সাদুল্লাপুরে জেমি’র হাত ধরে স্বাবলম্বী ১০০ নারী কর্মি

আপলোড সময় : ২২-১০-২০২৬ , আপডেট সময় : ২২-১০-২০২৬ ০২:৫৭:০৩ অপরাহ্ন

এসএসসি পাশ করে বিয়ে হয় ফাতেতুজ্জোহরা জেমির। স্বামীর ঘরে এসে ঘাতপ্রতিঘাত পেরিয়ে উচ্চশিক্ষার সনদ হাতে বহু চেষ্টার পরও মেলেনি সরকারি চাকরি। স্বামীর চেষ্টায় হতাশাগ্রস্থ সংকটময় সংসার জীবনে আল্লাহর রহমতে সরকারি চাকুরিকে পেছনে ফেলে নিজের ভাগ্য নিজে প্রচেষ্টায় গড়েছেন ‘পুরানলক্ষীপুর এমব্রয়ডারি পল্লী’। গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বাসিন্দা ফাতেমাতুজ্জোহরা জেমি (৩১)। নিজে উদ্যোক্তা হয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি তিনি গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্র বদলে দিয়েছেন। তার হাত ধরে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়ে আজ স্বাবলম্বী হয়েছেন প্রায় ১০০ জন নারী কর্মি । ?জেমির এই সফলতার গল্পটা সহজ ছিল না। স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর অনেক চাকুরির পরীক্ষা দিয়েও প্রত্যাশিত চাকরির সুযোগ না পেয়ে নিজেই কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমে মা-বাব ও শাশুড়ি, ননদ,জা’সহ আত্বীয়-স্বজনদের সহযোগিতায় হাতের কাজের হাতেখড়ি। তারপরে তিন বছর আগে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)র সাদুল্লাপুর উপজেলা কর্মকর্তার সাথে পরিচয়। তার মাধ্যমে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন গাইবান্ধা সমন্বিত পল্লী দারিদ্র দুরীকরণ প্রকল্পের এমব্রয়ডারি ট্রেডে প্রশিক্ষণ নেন। তারপরে প্রশিক্ষণ নিয়ে তার জীবনের পথচলা শুরু। আস্তে আস্তে ১০ কর্মি দিয়ে বিভিন্ন ডিজাইনের নকশিকাঁথা, জামা,শাড়ি, ওড়নাসহ কাজের পরিধি বাড়িয়ে বিআরডিবি থেকে ২০ হাজার টাকার ঋণকে পুঁজি করে শুরু করেন তার স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান পুরানলক্ষীপুর এমব্রয়ডারি পল্লী’। প্রাথমিকভাবে ছোট পরিসরে শুরু করলেও জেমির সততা ও গুণগত মানের কারণে ধীরে ধীরে বাড়ে কাজের পরিধি। গ্রামীন ঐতিহ্যর ছোঁয়ায় সুঁই-সুতার নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় এখন সেখানে তৈরি হচ্ছে—নকশিকাঁথা, আকর্ষণীয় থ্রি-পিস ও শাড়ি, বিছানার চাদর ও বালিশের কভার, টেবিল ম্যাট, পাপোশসহ নানা বৈচিত্র‍্যময় কারুশিল্প পণ্য। ওখান থেকে আবারো এসএমই ১ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে ?বর্তমানে জেমি নতুন ব্রান্ডডিং করার পরিকল্পনা নিয়ে গড়ে তোলেন “রায়তা পল্লী ক্রাফট” নামে প্রতিষ্ঠান। পুরানলক্ষীপুর এমব্রয়ডারি পল্লী’ কর্মিদের মাধ্যমে বিভিন্ন ডিজাইনের কাজ করে প্রতিদিন কাজ করছেন ১০০ জন নারী কর্মি । সুঁই-সুতার কারু কাজে কাপড়ের বুকে নানান রঙ্গের দৃশ্যায়ন ফুল,পাতা ও বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী নকশা ফুটিয়ে তুলছেন তারা। এতে করে ঘরের কাজের পাশাপাশি নারীরা পাচ্ছেন উপার্জনের বাড়তি আয় (টাকা)। ?কর্মীদের পাওনা পারিশ্রমিক সময়মতো পরিশোধ করার পরও জেমির প্রতি মাসে নিট লাভ থাকছে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা।জেমির পল্লীর ?সিরিনা বেগম (একজন নারী কর্মী) বলেন, “সংসারের দৈনন্দিন কাজকর্ম সামলে আগে অলস সময় পার করতাম। জেমি আপার এখানে কাজ শেখার পর এখন সুঁই-সুতার কাজ করে প্রতি মাসে নিজের হাতে কিছু টাকা পাই । সন্তানদের ছোট-খাটো আবদার মেটাতে বা সংসারের টুকিটাকি দরকারে এখন আর স্বামীর কাছে হাত পাততে হয় না।”। আরেক কর্মী সাথী খাতুন বলেন, “গ্রামে মেয়েদের জন্য কাজ পাওয়ার সুযোগ খুব কম। জেমি আপা আমাদের ডেকে এনে কাজ শিখিয়েছেন, আয়ের পথ দেখিয়েছেন। এখন আমরা শুধু নিজেরা স্বাবলম্বী নই, সংসারের অর্থনৈতিক গতি ফিরাতেও অবদান রাখছি। আমাদের সমাজে মূল্যায়নও এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি।” উদ্যোক্তা জেমি জানান,অদম্য আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে গড়ে তোলা আমার একটি উদ্যোগ আজ কেবল আমাকেই স্বাবলম্বী করেনি, বরং কাজের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছি এলাকার আরও ১০০ জন নারী কর্মির।

সম্পাদকীয় :

 সম্পাদক ও প্রকাশক : এসএম শহীদ উল্লাহ, নির্বাহী সম্পাদক : শারমিন সুলতানা, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এসকে তমিজ উদ্দিন

অফিস : ১৯৩/১ (৩য় তলা) মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল : 01753492430, ই-মেইল : ajkerawaz73@gmail.com

অফিস :