বিলিয়ন ডলারের শিশুপণ্যের বাজার তবুও বঞ্চিত লাখো শিশু

আপলোড সময় : ১০-১০-২০২৬ , আপডেট সময় : ১০-১০-২০২৬ ০৪:০৯:১৫ অপরাহ্ন

‘আপনার বাচ্চা খেললে আমার বাচ্চা খেতে পারবে’—ট্রেনের ভেতর খেলনা বিক্রি করতে থাকা এক ব্যক্তির এই আকুতি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। কয়েকটি শব্দের এই বক্তব্য বাংলাদেশের শিশুদের দুই বিপরীত বাস্তবতা তুলে ধরে। একদিকে শিশুদের আনন্দ ও পরিচর্যার জন্য খাবার, ডায়াপার, খেলনা ও নানা পণ্যের বাজার বড় হচ্ছে, অন্যদিকে একই দেশের লাখো শিশু খাবার, শিক্ষা, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক শৈশব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শিশুকে ঘিরে যখন হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য বাড়ছে, তখন অনেক পরিবারের কাছে সন্তানের জন্য পর্যাপ্ত খাবার জোগাড় করাই বড় চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশে শিশুদের কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বড় ভোক্তা-বাজার। শিশুখাদ্য, ফর্মুলা মিল্ক, সিরিয়াল, ডায়াপার, বেবি ওয়াইপস, ত্বক ও চুলের যত্নের সামগ্রী থেকে শুরু করে খেলনা—সব ধরনের পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। নগরায়ণ, পরিবারের জীবনযাত্রার পরিবর্তন, কর্মজীবী বাবা-মায়ের সময়ের সংকট এবং শিশুর পুষ্টি ও পরিচর্যা নিয়ে সচেতনতা এই বাজার সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখছে।

আন্তর্জাতিক বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউরোমনিটরের ২০২৬ সালের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের শিশুখাদ্যের বাজারের প্রায় ৫৮ শতাংশ নেসলে বাংলাদেশের দখলে। পরবর্তী বড় প্রতিষ্ঠান বেবি নিউট্রিশন লিমিটেডের বাজার হিস্যা প্রায় ৮ শতাংশ। তবে মূল্যস্ফীতি ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ থাকায় বাজারের পরিমাণগত প্রবৃদ্ধি সীমিত হচ্ছে। আগামী বছরগুলোতে মিল্ক ফর্মুলা এই বাজারের অন্যতম বড় ও দ্রুত বর্ধনশীল পণ্যশ্রেণি হয়ে উঠতে পারে। শিশুখাদ্যের বাজারে ফর্মুলা মিল্ক, শিশুর জন্য তৈরি সিরিয়াল, শুকনো খাবার ও প্রস্তুত খাবারসহ নানা পণ্য রয়েছে। বয়স ও প্রয়োজন অনুযায়ী এসব পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ছে। তবে বাজারে পণ্য সহজলভ্য হওয়া আর সব পরিবারের পক্ষে তা কেনার সামর্থ্য থাকা এক বিষয় নয়। এক পরিবারের কাছে শিশুর খাবারের ব্র্যান্ড ও পুষ্টিগুণ বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, অন্য পরিবারের কাছে প্রশ্ন হলো—সন্তানকে আজ পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া সম্ভব হবে কি না।

ডায়াপার, বেবি কেয়ার ও খেলনার বাজারও বড় হচ্ছে: শিশুখাদ্যের পাশাপাশি ডায়াপার, বেবি ওয়াইপস, সাবান, শ্যাম্পু ও ত্বকের যত্নের পণ্যের বাজারও সম্প্রসারিত হচ্ছে। ইউরোমনিটরের ২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের বেবি ও চাইল্ড কেয়ার পণ্যের বাজারে স্কয়ার টয়লেট্রিজের খুচরা বিক্রয়মূল্যের হিস্যা ছিল ৪১ শতাংশ। লায়ন করপোরেশনের ২৫ শতাংশ, জনসন অ্যান্ড জনসনের ১৯ শতাংশ এবং ম্যারিকোর ১০ শতাংশ বাজার হিস্যা ছিল। নতুন ব্র্যান্ডের প্রবেশও এই খাতে প্রতিযোগিতা বাড়াচ্ছে। খেলনার বাজারও দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছে। সরকারি রপ্তানি উন্নয়নসংক্রান্ত প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের খেলনার বাজারের মূল্য প্রায় এক বিলিয়ন ডলার। দেশে প্রায় ১০০টি স্থানীয় উৎপাদক এক হাজারের বেশি ধরনের খেলনা তৈরি করছে। স্থানীয় উৎপাদকরা দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ চাহিদা পূরণ করছে। ফলে খেলনা উৎপাদন এখন শুধু শিশুদের বিনোদনের বিষয় নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দেশীয় শিল্প, কর্মসংস্থান ও রপ্তানির সম্ভাবনা।

তবে শিশুপণ্যের বাজার যত বড় হচ্ছে, তত বেশি স্পষ্ট হচ্ছে ক্রয়ক্ষমতার বৈষম্য। বাজারের বিক্রির হিসাব মূলত তাদের ব্যয়ের প্রতিফলন ঘটায়, যারা এসব পণ্য কিনতে পারে। যেসব শিশু ও পরিবার প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার সামর্থ্য রাখে না, তাদের বাস্তবতা বাজারের প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যানে যথাযথভাবে উঠে আসে না।

খাদ্য দারিদ্র্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ শিশু: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউনিসেফের বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস) ২০২৫ অনুযায়ী, ৬ থেকে ২৩ মাস বয়সী শিশুদের ৬৪ দশমিক ৮ শতাংশ খাদ্য দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে ২১ দশমিক ১ শতাংশ গুরুতর এবং ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ মাঝারি মাত্রার খাদ্য দারিদ্র্যে ভুগছে। অর্থাৎ এই বয়সী শিশুদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আগের দিন ন্যূনতম প্রয়োজনীয় খাদ্যগোষ্ঠীর বৈচিত্র্য পায়নি।

জরিপে দেখা যায়, গ্রামাঞ্চলে শিশুদের খাদ্য দারিদ্র্যের হার ৬৭ দশমিক ৪ শতাংশ, শহরে ৫৮ দশমিক ৪ শতাংশ। সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের মধ্যে এই হার ৭৬ দশমিক ৭ শতাংশ। বিপরীতে সবচেয়ে ধনী পরিবারের শিশুদের মধ্যে হার ৫২ দশমিক ৫ শতাংশ। এসব তথ্য শিশুদের খাদ্যপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে পরিবারভিত্তিক অর্থনৈতিক বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে।

খাদ্য দারিদ্র্য মানেই শিশুর একেবারেই খাবার না পাওয়া নয়। অনেক ক্ষেত্রে শিশু খাবার পেলেও বয়স অনুযায়ী প্রয়োজনীয় খাদ্যগোষ্ঠীর বৈচিত্র্য পায় না। দীর্ঘদিন প্রয়োজনীয় পুষ্টি না পেলে তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ফলে বাজারে শিশুর জন্য নানা ধরনের পুষ্টিকর খাবার থাকলেও দরিদ্র পরিবারের শিশু সেগুলোর নাগাল না পেলে বাজারের সম্প্রসারণ তার জীবনে খুব বেশি পরিবর্তন আনতে পারে না।

অপুষ্টির প্রভাব পড়ছে শিশুদের স্বাস্থ্যে: এমআইসিএস ২০২৫ অনুযায়ী, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ২৪ শতাংশ খর্বতার শিকার, ১২ দশমিক ৯ শতাংশ অপুষ্টিজনিত ওজনহ্রাসে এবং ২৩ শতাংশ কম ওজনের সমস্যায় রয়েছে। এ ছাড়া ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ৪৩ দশমিক ৯ শতাংশ রক্তস্বল্পতায় ভুগছে এবং ৩৮ দশমিক ৪ শতাংশ শিশুর রক্তে উচ্চমাত্রার সীসা পাওয়া গেছে। অপুষ্টির পেছনে শুধু খাবারের অভাব নয়, খাদ্যের বৈচিত্র্যের ঘাটতি, অসুস্থতা, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এবং বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনের অভাবও ভূমিকা রাখে। তাই শিশুর জন্য পুষ্টিকর খাবারের বাজার বাড়লেও সবার জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে পুষ্টিহীনতার চিত্র এখনো উদ্বেগজনক। শিশুদের পুষ্টির ঘাটতি মোকাবিলায় খাদ্য সমৃদ্ধকরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি জানান, চালের সঙ্গে ভিটামিন এ, বি-১ ও বি- ১২, ফলিক অ্যাসিড, আয়রন ও জিঙ্ক যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ভোজ্যতেলে ভিটামিন এ সমৃদ্ধকরণের মাধ্যমে নারী ও শিশুদের ভিটামিনের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করা সম্ভব।

দারিদ্র্যের প্রভাব শিক্ষা ও শিশুশ্রমেও: শিশুদের বঞ্চনা শুধু খাবার ও পুষ্টির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের প্রথম জাতীয় বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচক অনুযায়ী, ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ শিশু বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছে। এই দারিদ্র্যের সঙ্গে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পুষ্টি, বাসস্থান, জীবনযাপনের মান ও মৌলিক সেবার ঘাটতি জড়িত। এমআইসিএস ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের ৯ দশমিক ২ শতাংশ শিশুশ্রমে যুক্ত। ২০১৯ সালে এই হার ছিল ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের মধ্যে শিশুশ্রমের হার ১৪ শতাংশ, যেখানে সবচেয়ে ধনী পরিবারের ক্ষেত্রে তা ৩ শতাংশ। শিক্ষার ক্ষেত্রেও রয়েছে উদ্বেগজনক চিত্র। প্রাথমিক স্তরে সমন্বিত নিট উপস্থিতির হার ৮৫ শতাংশ হলেও নিম্নমাধ্যমিকে তা ৬০ দশমিক ১ শতাংশ এবং উচ্চমাধ্যমিকে ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ। উচ্চমাধ্যমিক বয়সী ৩৩ দশমিক ৯ শতাংশ শিশু স্কুলের বাইরে রয়েছে। একই জরিপে দেখা যায়, ৭ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের মাত্র ৫০ দশমিক ২ শতাংশের মৌলিক পড়ার দক্ষতা এবং ৩৯ দশমিক ২ শতাংশের মৌলিক গণনাদক্ষতা রয়েছে। পারিবারিক আয় কম হলে শিশুদের খাবার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় একসঙ্গে মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে শিশুকে পড়াশোনার বদলে কাজে যুক্ত হতে হয়। এতে তার শিক্ষা ও ভবিষ্যতে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সীমিত হয়ে আসতে পারে। জন্মনিবন্ধন ও নিরাপদ আশ্রয় থেকেও বঞ্চিত শিশুরা: শিশুর অধিকার নিশ্চিত করার অন্যতম প্রাথমিক ধাপ জন্মনিবন্ধন। কিন্তু এমআইসিএস ২০২৫ অনুযায়ী, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মাত্র ৫৯ দশমিক ২ শতাংশের জন্মনিবন্ধন হয়েছে। ২০১৯ সালে এই হার ছিল ৫৬ দশমিক ২ শতাংশ। অগ্রগতি হলেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু এখনো নিবন্ধনের বাইরে রয়েছে। জন্মনিবন্ধন না থাকলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষাসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে প্রান্তিক পরিবারের শিশুরা রাষ্ট্রীয় সেবাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে। শিশু বঞ্চনার আরেকটি দৃশ্যমান চিত্র রয়েছে রাস্তায় বসবাসকারী শিশুদের জীবনে। ইউনিসেফের ২০২৪ সালের ‘চিলড্রেন লিভিং ইন স্ট্রিট সিচুয়েশন্স ইন বাংলাদেশ’ গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে ৩৪ লাখের বেশি শিশু মা-বাবার যত্ন ছাড়া পথপরিস্থিতিতে রয়েছে। এসব শিশুর অনেকের জীবন কাটে অনিশ্চিত খাবার, অনিরাপদ ঘুম, স্বাস্থ্যঝুঁকি, শিক্ষা থেকে বিচ্ছিন্নতা এবং বিভিন্ন ধরনের শোষণের আশঙ্কার মধ্যে। রাস্তায় থাকা শিশুদের সমস্যা শুধু নিরাপদ বাসস্থানের অভাব নয়। তাদের জন্য নিয়মিত খাবার, চিকিৎসা, শিক্ষার সুযোগ, পরিচয়পত্র ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করাও জরুরি। এসব সেবার সঙ্গে সংযোগ দুর্বল হলে তাদের বঞ্চনা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

শিশুর অধিকার নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ: শিশুকে ঘিরে দেশের বাজার আরও বড় হতে পারে। নতুন পণ্য আসবে, স্থানীয় উৎপাদন বাড়বে এবং দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়বে। কিন্তু বাজারের প্রবৃদ্ধি মানেই সব শিশুর জীবনমানের উন্নতি নয়। কারণ বাজারের পণ্য কেনার সামর্থ্য নির্ভর করে পরিবারের আয়ের ওপর, অথচ শিশুর প্রয়োজন শুধু ভোগ্যপণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার প্রয়োজন পর্যাপ্ত পুষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ বাসস্থান, পরিচয় ও সুরক্ষা।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, শিশুদের অধিকার রক্ষায় নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। বর্তমান সরকার শিশুবান্ধব উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিশুদের মতামত ও অধিকারকে প্রাধান্য দিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রমে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। নারী ও শিশুর সার্বিক সুরক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বানও জানান তিনি।

বাংলাদেশে শিশুপণ্যের বাজারের বিস্তার তাই একই সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও সামাজিক বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে। এক পরিবারের শিশুর জন্য খাবারের ব্র্যান্ড, ডায়াপার কিংবা খেলনা বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে; অন্য পরিবারের শিশুর জন্য প্রতিদিন পর্যাপ্ত খাবার পাওয়া, স্কুলে যাওয়া কিংবা নিরাপদ জায়গায় ঘুমানোই বড় বিষয়।

শিশুদের ঘিরে বাণিজ্য তখনই সামগ্রিক কল্যাণে ভূমিকা রাখবে, যখন পুষ্টিকর খাবার শুধু দোকানের তাকে সীমাবদ্ধ থাকবে না, দরিদ্র পরিবারের শিশুর প্লেটেও পৌঁছাবে; শিক্ষার সুযোগ সবার জন্য নিশ্চিত হবে; জন্মের পর প্রতিটি শিশু নিবন্ধনের আওতায় আসবে এবং কোনো শিশুকে পারিবারিক সংকটের কারণে রাস্তায় বা কর্মস্থলে ঠেলে দেওয়া হবে না। বিলিয়ন ডলারের বাজারের পাশাপাশি শিশুদের জীবনযাত্রার মান ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার অগ্রগতিও তাই সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সম্পাদকীয় :

 সম্পাদক ও প্রকাশক : এসএম শহীদ উল্লাহ, নির্বাহী সম্পাদক : শারমিন সুলতানা, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এসকে তমিজ উদ্দিন

অফিস : ১৯৩/১ (৩য় তলা) মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল : 01753492430, ই-মেইল : ajkerawaz73@gmail.com

অফিস :