হরমুজ প্রণালির ‘অবৈধ’ নৌপথ বন্ধের হুমকি দিল তেহরান

আপলোড সময় : ০৮-১০-২০২৬ , আপডেট সময় : ০৮-১০-২০২৬ ০৪:৩৩:৫২ অপরাহ্ন

কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে তথাকথিত ‘অবৈধ’ নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। ওয়াশিংটন দাবি করছে এই জলপথে ইরানের প্রভাব আর নেই, তবে তেহরান স্পষ্ট করে বলেছে, গোটা প্রণালির ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ অটুট রয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই জ্বালানি পরিবহন রুট দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ পরিবহন করা হয়। কিন্তু চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রণালিটিতে চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়, ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সাম্প্রতিক যুদ্ধের আগে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭২ ডলার, যা বেড়ে প্রায় ১০১ ডলারে পৌঁছেছে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) জ্যেষ্ঠ কমান্ডার ও দেশটির সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মোহাম্মদ রেজা নকদি এক বক্তব্যে বলেন, ওমান উপকূলঘেঁষা প্রণালির কয়েকটি পথ অচিরেই সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে।

নকদির ব্যাখ্যা, পাথুরে পথ ভেঙে ও ক্ষতিগ্রস্ত করে এসব কৃত্রিম পথ বানানো হয়েছে। খুব ছোট নৌকায় তেল চোরাচালান করে বড় ট্যাংকারে পৌঁছে দিতে এগুলো ব্যবহৃত হচ্ছিল। এ কর্মকাণ্ডকে সরাসরি ‘চোরাচালান’ বলে অভিহিত করে তিনি যুক্তি দেন, এত অল্প পরিমাণ পরিবহন কোনোভাবেই প্রমাণ করে না যে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌচলাচল ফিরেছে।

আইআরজিসির এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ এবং এর ওপর ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তিনি আরও জানান, তেহরানের ‘ন্যায্য ও বৈধ দাবিগুলো’ সম্পূর্ণ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এসব কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ বজায় থাকবে। প্রসঙ্গত, ওয়াশিংটন সামরিক চাপ কমালে এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করলেই কেবল প্রণালিটি আবার খুলে দেওয়া হবে—এমন প্রস্তাব এর আগে দিয়েছিল ইরান।

অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মূল্যায়ন সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি দাবি করেছেন, কৌশলগত এই জলপথ এখন পুরোপুরি ‘উন্মুক্ত’ এবং হরমুজ প্রণালির ওপর ইরান সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে।

এক সংবাদ সম্মেলনে রুবিও বলেন, সংঘাত শুরুর আগে ওই পথ দিয়ে যে পরিমাণ তেল প্রবাহিত হতো, বর্তমানে প্রায় সেই পরিমাণ তেলই বের হচ্ছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচলে তাঁদের সেনাবাহিনী সরাসরি সহযোগিতা করছে এবং এর ফলে দৈনিক তেল সরবরাহ ২০ মিলিয়ন ব্যারেল অতিক্রম করেছে। বৈশ্বিক ডিজেল সংকটের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতকে দায়ী না করে তিনি মূলত রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলাকেই দায়ী করেন এবং এ ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রতি আহ্বান জানান।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও কেপলারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক অপরিশোধিত তেল রপ্তানি অনেকাংশে পুনরুদ্ধার হয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাত দিনের গড় হিসাবে দৈনিক ১৮.৩ মিলিয়ন ব্যারেল তেল চালানের তথ্য মিলেছে, যার মধ্যে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথে পাঠানো তেলও অন্তর্ভুক্ত।

সূত্র: আরটি

সম্পাদকীয় :

 সম্পাদক ও প্রকাশক : এসএম শহীদ উল্লাহ, নির্বাহী সম্পাদক : শারমিন সুলতানা, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এসকে তমিজ উদ্দিন

অফিস : ১৯৩/১ (৩য় তলা) মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল : 01753492430, ই-মেইল : ajkerawaz73@gmail.com

অফিস :