রাঙ্গামাটির পাহাড়ে আমড়ার সুবাস: অর্থনীতি ও ঐতিহ্যের ফল

আপলোড সময় : ২৩-০৮-২০২৬ , আপডেট সময় : ২৩-০৮-২০২৬

দেবদত্ত মুৎসুদ্দী, রাঙ্গামাটি : পার্বত্য রাঙ্গামাটি জেলার  উঁচু-নিচু পাহাড় আর ঝর্ণার কোল ঘেঁষে এখন আমড়ার মৌসুম। এখন  পাহাড়ের  বাড়ির আঙিনা, বাগান আর জুমে ঝুলে থাকে টক-মিষ্টি আমড়া। স্থানীয়দের কাছে এটা শুধু ফল না, এটা আয়, ঔষধ আর ঐতিহ্যের অংশ।

রাঙ্গামাটির লালচে মাটি আর আর্দ্র আবহাওয়া আমড়া চাষের জন্য আদর্শ। এখানে মূলত দেশি জাতের আমড়া বেশি হয়। গাছ খুব বেশি যত্ন লাগে না। বাড়ির পাশে, রাস্তার ধারে, পতিত জমিতে আপনা-আপনিই বেড়ে ওঠে।  ভাদ্র-আশ্বিন মাসে গাছ ভরে ফল আসে। কাঁচা আমড়া সবুজ, পাকলে হালকা হলুদ হয়। টকের পাশাপাশি একটা মিষ্টি গন্ধ থাকে যা অন্য কোনো ফলে নেই।

এখানকার  জনগোষ্ঠী  পাহড়ি, বাঙ্গালি, চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা সবাই আমড়া খেতে ভালোবাসে। তারা বলে "আমড়া খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে, গরমে ক্লান্তি দূর হয়"।

রাঙ্গামাটি শহরের রিজার্ভ বাজার, বনরূপা বাজার আর উপজেলার হাটগুলোতে এখন আমড়ার দখল। প্রতি কেজি  আমড়া ৬০ থেকে  ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাহাড়ের নারীরা ডালা-টুকরি মাথায় করে শহরে এনে বিক্রি করেন। এতে তাদের সংসারে বাড়তি আয় আসে।

শুধু কাঁচা বিক্রি না। আমড়ার আচার, চাটনি, জুস আর মোরব্বার চাহিদাও প্রচুর। রাঙ্গামাটির অনেক নারী উদ্যোক্তা এখন অনলাইনে "পাহাড়ি আমড়ার আচার" বিক্রি করে মাসে ২০-৩০ হাজার টাকা আয় করছেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও অর্ডার আসে।

আমড়ায় প্রচুর ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম আর আয়রন আছে। ডাক্তাররা বলেন এটা হজমে সাহায্য করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। 
এখান কার লোকজন  কাঁচা আমড়া লবণ-মরিচ দিয়ে খায়। পেকে গেলে  সিদ্ধ করে গুর, মরিচ দিয়ে আচার রান্না করে তৈরি করেন। আমড়ার পাতা ও বাকল পেটের অসুখে গ্রাম্য কবিরাজরা ব্যবহার করেন।

ভালো ফলন হলেও বাজারজাতকরণ আর সংরক্ষণের অভাবে অনেক আমড়া নষ্ট হয়। কোল্ড স্টোরেজ নেই। ফলে দামও ওঠানামা করে। 
 এবিষয়ে কৃষি রাঙ্গামাটির  কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, ২৪ হেক্টর জমিতে আমড়ার চাষ হয়, ফলন ২৪০ মেট্রিক টন এবং সম্ভাব্য বাজার মূল্য ৬০ লাখ  টাকা। স্থানীয় বাজারে আমড়ার মোটামুটি চাহিদা রয়েছে। উন্নত জাতের চারা রোপনসহ    প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকেকৃষি বিভাগ । সকল ধরনের ফলের ক্ষেত্রে ভ্যালু এ্যাড করার জন্য ফ্রুট  প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি প্রয়োজন। প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা হয় তবে রাঙ্গামাটির আমড়া বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব।

 এবিষয়ে আমড়া বিক্রেতা জানকি রাখাইন জানান, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে আমড়াকে "রাঙ্গামাটির ব্র্যান্ড ফল" হিসেবে গড়ে তোলা গেলে পাহাড়ের অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে। আমড়া শুধু টক ফল না, এটা রাঙ্গামাটির মানুষের পরিশ্রম আর পাহাড়ের গল্প বলে।

সম্পাদকীয় :

 সম্পাদক ও প্রকাশক : এসএম শহীদ উল্লাহ, নির্বাহী সম্পাদক : শারমিন সুলতানা, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এসকে তমিজ উদ্দিন

অফিস : ১৯৩/১ (৩য় তলা) মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল : 01753492430, ই-মেইল : ajkerawaz73@gmail.com

অফিস :