ছয় দশক পর হারিয়ে যাওয়া পরিবারের খোঁজ দিলো চ্যাটজিপিটি

আপলোড সময় : ২৭-০৭-২০২৬ , আপডেট সময় : ২৭-০৭-২০২৬


প্রায় ছয় দশক ধরে নিজের জন্মপরিচয় ও জন্মদাত্রী মায়ের খোঁজ করছিলেন ৬৬ বছর বয়সী কানাডাপ্রবাসী অবতার সিং। আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে পাওয়া অস্পষ্ট তথ্য, পুরোনো নথিপত্র এবং বছরের পর বছর অনুসন্ধান করেও যখন কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র পাননি, তখন শেষবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির সহায়তা নেন। শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্তই তাকে বহু বছর আগে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া মাতৃপরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়। খবর গার্ডিয়ান

১৯৬০-এর দশকে ভারতের অমৃতসরে বড় হন অবতার। শৈশবে তিনি জানতে পারেন, যাকে তিনি এতদিন ‘মা’ বলে জেনেছেন, তিনি তার জন্মদাত্রী নন; তাকে লালন-পালন করেছেন তার দাদি। পরে পারিবারিক সূত্রে তিনি জানতে পারেন, জন্মের অল্প সময় পরই তার বাবা উন্নত জীবিকার আশায় কানাডায় চলে যান। সে সময় পারিবারিক ও সামাজিক নানা জটিলতায় জন্মদাত্রী মা সবিন্দর কউরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন তিনি। এরপর আর কখনো তাদের দেখা হয়নি। বিষয়টি জানার পর থেকেই নিজের শিকড়ের সন্ধান শুরু করেন অবতার।

 

পরবর্তী কয়েক দশক ধরে আত্মীয়স্বজন, সরকারি নথিপত্র, পুরোনো পরিচিত এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে মায়ের খোঁজ করার চেষ্টা করেন তিনি। একাধিকবার ব্যক্তিগত অনুসন্ধান চালিয়েও ব্যর্থ হন। ডিএনএ পরীক্ষার সুযোগ থাকলেও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কারণে সে পথে এগোতে চাননি। ফলে তার হাতে ছিল কেবল কয়েকটি নাম, কিছু পারিবারিক স্মৃতি এবং বিচ্ছিন্ন কিছু তথ্য।

 

চলতি বছরের মে মাসে ফ্রান্সে ছুটি কাটানোর সময় অবতার তার জানা সব তথ্য চ্যাটজিপিটিকে দিয়ে সম্ভাব্য যোগসূত্র খুঁজে বের করতে বলেন। চ্যাটজিপিটি অনলাইনে থাকা বিভিন্ন উন্মুক্ত তথ্য, প্রকাশিত নিবন্ধ এবং ঐতিহাসিক নথি মিলিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র খুঁজে পায়। সেটি ছিল নিকি ধামু নামের এক নারীর লেখা একটি পারিবারিক স্মৃতিচারণমূলক নিবন্ধ। সেখানে তার মা সবিন্দর সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা, একটি পুরোনো ড্রেসমেকিং সনদ, জন্মস্থান, সময়কাল ও পারিবারিক তথ্য ছিল। এসব তথ্যের সঙ্গে অবতারের জানা তথ্যের বিস্ময়কর মিল পাওয়া যায়।

এরপর অবতার ই-মেইলে নিকি ধামুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শুরুতে দুজনই গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে সতর্ক ছিলেন। পরে ধাপে ধাপে পারিবারিক তথ্য, আত্মীয়দের নাম, অতীতের ঘটনা ও নথিপত্র মিলিয়ে দেখেন। কয়েক দফা যাচাইয়ের পর নিশ্চিত হন, নিকি আসলে অবতারের সৎবোন।

 

যদিও তাদের মা সবিন্দর এরই মধ্যে মারা গেছেন, তবু দীর্ঘদিনের অজানা পারিবারিক ইতিহাসের জট খুলে যায়। নিকি জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি শুনে এসেছিলেন, তার মায়ের আদরের সন্তানকে পরিবার থেকে আলাদা করে দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে অবতার বলেন, মায়ের সঙ্গে পুনর্মিলনের সুযোগ আর না থাকলেও তার পরিবারের সদস্যদের খুঁজে পাওয়া জীবনের দীর্ঘদিনের এক অপূর্ণতার অবসান ঘটিয়েছে।

সম্পাদকীয় :

 সম্পাদক ও প্রকাশক : এসএম শহীদ উল্লাহ, নির্বাহী সম্পাদক : শারমিন সুলতানা, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এসকে তমিজ উদ্দিন

অফিস : ১৯৩/১ (৩য় তলা) মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল : 01753492430, ই-মেইল : ajkerawaz73@gmail.com

অফিস :