ফার্মগেটের ওভারব্রিজে একসময় ভাসমান দোকানপাটের কারণে হাঁটাচলা করাই ছিল দুষ্কর। মানুষের ভিড় আর হকারদের হাঁকডাক লেগেই থাকতো। সম্প্রতি সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ অভিযানের পর দোকানপাটের সংখ্যা কমেছে। তবে কমেনি দুর্গন্ধ, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা আর অপরিচ্ছন্নতায় ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারীরা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দীর্ঘসময় ওভারব্রিজে অবস্থান করে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ওভারব্রিজের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ময়লা-আবর্জনা। কোথাও খাবারের উচ্ছিষ্ট, কাগজ, প্লাস্টিক ও পলিথিন জমে আছে। আবার কোথাও জমে থাকা পানিতে সৃষ্টি হয়েছে নোংরা পরিবেশ। ব্রিজের ওপর চলাচলের জায়গা আগের তুলনায় ফাঁকা হলেও বিভিন্ন স্থানে বসে পণ্য বিক্রি করছেন ভাসমান ব্যবসায়ীরা। নিচের সড়কে চলছে বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন।
পথচারীদের অভিযোগ, চলাচলের জায়গা কিছুটা ফাঁকা হলেও পরিচ্ছন্নতার অভাব রয়ে গেছে। জমে থাকা ময়লা ও পানি থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধের কারণে ব্রিজ দিয়ে চলাচলের সময় অস্বস্তিতে পড়তে হয় তাদের। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ব্রিজের ওপর অবস্থান করা কঠিন হয়ে পড়ে। সাবিহা নামে এক নারী পথচারী বলেন, আগের মতো দোকানপাট ও ভিড় এখন আর চোখে পড়ে না। কিন্তু ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধ রয়ে গেছে। যাতায়াত করতে গিয়ে তাদের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। নিয়মিত পরিষ্কার করা হলে পরিবেশ আরও ভালো হতো।
একসময় ওভারব্রিজটিতে নানা ধরনের দোকানপাট বসত। তবে শুক্রবার সেখানে তেমন দোকান দেখা যায়নি। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত দোকানের সংখ্যা কিছুটা বাড়ে। ওভারব্রিজে ওঠার দুই সিঁড়ির মুখে আগের মতোই বসছে ভাসমান দোকান। এতে বিশেষ করে পশ্চিম পাশের সিঁড়ি দিয়ে ওঠার পথ সরু হয়ে গেছে। তিন্নি নামে এক নারী পথচারী বলেন, কয়েক দিন আগে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছিল। তারা সেটি দেখেছেন। কিন্তু আবারও হকাররা বসতে শুরু করেছেন। তাদের কারণে স্বাচ্ছন্দ্যে ওঠানামা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভাসমান ব্যবসায়ী বলেন, এখানে ব্যবসা করেই তাকে সংসার চালাতে হয়। প্রতিদিন সমান বিক্রি হয় না। কখনো ভালো বিক্রি হয়, আবার কখনো তেমন ক্রেতা পাওয়া যায় না। এমন একটি পরিবেশ চান তিনি, যেখানে বসে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন, আবার মানুষের চলাচলেও সমস্যা হবে না।