কালিয়া( নড়াইল) প্রতিনিধি : নড়াইলের কালিয়া উপজেলার বাগুডাঙ্গা গ্রামের জনি খান (৩০) এক যুবক কাজের প্রলোভনে মানবপাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়ে থাইল্যান্ডে প্রায় চার মাস অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। পরে তাকে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে রাতের আঁধারে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে ফেলে রেখে যায় চক্রের সদস্যরা। জনি খান উপজেলার পহরডাঙ্গা ইউনিয়নের বাগুডাঙ্গা গ্রামের ফোরকান খান এর ছেলে।
জীবিকার তাগিদে গত ৭ মাস আগে ঢাকা যায় জনি। সেখানে এক মানবপাচার চক্রের সদস্য আকাশ এর সাথে পরিচয় হয়। কাজের প্রলোভন দেখিয়ে টেকনাফে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয় জনিকে। পরে মাছ ধরা ট্রলার করে থাইল্যান্ডে নিয়ে যায় চক্রটি। এসময় জনিকে অমানুষিক নির্যাতন করে ও ৪ লক্ষ টাকা মুক্তিপন দাবী করে । জনির পরিবারের সমর্থ্য না থাকায় ৪ মাস পরে মালেশিয়া অন্য চক্রের কাছে পাঠিয়ে দেয় তাকে। সেখানে দু'মাস রেখে নির্যাতন করার পর গুরুতর অসুস্থ হলে এক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সামনে ফেলে রেখে যায় মানবপাচার চক্রটি।
অবশেষে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহযোগিতা ও এলাকার কয়েকজনের আর্থিক সহায়তায় গত ৫ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরেছেন জনি। তবে দীর্ঘদিনের নির্যাতনের ক্ষত নিয়ে বর্তমানে চরম অসুস্থতা ও আর্থিক সংকটে দিন কাটছে তার।
জনির পিতা ফোরকান খান বলেন, কাজ দেওয়ার কথা বলে প্রথমে তাকে টেকনাফে নেওয়া হয়। সেখানে একটি দালালচক্রের হাতে তুলে দেওয়ার পর মাছ ধরার নৌকায় করে জোরপূর্বক থাইল্যান্ডে পাচার করা হয়। সেখানে পরিবারের কাছে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং টাকা দিতে না পারায় তার ওপর নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ।
প্রায় চার মাস পর তাকে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানেও নির্যাতনের শিকার হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে পেনাং রাজ্যের বুকিত মেরতাজাম এলাকায় তাকে উদ্ধার করা হয়। বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে প্রয়োজনীয় ট্রাভেল পাসের ব্যবস্থা করে তাকে দেশে ফেরানো হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জনিকে বাংলাদেশ থেকে টেকনাফ হয়ে থাইল্যান্ড এবং পরে মালয়েশিয়ায় পাচারের ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকতে পারে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে মানবপাচারকারীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মানবপাচারের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশে ফিরেছেন জনি; এখন প্রয়োজন তার উন্নত চিকিৎসা। এ বিষয়ে কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিন্নাতুল ইসলাম বলেন,জনির পরিবার চিকিৎসা সহায়তার আবেদন করলে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হবে।