ইরানে হামলা নিয়ে ট্রাম্পের সংশয়: ‘হয়তো বেশি দূর গেছি’

আপলোড সময় : ১৩-১০-২০২৬ , আপডেট সময় : ১৩-১০-২০২৬

ইরানের শীর্ষ নেতাদের ওপর চালানো মার্কিন সামরিক হামলার পরিণতি নিয়ে নিজেই সংশয় প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মতে, এসব হামলায় যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত সীমা ছাড়িয়ে গেছে; আর সে কারণে আলোচনার জন্য ইরানের কোন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা দরকার, তা নির্ধারণ করাই এখন কঠিন।

স্থানীয় সময় সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে এক নির্বাচনী সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় ট্রাম্প এ কথা বলেন। ইরানি নেতৃত্বকে লক্ষ্য বানাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার কথায়, এখন কার সঙ্গে কথা বলতে হবে, সেটিই বুঝে ওঠা কঠিন হয়ে পড়েছে।

আলোচনার জন্য কাকে বেছে নেওয়া হবে, সেটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বেশ জটিল একটি প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও জানান ট্রাম্প। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার মনে হচ্ছে, যতটুকু দরকার ছিল, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো তার চেয়ে বেশি এগিয়ে গেছে।

এদিকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাক্কালে অর্থনৈতিক নীতি ও ইরান যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে চাপে পড়েছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকির মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে বড় এক রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে নিজ দলের শক্ত ঘাঁটিগুলোতেও ভোটের প্রচারে সক্রিয় হয়েছেন তিনি।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার লড়াই ক্রমশ জমে উঠছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানরা। জাতীয় পর্যায়ে এমারসন কলেজের করা সর্বশেষ জরিপের তথ্য বলছে, রিপাবলিকানদের ৪২ শতাংশের বিপরীতে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ৫৩ শতাংশ।

ওই জরিপে ট্রাম্পের কাজকর্মে জনসন্তুষ্টির হারও তুলনামূলক কম দেখা গেছে। ৫৮ শতাংশ মার্কিন নাগরিক তার কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট, আর সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন মাত্র ৩৯ শতাংশ। ভোটারদের একটি অংশ অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, শুল্কনীতি ও ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তুষ্ট, যা রিপাবলিকানদের ভোটের অঙ্ককে আরও কঠিন করে দিয়েছে। টেক্সাস ও ওহাইওর মতো দলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত অঙ্গরাজ্যেও প্রার্থীদের কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

এমন প্রেক্ষাপটে নিজের নির্বাচনী প্রচারণা আরও জোরালো করেছেন ট্রাম্প। রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেডের সমর্থনে ওহাইওতে প্রচার চালাচ্ছেন তিনি। এ ছাড়া আলাস্কাসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে দলীয় প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছেন রিপাবলিকান নেতারা।

আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ভোটাররা মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবগুলোতে এবং সিনেটের ৩৫টি আসনে প্রতিনিধি বেছে নেবেন। সঙ্গে থাকছে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ও স্থানীয় আইনসভার হাজারো পদের নির্বাচন। কংগ্রেসের দুই কক্ষ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর পদে ভোট হবে; পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনসভার ৬ হাজার ১৩৯টি আসনেও অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেমোক্র্যাটরা যদি প্রতিনিধি পরিষদে মাত্র চারটি এবং সিনেটে চারটি আসন জিতে নিতে পারে, তাহলে কংগ্রেসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে রিপাবলিকানরা।

 
 
 
 
 
 

সম্পাদকীয় :

 সম্পাদক ও প্রকাশক : এসএম শহীদ উল্লাহ, নির্বাহী সম্পাদক : শারমিন সুলতানা, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এসকে তমিজ উদ্দিন

অফিস : ১৯৩/১ (৩য় তলা) মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল : 01753492430, ই-মেইল : ajkerawaz73@gmail.com

অফিস :