারা মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং প্রতীকী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।