মাসুদ রানা, ময়মনসিংহ ব্যুরো: শক্তিশালী ভূমিকম্পে মোবাইল নেটওয়ার্ক, টেলিফোন ও ইন্টারনেট ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়লে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে কাল্পনিক পরিস্থিতিতে উদ্ধার মহড়া ও জরুরি সেবা কার্যক্রম সচল রাখার সক্ষমতা যাচাইয়ে ময়মনসিংহে বিশেষ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ১১টায় নগরীর সার্কিট হাউজ মাঠে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, ময়মনসিংহ বিভাগের বাস্তবায়নে এ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।
এতে কারিগরি সহযোগিতা দেয় অ্যামেচার রেডিও অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ARAB)। মহড়ায় ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি কাল্পনিক ভূমিকম্পে বহুতল ভবন ধস, অগ্নিকাণ্ড ও ব্যাপক হতাহতের পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। এতে ধ্বংসস্তূপের নিচে ১৪০ জন আটকে পড়া এবং ৩৪০ জন আহত হওয়ার কাল্পনিক দৃশ্য দেখানো হয়। একই সঙ্গে প্রচলিত যোগাযোগব্যবস্থা অচল হয়ে পড়লে HF, VHF ও UHF রেডিও এবং রিপিটারের মাধ্যমে জরুরি যোগাযোগ চালুর কৌশল প্রদর্শন করা হয়। ময়মনসিংহ সদর ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার মোঃ জুলহাস উদ্দিনের নেতৃত্বে ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের শনাক্ত, উদ্ধার ও নিরাপদে বের করে আনার কৌশল প্রদর্শন করা হয়। এ সময় আহতদের প্রাথমিক সহায়তা এবং উদ্ধারকারী দলের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তারাও মহড়ায় অংশ নেন।মহড়ায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক মোঃ জানে আলম, সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী, উপসহকারী পরিচালক মোঃ মোফাজ্জল হোসেন, ফোরম্যান মোঃ মিরাজুল ইসলাম, সিনিয়র স্টেশন অফিসার মুহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন, ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মোঃ কবিরুল আলম ও আব্দুল মালেক, স্টেশন অফিসার মোঃ জুলহাস উদ্দিন ও মোঃ হাবিজুর রহমান এবং যোগাযোগ প্রকৌশলী মোঃ মিজানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, অ্যামেচার রেডিও অপারেটর ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, বড় ধরনের দুর্যোগে বিদ্যুৎ, মোবাইল নেটওয়ার্ক, টেলিফোন ও ইন্টারনেট ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়তে পারে। এ অবস্থায় বিকল্প রেডিও যোগাযোগের মাধ্যমে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে জরুরি বার্তা পৌঁছানো এবং উদ্ধারকারী ও প্রশাসনিক সংস্থার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করাই এ অনুশীলনের মূল উদ্দেশ্য।
দেশের আট বিভাগে ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী ‘কমিউনিকেশন এক্সারসাইজ’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দুর্যোগের সময় প্রচলিত যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হলেও বিকল্প যোগাযোগের মাধ্যমে জরুরি সেবা কার্যক্রম সচল রাখার সক্ষমতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুতি জোরদার করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মহড়ায় প্রদর্শিত ভূমিকম্পের মাত্রা, ক্ষয়ক্ষতি, হতাহত ও আটকে পড়া মানুষের সংখ্যা সম্পূর্ণ কাল্পনিক ‘এক্সারসাইজ ডাটা’। এগুলো কোনো বাস্তব ভূমিকম্পের পূর্বাভাস নয়।