মোঃ শিহাবুর রহমান সরকার, পীরগঞ্জ রংপুর : রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় করতোয়া নদীতে বিরতিহীনভাবে দিবারাত্র বালু উত্তোলন করায় হুমকির মুখে পড়েছে কৃষি জমি, বাড়িঘর ও এলাকার রাস্তাঘাট। অবৈধভাবে এ সব স্থান থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে গ্রামীণ কাঁচা-পাকা সড়কগুলোর ব্যাপক ক্ষতিসাধন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। অত্র উপজেলার করতোয়া নদীর বুকে প্রায় অর্ধশতাধিক স্থান থেকে শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন দিয়ে দিন রাত বালু উত্তোলনের কাজ চলছে। করতোয়া নদীতে বিভিন্ন পয়েন্টে মেশিন বসিয়ে নির্বিঘ্নে বালু উত্তোলন করছেন স্থানীয় একটি সংঘবদ্ধ বালু ব্যবসায়ীরা।
এছাড়া ও আখিরা, নলেয়া ও সান নদীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রত্যন্ত প্রত গ্রামগুলোতে পুকুরে শক্তিশালী ড্রেজার মেশিনের সাহায্যে বালু উত্তোলন চলছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে ওই সব এলাকার রাস্তা-ঘাট, ঘর-বাড়ি ও কৃষি জমি। জানা গেছে, করতোয়া নদীর কোল ঘেঁষা ইউনিয়নসমূহ টুকুরিয়া, বড় আলমপুর, চতরা, চৈত্রকোল ও কাবিলপুর ইউনিয়নের বিশটি স্থানে ব্যাপকহারে বালু উত্তোলন ও বিক্রী করে যাচ্ছেন বালু ব্যবসায়ীরা। টুকুরিয়া ইউনিয়নের পার-বোয়ালমারী গ্রামের আমিনুল ইসলাম ও তার ভাই। আনোয়ার হোসেন এবং পার্শ্ববর্তী মনোয়ার হোসেনের একটি সহ মোট তিনটি-পয়েন্টে দিন-রাত বালু উত্তোলন করা হয়। ওয়াজে মিয়া সেতু সংলগ্ন উজানে একটি পয়েন্টে সাজেদুল ইসলাম দিন-রাত বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন। বড় আলমপুর ইউনিয়নের শিমুলবাড়ী গ্রামে আরিফুল ইসলাম ও ফুল মিয়া, বানুর ঘাটে বিপ্লব মিয়াসহ কয়েকজন, হোসেনপুর গ্রামে নাজমুল ইসলাম, বাঁশপুকুরিয়ার জাহিদ মিয়া, দক্ষিণ শালপাড়ার মোসাদ্দেকুল, শহীদুল, মাহাবুবার রহমান, আনিছার রহমান নির্বিঘ্নে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করছেন। চতরা ইউনিয়নের গিলাবাড়ি গ্রামের মনারুল ইসলাম পৃথক পয়েন্টে বালু উত্তোলন করছেন বলে জানা গেছে। রাস্তা-ঘাটের ব্যাপক ক্ষতির কারণে টুকুরিয়া এবং চতরা ইউনিয়নের বালুর পয়েন্টের রাস্তা দিয়ে মোটর সাইকেল, বাইসাইকেল, রিক্সা-ভ্যান চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এতে করে পথচারীরাও দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
লোক দেখানো দুই-একটি পয়েন্টে জরিমানা করা হলেও বাকি সব পয়েন্টে দেদারছে বালু উত্তোলন ও বিক্রি চলছে। এ টুকুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আতোয়ার রহমান বলেন, বালু পরিবহনের ফলে রাস্তাগুলোর বেহাল অবস্থা। এছাড়া ধুলোবালি উড়ে গিয়ে এলাকার বাড়িঘরগুলো ধুলোয় আচ্ছন্ন হয়ে থাকে। যে কারনে জনজীবন অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। ধুলোবালির কারণে ওই সকল এলাকায় শ্বাসকষ্টজনিত নানা রোগের প্রকোপ বাড়ছে বলেও তিনি জানান। পীরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা যায়, করতোয়া নদীতে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন সরকারিভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে আমাদের নিকট কোনো অভিযোগ এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়াও ড্রেজার মেশিন ব্যবহারকারী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে।