বিদেশি ফলের চড়া বাজারে বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা। অধিকাংশ বিদেশি ফল কিনতে কেজিতে গুনতে হচ্ছে ৪০০ টাকার বেশি। বড় আপেল, বেদানা, আঙুর, কমলা ও মাল্টা বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি শুল্কের উচ্চহার, পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা, ডলারের দাম এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ফলের দাম বাড়ছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর ১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া ও আগারগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকার ফলের দোকান ঘুরে দেখা যায়, বিদেশি ফলের দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। তুলনামূলক ছোট আকারের আপেল ছাড়া ৪০০ টাকার নিচে অধিকাংশ বিদেশি ফল পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান বিক্রেতারা।
বাজারে লাল আপেল প্রতিকেজি ৩০০ থেকে ৩৮০ টাকা, সবুজ আপেল ৩২০ থেকে ৪০০ টাকা, কমলা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং মাল্টা ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সবুজ আঙুরের কেজি ৩৬০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং লাল আঙুর ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা। অন্যদিকে, বেদানা প্রতিকেজি ৪৫০ থেকে ৫২০ টাকা এবং নাশপাতি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলের জাত, আকার ও মানভেদে দামে পার্থক্য রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিদেশি ফল আমদানির ক্ষেত্রে উচ্চহারে শুল্ক-কর দিতে হয়। এর সঙ্গে পণ্য খালাসে দেরি, বন্দরে জটিলতা, ডলারের বিনিময়মূল্য এবং পরিবহন ব্যয় যুক্ত হয়ে খরচ বাড়ছে। আমদানিকারকদের কাছ থেকে বেশি দামে ফল কিনতে হওয়ায় খুচরা পর্যায়েও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে আমদানি থেকে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে খরচ ও মুনাফার হিসাব প্রকাশ্যে না থাকায় কোন পর্যায়ে কতটা দাম বাড়ছে, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন।
ব্যবসায়ীরা আরও বলছেন, অল্পসংখ্যক আমদানিকারকের হাতে বিদেশি ফলের বড় অংশের সরবরাহ থাকায় বাজারে প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। আমদানি ও সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হলে বাজারে সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যদিও এ অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি, তাই বাজারে আমদানিকারকদের ভূমিকা, সরবরাহের পরিমাণ এবং পাইকারি ও খুচরা দামের ব্যবধান যাচাই করা প্রয়োজন।