উত্তর ইথিওপিয়ার তাইগ্রে অঞ্চলে সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহীদের সংঘর্ষের জেরে রাতভর বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণে প্রাণ হারিয়েছেন ১৭ জন। কেন্দ্রীয় সরকার ও তাইগ্রের বিদ্রোহী বাহিনীর মধ্যে সোমবার (৫ অক্টোবর) আচমকা শুরু হওয়া এ সংঘর্ষ বড় সংকট ডেকে এনেছে। ২০২০-২০২২ সালের রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের পর অঞ্চলটিতে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা, যা শিং আফ্রিকায় (হর্ন অব আফ্রিকা) বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের শঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। ইথিওপিয়ার অভিযোগ, সুদান ও মিশর বিদ্রোহীদের মদদ দিচ্ছে ইরিত্রিয়া; যদিও দেশগুলো তা নাকচ করেছে। এ উত্তেজনার জেরে গত সপ্তাহে ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়া পরস্পরের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।
সংঘাত ঠেকাতে মিশর, ইরিত্রিয়া, সুদান ও সোমালিয়ার নেতারা বৈঠকে বসে সীমান্ত অঞ্চলে যৌথ সামরিক ও গোয়েন্দা সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্যদিকে সহিংসতা এড়াতে আসমারা (ইরিত্রিয়া) ও আদ্দিস আবাবাকে (ইথিওপিয়া) সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়ার মধ্যে শান্তি চুক্তি হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা ভেঙে পড়েছে। সমুদ্রপথে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে মরিয়া ইথিওপিয়া; ইরিত্রিয়ার আশঙ্কা, আদ্দিস আবাবা হয়তো জোর করে আসাব বন্দর দখলে নিতে পারে। তবে ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের দাবি, শান্তিপূর্ণ আলোচনা ও উপায়েই তাঁরা সমুদ্রসংযোগ চান।