মাসুদ রানা, ময়মনসিংহ ব্যুরো : নারী নির্যাতনের চেষ্টার প্রতিবাদ করায় ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মোঃ আসাদুজ্জামান নূর সাদ্দাম হোসেনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর মা ও স্ত্রী। এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী। রোববার সকালে ময়মনসিংহ নগরীর ফিরোজ-জাহাঙ্গীর চত্বরে এ কর্মসূচিতে শতাধিক মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে নিহতের স্ত্রী পুষ্প কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি এবং আমার ছেলের সামনেই তারা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। আমার সন্তানকে তারা এতিম করেছে, আমাকে বিধবা করেছে। আমি তাদের ফাঁসি চাই।” নিহতের মা আছমার অভিযোগ, এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টার প্রতিবাদ করায় ষড়যন্ত্র করে তাঁর ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।
নি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।নিহতের ভাই প্রান্তও এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। ভাইকে হারিয়ে তাঁদের পরিবার অসহায় হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন। নিহত সাদ্দাম হোসেন নগরীর আকুয়া ভাঙ্গাপুল এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। নিহতের মা আছমার দায়ের করা এজাহারে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন মোঃ অন্তর মিয়া (২৫), বিল্লাল হোসেন (৫০), নূরনাহার (৩০), রাব্বি হোসেন (৩২) ও রাফেল (৩৮)।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৬ অক্টোবর দুপুরে নগরীর আকুয়া উত্তরপাড়ায় একটি বাসার দ্বিতীয় তলায় সাদ্দামকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।ঘটনার পর অন্তর মিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। এ বিষয়ে জানতে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপারের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।