ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ৭০ বাঁকে ‘মৃত্যুফাঁদ’

আপলোড সময় : ২২-০৮-২০২৬ , আপডেট সময় : ২২-০৮-২০২৬

এস এম মিজান, গৌরনদী (বরিশাল) : একটি বাঁক পেরোতেই সামনে আরেকটি বাঁক। কোথাও বাঁক এতোটাই তীক্ষ্ণ যে বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন শেষ মুহুর্তের আগে দেখা যায় না। কোথাও আবার সরু মহাসড়কের দুই পাশে হাট-বাজার ও স্থাপনার কারণে দৃষ্টিসীমা আরও কম।

এরমধ্যেই চলছে দ্রুতগতির বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাসসহ নানা ধরনের যানবাহন। পাশাপাশি পরিবহন চালকদের বিবেকহীন ওভারটেকিংয়ের প্রতিযোগিতার সামান্য ভুলেই অহরহ ঘটে মুখোমুখি সংঘর্ষ। কেউ ছিটকে পরছেন খাদে, কেউ চাঁপা পরছেন মহাসড়কের পাশে।

বরিশাল থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ১৬৬ কিলোমিটার মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে এমন বিপজ্জনক বাঁক রয়েছে অন্তত ৫০টি। তবে পরিবহন মালিক ও চালকদের হিসেবে সংখ্যাটি প্রায় ৭০। তাদের হিসেবে, এরমধ্যে অন্তত ৪০টি বাঁক দুর্ঘটনাপ্রবণ। বছরের পর বছর এসব বাঁকের অনেকগুলো একই অবস্থায় থাকায় বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

স্থানীয় বাসচালক, পরিবহন মালিক ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ, বাংলাদেশ রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি শুধু চালকদের অসচেতনতার কারণে তৈরি হচ্ছে না। দুই লেনের খানাখন্দে ভরা সরু মহাসড়ক, বিপজ্জনক বাঁক, যানবাহনের বাড়তি চাঁপ, অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং চালকদের দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানো, সব মিলেই পরিস্থিতি ভয়াবহ করে তুলেছে। অথচ অবকাঠামোগত এসব ঝুঁকির অনেকগুলো চিহ্নিত হওয়ার পরেও স্থায়ী কোন সমাধান হয়নি।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্যানুযায়ী, পদ্মা সেতু চালুর আগে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের বরিশালের ভূরঘাটা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ১৬ থেকে ১৯ হাজার যানবাহন চলাচল করতো। পদ্মা সেতু চালুর পর এ সংখ্যা বেড়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবের ছুটিতে যানবাহনের চাঁপ আরও প্রায় দ্বিগুন বেড়ে যায়।

অপরদিকে মহাসড়কের বড় একটি অংশ এখনও মাত্র ২৪ ফুট প্রশস্ত দুই লেনের। ফলে পদ্মা সেতু পেরিয়ে দ্রুতগতিতে আসা যানবাহন ভাঙা থেকে সরু এই মহাসড়কে ঢোকার পর গতি নিয়ন্ত্রণ না করলে বাঁকগুলো বড় ঝুঁকিতে পরিণত হয়। বিশেষ করে মাদারীপুর থেকে বরিশাল, পটুয়াখালী হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত অংশে এ সমস্যা প্রকট বলে জানিয়েছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের গৌরনদীর ভূরঘাটা ব্রিজ ও ভূরঘাটা বাসস্ট্যান্ড, টরকী, আশোকাঠী, মাহিলাড়া, কাসেমাবাদ, বাটাজোড়, কটকস্থল, কসবা, উজিরপুরের সানুহার, বামরাইল, জয়শ্রী, বাবুগঞ্জের নতুনহাট, রহমতপুর, এয়ারপোর্ট মোড়, ক্যাডেট কলেজ, সাতমাইল, ছয়মাইল, বরিশাল সদরের গড়িয়ারপাড়, কাশিপুর, খয়রাবাদ ব্রিজের পরের অংশ, দপদপিয়া জিরো পয়েন্ট, নলছিটি জিরো পয়েন্ট, বাকেরগঞ্জের লক্ষ্মীপাশা, বোয়ালিয়া, ভরপাশা, রেইন্ট্রিতলা, চরামদ্দি, আমতলীর শাখারিয়া ও ব্রিকস ফিল্ড এবং কলাপাড়ার মহিষাকাটা, চুনাখালী ও কেঁওড়াবুনিয়া এলাকায় একাধিক বিপজ্জনক বাঁক রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসচালক ও পরিবহন মালিকরা।

তাদের ভাষ্য মতে, এসব বাঁকের কয়েকটি এতোটাই তীক্ষ্ণ যে বিপরীত দিকের যানবাহন সামনে না আসা পর্যন্ত চালকরা তা দেখতে পান না। এরসাথে যুক্ত হয় পরিবহন কোম্পানিগুলোর আগে যাত্রী ওঠানোর প্রতিযোগিতা। ফলে বাঁক এলাকাতেও অনেক চালক বেপরোয়াগতিতে ওভারটেকের চেষ্টা করেন।

বাস চালক শাহীন তালুকদার বলেন, নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে ভূরঘাটা পর্যন্ত মহাসড়কে প্রায় ৪০টি দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁক রয়েছে। এরমধ্যে ১৮ থেকে ১৯টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পদ্মা সেতু চালুর পর এই সড়কে দ্রুতগতির যানবাহন বেড়েছে। এক্সপ্রেসওয়ে পেরিয়ে এসব যানবাহন যখন ভাঙা থেকে ২৪ ফুট প্রশস্ত দুই লেনের মহাসড়কে ঢোকে, তখন একের পর এক বাঁকের কারণে ঝুঁকি তৈরি হয়। তার ওপর রয়েছে বাস কোম্পানিগুলোর প্রতিযোগিতা। তিনি আরও বলেন, নিয়মিত এই রুটে গাড়ি চালানো চালকরা যখন দুর্ঘটনার শিকার হন, তখন নতুন চালকদের জন্য ঝুঁকি আরও বেশি।

বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, ভূরঘাটা থেকে নথুল্লাবাদ পর্যন্ত প্রায় ৫৬ কিলোমিটার সড়কে ৪০ থেকে ৪২টি বাঁক রয়েছে। এসব বাঁকে বহু দুর্ঘটনা ঘটেছে। অধিকাংশ দুর্ঘটনায় বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পরেছে অথবা বিপরীত দিকের যানবাহনের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে।

পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের হিসেব মতে, লেবুখালী পায়রা সেতু থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ২০টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক রয়েছে। এরমধ্যে কয়েকটি স্থানে সতর্কতামূলক চিহ্ন দেওয়া হয়েছে। বাঁকগুলো সোজা করার জন্য মন্ত্রণালয়ে একটি প্রকল্প পাঠানো হয়েছে।

পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জামিল আক্তার লিমন বলেন, প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো সোজা করার কাজ করা যাবে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে।

তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের হিসেবের সাথে একমত নন পরিবহন মালিকরা। পটুয়াখালী জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার ইমাম হোসেন নাসির বলেন, পায়রা সেতু থেকে কুয়াকাটা পর্যন্তই প্রায় ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক রয়েছে। এ পথে দেড় শতাধিক আঞ্চলিক বাস চলাচল করে। বিশেষ করে শীতকালে কুয়াশার কারণে এসব বাঁকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। বাঁকগুলো সোজা করার জন্য সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষকে বারবার বলা হয়েছে।

সূত্রমতে, পটুয়াখালী থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ৮৩ কিলোমিটার দীর্ঘ মহাসড়কটি দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম ব্যস্ততম রুট। পর্যটন নগরী কুয়াকাটা, পায়রা সমুদ্রবন্দর এবং একাধিক মেগাপ্রকল্পের কারণে প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করে এখানে। তবে সড়কজুড়ে অন্তত ২০টি তীক্ষ্ণ বাঁক এবং প্রায় ১৫টি বাজার গড়ে উঠেছে, যা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে; এতে সাধারণ মানুষ থেকে পর্যটক পর্যন্ত প্রাণ হারাচ্ছেন।

সরজমিনে দেখা গেছে, লেবুখালী সেতু থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত কয়েকটি বাঁক এতোটাই তীক্ষ্ণ যে এক পাশ থেকে অন্য পাশের গাড়ি দেখা যায় না। ফলে চালকদের হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিতে হয়। ফলে সংঘর্ষ বা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ি উল্টে যাওয়ার ঘটনা লেগেই রয়েছে।

দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকগুলোর মধ্যে রয়েছে- বসক বাজার মোড়, শাখারিয়া, ব্রিকসফিল্ড, কেওয়াবুনিয়া, মহিষকাটা, চুনাখালী, আমড়াগাছিয়া খানকা, ডাক্তারবাড়ি, ঘটখালী, তুলাতলী, একে স্কুল চৌরাস্তা, ছুটিকাটা, মানিকঝুড়ি, খুরিয়ার খেয়াঘাট, খলিয়ান, কল্যাণপুর ও বান্দ্রা। এসব বাঁকে প্রায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা লেগেই রয়েছে।

সরেজমিনে আরো দেখা গেছে, মহাসড়কের গৌরনদীর ভুরঘাটা, টরকীর নীলখোলা, মাহিলাড়া, বাটাজোর, বামরাইল, হেতালিয়া বাঁধঘাট, বদরপুর, বসাক বাজার, শাখারিয়া, মহিষকাটা, আমতলী, খুরিয়ার খেয়াঘাট, পাখিমারাসহ অন্তত ১৫টি হাট ও বাজারে সারাক্ষণ মানুষের ভিড় লেগেই থাকে। হঠাৎ রাস্তা পারাপার, ট্রলি-ভ্যানের জট এবং দোকানের সামনে স্থায়ী ভিড় মিলিয়ে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার শঙ্কা থাকে।

এ রুটের অসংখ্য পরিবহন ও ট্রাক চালকরা জানিয়েছেন, দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ দুই লেনের সরু এই মহাসড়কে প্রতিদিন হাজার-হাজার মানুষ যাতায়াত করছেন। বর্তমানে পুরো মহাসড়ক খানাখন্দে একাকার হয়ে যানবাহন চলাচলে প্রায় অনুপযোগি হয়ে পরেছে। আর এসব খানাখন্দ মেরামতের জন্য সড়ক ও জনপদ বিভাগ থেকে বছরের প্রায় বারো মাসই ইট-বালু ও সুরকি দিয়ে সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। তবে এসব সংস্কার কাজ অত্যন্ত নিন্মমানের হওয়ায় কয়েকদিনের ব্যবধানে সংস্কারের ইট, বালু ও সুরকি উঠে পূর্বের ন্যায় মহাসড়ক খানাখন্দে রূপ নিচ্ছে। সড়ক বিভাগ থেকে লোক দেখানো এসব সংস্কার কাজ তদারকির অভাবে সরকারের প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা গচ্ছা যাচ্ছে।
 
তারা আরও জানিয়েছেন, তীক্ষ্ণ বাঁক, সড়কের ওপর হাট ও বাজার এবং বর্তমানে জনগুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে ব্যাপক খানাখন্দের কারণে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙা থেকে সাগরকন্যা কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়কটি দেশের অন্যতম দুর্ঘটনাপ্রবণ মহাসড়ক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

যেকারণে ভূক্তভোগীরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে বাঁক সরলীকরণ, হাট ও বাজার স্থানান্তর, খানাখন্দ সংস্কার এবং যথাযথ সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতের পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিত্বে দক্ষিণাঞ্চলবাসীর প্রাণের দাবি ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙা থেকে সাগরকন্যা কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সূত্রমতে, অবকাঠামোগত ঝুঁকির সাথে মিলে যাচ্ছে দুর্ঘটনার সামগ্রিক পরিসংখ্যান। বাংলাদেশ রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্যানুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে ২ হাজার ৩৮৭ জন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।

সংস্থাটির তথ্য সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে ৪৪৮টি দুর্ঘটনায় ৪২১ জন, ২০২৪ সালে ৪৩৯টি দুর্ঘটনায় ৪৫৭ জন, ২০২৩ সালে ৪৩৬টি দুর্ঘটনায় ৪১১ জন, ২০২২ সালে ৪৩০টি দুর্ঘটনায় ৫১১ জন এবং ২০২১ সালের ৫২৪টি দুর্ঘটনায় ৫৮৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়াও গুরুত্বর আহত হয়ে বিভিন্ন অঙ্গহানী হয়েছে সহস্রাধীক ব্যক্তিকে।

সূত্রমতে, পাঁচ বছরে নথিভুক্ত দুর্ঘটনায় বরিশাল বিভাগে গড়ে প্রতিদিন একাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে এই পরিসংখ্যান পুরো বরিশাল বিভাগের; শুধু বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে নিহতের সংখ্যা নয়। এ মহাসড়কের পৃথক পাঁচ বছরের সমন্বিত মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, বরিশাল বিভাগের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের বড় একটি অংশ ভাঙা থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা মহাসড়কের বিভিন্ন অংশের দুর্ঘটনার শিকার। পদ্মা সেতু চালুর পর যানবাহনের গতি ও সংখ্যা দুটোই বেড়েছে কিন্তু সেই অনুপাতে সড়কের সক্ষমতা বাড়েনি।

তিনি আরও বলেন, ২৪ ফুট প্রশস্ত সরু মহাসড়কে দ্রুতগতির বাসের সাথে ধীরগতির যানবাহন চলাচল করছে। বাঁক এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হচ্ছে। চালকদের সচেতনতার পাশাপাশি পরিবহন মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নিতে হবে। একজন চালককে দীর্ঘসময় একটানা গাড়ি চালানো থেকে বিরত রাখতে হবে। ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা গাড়ি চালালে চালকের ক্লান্তি ও তন্দ্রাচ্ছন্নতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি সরু মহাসড়কে বিবেকহীন ওভারটেকিং বন্ধ করতে হাইওয়ে পুলিশকে আরো কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম বলেন, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বরিশাল অংশে ৩৬টি বাঁক চিহ্নিত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এসব বাঁকের বিভিন্নস্থানে সড়ক ২৪ ফুট থেকে ৩২ ফুট পর্যন্ত প্রশস্ত করা হয়েছে। কোথাও কাজ চলছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা, ডানে-বাঁয়ে মোড়, ‘ধীরে চলুন’ ও নির্ধারিত গতিসীমার সতর্কতামূলক চিহ্ন বসানো হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের পরেও দুর্ঘটনা না কমার জন্য তিনি চালকদের অসচেতনতা, অতিরিক্ত গতি ও সরু মহাসড়কে বিবেকহীন ওয়ারটেকিংকে দায়ী করেছেন।
 
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর বরিশাল জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, ভাঙা থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা মহাসড়কটি দুই লেনের এবং গড়ে ২৪ ফুট প্রশস্ত। পদ্মা সেতু চালুর পর এ মহাসড়কে যানবাহনের চাঁপ আগের চেয়ে প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সরু মহাসড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাঁপ দুর্ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেসব স্থানে সড়ক প্রশস্ত করা হয়েছে; কোথাও কোথাও কাজ চলছে। বাজার এলাকায় স্পিড ব্রেকারসহ বিভিন্ন মোড়ে সতর্কতামূলক চিহ্ন দেওয়া হয়েছে। এরপরেও দুর্ঘটনা পুরোপুরি কমছে না। মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করা হলে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি অনেকাংশে কমে আসবে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

বরিশাল বিআরটিএর বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক জিয়াউর রহমান বলেন, ২০২২ সালের একটি দুর্ঘটনায় বাকেরগঞ্জ থেকে যমুনা লাইন পরিবহনের এক চালককে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। পরে তার ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল করা হয়। এ ধরনের ঘটনায় চালকের অসচেতনতার প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিল করা হয়।

তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনায় আহত বা নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করলে বিধি অনুযায়ী মন্ত্রণালয় থেকে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে বাস টার্মিনালগুলোতে নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচারণাও চালানো হয়।

সম্পাদকীয় :

 সম্পাদক ও প্রকাশক : এসএম শহীদ উল্লাহ, নির্বাহী সম্পাদক : শারমিন সুলতানা, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এসকে তমিজ উদ্দিন

অফিস : ১৯৩/১ (৩য় তলা) মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল : 01753492430, ই-মেইল : ajkerawaz73@gmail.com

অফিস :