সালাম হোসেন, ঝিনাইদহ: প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, বাংলাদেশে নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতির কথা বলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নতুন ধরনের ভণ্ডামির রাজনীতি শুরু করেছে। তাদের উচিত নেতিবাচক বক্তব্য পরিহার করে গঠনমূলক ও ইতিবাচক রাজনীতি করা। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং জেলার সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেন, এনসিপির রাজনীতি বর্তমানে জামায়াতের পরামর্শে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, এনসিপির কিছু নেতাকর্মী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণীকে নিয়ে কটূক্তি করছেন। পাশাপাশি ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের সম্পর্কেও আপত্তিকর মন্তব্য করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এভাবে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে রাজনীতি করলে জনগণের সমর্থন পাওয়া যাবে না। যারা ভোট দিয়ে একজন জনপ্রতিনিধিকে নির্বাচিত করেছেন, তাদের সামনে সেই প্রতিনিধিকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করলে জনগণ তা মেনে নেবে না।
সিলেট ও হবিগঞ্জে সাধারণ মানুষ যেভাবে প্রতিবাদ করেছে, সেটিই তার প্রমাণ। এনসিপির নেতাদের সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন বলেন, দলের নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কয়েকজন নেতা দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে অশালীন ভাষায় বক্তব্য দিচ্ছেন। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বন্দোবস্তের নামে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়ার অর্থ এই নয় যে, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে চলে যাবে। আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতির কার্যত সমাপ্তি ঘটেছে। তাঁর ভাষায়, আওয়ামী লীগের রাজনীতি এখন দিল্লিতেই দাফন হয়ে গেছে। শেখ হাসিনা যদি দেশ না ছাড়তেন, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। তবে বর্তমান বাস্তবতায় আওয়ামী লীগের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে আসার সম্ভাবনা আমি দেখি না। ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশত্যাগের কারনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে পড়েছে। ফলে দেশে ফিরে আবার সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার বাস্তব সুযোগ নেই বলেই তিনি মনে করেন।
প্রতিহিংসার রাজনীতি প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। প্রধানমন্ত্রী দলীয় নেতাকর্মীদেরও প্রতিহিংসার পথ পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আগেও বলেছেন, তাঁর মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে কারও ক্ষতি করতে চান না। বরং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ার ওপরই তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এর আগে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় জেলার সার্বিক উন্নয়ন, মাদকের বিস্তার রোধ এবং প্রশাসন, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক প্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাশেদ খাঁন। জেলা প্রশাসক মোঃ নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা পরিষদের প্রশাসক মোঃ আব্দুল মজিদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহিদুজ্জামান মনা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ মাহফুজ হোসেন, ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লিটনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।