বাংলাদেশে সরাসরি কার্যক্রম শুরু করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে অর্থায়নের সুযোগ কাজে লাগাতে পারে চীনা ব্যাংকগুলো। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হলেও বাংলাদেশে এখনো কোনো চীনা ব্যাংক সরাসরি কার্যক্রম পরিচালনা করছে না। এ পরিস্থিতিতে চীনা ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের আর্থিক সংযোগ জোরদারের সম্ভাবনা তুলে ধরেছে এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব চায়না (চায়না এক্সিম ব্যাংক) ও ইনভেস্ট বাংলাদেশ।
এ লক্ষ্যে সোমবার (১৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতে বেইজিংয়ে চায়না এক্সিম ব্যাংকের সদর দপ্তরে ‘বাংলাদেশ ডে’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে চীনের ১১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন খাতের ২৬টি কোম্পানি অংশ নেয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে আর্থিক সংযোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইনভেস্ট বাংলাদেশের যৌথ উপস্থাপনায় জানানো হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অথচ বাংলাদেশের সঙ্গে কাছাকাছি বা এর চেয়ে কম বাণিজ্য থাকা কম্বোডিয়া, শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমারের মতো দেশেও চীনা ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাংলাদেশে চীনা ব্যাংকের উপস্থিতি বাড়লে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের অর্থায়ন আরও সহজ হতে পারে বলে অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অব চায়না, এগ্রিকালচারাল ব্যাংক অব চায়না ও ব্যাংক অব চায়না। সম্পদের হিসাবে বিশ্বের বৃহত্তম চারটি ব্যাংকের মধ্যে তিনটির প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন। এ ছাড়া অবকাঠামো ও প্রকৌশল, বিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, ইলেকট্রনিকস, শিল্পপ্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও কৃষিপ্রযুক্তি খাতের চীনা কোম্পানির প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। চায়না এক্সিম ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াং কাং এবং চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলামও বক্তব্য দেন।
বাংলাদেশের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিনিয়োগ খাতের পাশাপাশি চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) ও মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা হয়। এসব এলাকায় চীনা কোম্পানির বিনিয়োগ বাড়ানো এবং তাদের অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সম্পৃক্ত করার উপায় নিয়েও আলোচনা হয়।
আশিক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সহযোগিতার পরবর্তী ধাপ হলো আর্থিক সংযোগ স্থাপন। বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী চীনা কোম্পানিগুলোর বাণিজ্য অর্থায়ন, যন্ত্রপাতি কেনা, চলতি মূলধন এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য সহায়তা প্রয়োজন। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণই এ প্রয়োজনের বিষয়টি স্পষ্ট করে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের কোম্পানিগুলোর প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং ব্যবসা ও উৎপাদন সম্প্রসারণে সক্ষম অংশীদারত্ব প্রয়োজন।
বাংলাদেশে চীনা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উপস্থিতি বাড়লে উভয় পক্ষই উপকৃত হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নও সহজ হবে।
চায়না এক্সিম ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াং কাং বলেন, চীনের বৈদেশিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় সহায়তা দিতে ব্যাংকটি নীতিভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশে অবকাঠামো, জ্বালানি, কৃষি, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদনশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাংকটির প্রায় ৪০টি প্রকল্প রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বস্ত্র ও স্বাস্থ্যসেবার মতো অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে আরও বেশি শীর্ষস্থানীয় চীনা কোম্পানিকে সরাসরি বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে চায়না এক্সিম ব্যাংক। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের উৎপাদন ও সেবামুখী অর্থনীতির বিকাশে অর্থায়ন ধারাবাহিক ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।