​রামেবির ভিসিকে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ

আপলোড সময় : ০৭-১০-২০২৬ , আপডেট সময় : ০৭-১০-২০২৬

মোস্তাফিজুর রহমান লিটন, রাজশাহী : চাপের মুখে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাওয়াদুল হক পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে পদত্যাগ করেছেন তাঁর একান্ত সহকারী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার নাজমুল হোসেন। তবে উপাচার্যের দাবি, তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেননি; একটি পদত্যাগপত্রে তাঁকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করানো হয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে একদল বহিরাগত রামেবি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে উপাচার্য ও তাঁর একান্ত সহকারীকে অবরুদ্ধ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাঁদের দুজনের পদত্যাগের ঘটনা ঘটে।

উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাওয়াদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘জোরপূর্বক একটি পদত্যাগপত্রে আমার স্বাক্ষর আদায় করা হয়েছে। আমাকে অফিস থেকে বের করে দিয়ে কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়েছি।’

অবরুদ্ধ করার ঘটনায় কারা জড়িত—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ঠিকাদারদের কিছু লোক, যারা কাজের জন্য চাপ সৃষ্টি করছিল, তারা মব সৃষ্টি করে এসব করেছে।’

অন্যদিকে উপাচার্যের একান্ত সহকারী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার নাজমুল হোসেনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এ অভিযোগ করেন।

‘আপামর ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে মবের অভিযোগ

ঘটনার পর রামেবিতে ‘আপামর ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে মব সৃষ্টি করে উপাচার্য ও এক কর্মকর্তাকে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক ও সাবেক ছাত্রনেতা শরিফুল ইসলাম জনি।

মঙ্গলবার সকালে ঘটনার খবর পেয়ে রামেবি ক্যাম্পাসে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। শরিফুল ইসলাম জনি বলেন, ‘ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমি এখানে উপস্থিত হয়েছি। একটি ব্যানার দেখলাম—আপামর ছাত্র-জনতা। কিন্তু এখানে যারা ছিলেন, তাদের কাউকে ছাত্র বলে মনে হয়নি। তারা যুবদলেরও কেউ নন।’

তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জোর করে কাউকে পদত্যাগে বাধ্য করার এখতিয়ার নেই। উপাচার্য থাকবেন কি না কিংবা পদত্যাগ করবেন কি না—এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে।

রামেবির উপাচার্যকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সেকশন অফিসারকে চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করার ঘটনাকে পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টির অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করে জনি বলেন, ‘আপামর ছাত্র-জনতার ব্যানারে পরিকল্পিতভাবে মব ক্রিয়েট করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

কোনো প্রতিষ্ঠানে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অভিযোগের তদন্ত করে প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কাউকে দলবদ্ধভাবে ঘেরাও বা চাপ প্রয়োগ করে পদত্যাগে বাধ্য করা গ্রহণযোগ্য নয়।

রামেবির ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো পক্ষ যাতে পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ না পায়, সে জন্য সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি

এদিকে বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় রামেবি ক্যাম্পাসে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার নাজমুল হোসেন বলেন, ‘আপামর ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে মব সৃষ্টি করে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাওয়াদুল হক ও তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করার ঘটনায় একজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

তিনি বলেন, ‘রামেবির উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাওয়াদুল হককে অপমান, অপদস্থ ও লাঞ্ছিত করা, প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া এবং অবৈধভাবে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর প্রতিবাদে এ মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।’

একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধরের অভিযোগেরও বিচার দাবি করেন তিনি।

নাজমুল হোসেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, অতিসত্বর মব সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সরকারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

ক্যাম্পাসে উত্তেজনা
উপাচার্য ও একজন কর্মকর্তাকে ঘিরে মঙ্গলবারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রামেবিতে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। একদিকে উপাচার্য ও কর্মকর্তাকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগের প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে, অন্যদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা চাপ প্রয়োগের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।

ঘটনার প্রকৃত কারণ, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং উপাচার্যের পদত্যাগের বিষয়টি স্বেচ্ছায় হয়েছে নাকি চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্পাদকীয় :

 সম্পাদক ও প্রকাশক : এসএম শহীদ উল্লাহ, নির্বাহী সম্পাদক : শারমিন সুলতানা, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এসকে তমিজ উদ্দিন

অফিস : ১৯৩/১ (৩য় তলা) মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল : 01753492430, ই-মেইল : ajkerawaz73@gmail.com

অফিস :