১৫ নভেম্বর থেকে কেনা যাবে ব্র‍্যাক ব্যাংকের গ্রিন বন্ড

আপলোড সময় : ২৭-১০-২০২৬ , আপডেট সময় : ২৭-১০-২০২৬ ০১:০৪:৫৮ অপরাহ্ন

দেশের প্রথম ব্যাংক হিসেবে এক হাজার কোটি টাকার গ্রিন বন্ড ইস্যু করতে যাচ্ছে ব্র‍্যাক ব্যাংক। তিন বছর মেয়াদি এ বন্ডের অভিহিত মূল্য ১০ লাখ টাকা। আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বন্ডটি কেনার সুযোগ পাবেন। পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য এ বন্ডের মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করবে ব্যাংকটি।

রোববার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গ্রিন বন্ড ইস্যুর ঘোষণা দেন ব্র‍্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক রেফাত উল্লাহ খান। এ সময় ব্যাংকটির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও হেড অব হোলসেল ব্যাংকিং মো. শাহীন ইকবাল, হেড অব স্ট্রাকচারাল ফাইন্যান্স তানভীর কামালসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন ব্যাংকটির চিফ কমিউনিকেশন অফিসার ইকরাম কবীর।

তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, গ্রিন বন্ডের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণ এবং শিল্পকারখানায় জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার বাড়ানোর মতো উদ্যোগে অর্থায়নে ব্যয় করা হবে।

বন্ডটির বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে মো. শাহীন ইকবাল জানান, এটি জামানতহীন, শেয়ারে রূপান্তরযোগ্য নয় এবং মেয়াদ শেষে সম্পূর্ণ পরিশোধযোগ্য একটি জিরো-কুপন বন্ড। অর্থাৎ, বন্ডটির জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদে কোনো কুপন বা নিয়মিত সুদ দেওয়া হবে না। তিন বছর মেয়াদি এ বন্ডের বার্ষিক ডিসকাউন্ট রেট নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ৭ শতাংশ।

তিনি বলেন, একজন বিনিয়োগকারী বন্ডটি কিনতে প্রাথমিকভাবে আট লাখ চার হাজার ৯৬১ টাকা পরিশোধ করবেন। তিন বছর মেয়াদ শেষে তিনি পাবেন ১০ লাখ টাকা। সে হিসাবে বিনিয়োগ থেকে মুনাফা হবে এক লাখ ৯৫ হাজার ৩৯ টাকা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিনিয়োগকারীরা প্রতি সপ্তাহের বুধবার ব্যাংকের যেকোনো শাখার মাধ্যমে বন্ড কেনার আবেদন করতে পারবেন। নির্ধারিত দিন সরকারি বা ব্যাংক ছুটির মধ্যে পড়লে আগের কর্মদিবসে আবেদন গ্রহণ করা হবে। বন্ড কিনতে বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক। গ্রাহকদের সুবিধার্থে ব্র‍্যাক ব্যাংকের শাখাগুলোতে বিও হিসাব খোলার ব্যবস্থা রয়েছে।

ব্যাংকটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, জিরো-কুপন বন্ড হওয়ায় আয়কর আইন অনুযায়ী অর্জিত মুনাফার ওপর অগ্রিম আয়কর বা অন্যান্য কর প্রযোজ্য হবে না। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর বিনিয়োগকারীরা কর রেয়াতের সুবিধাও পেতে পারেন। এ ছাড়া জরুরি প্রয়োজনে মেয়াদপূর্তির আগেই বন্ড বিক্রি করে নগদ অর্থ তোলার সুযোগ থাকবে।

বন্ডের অর্থ কোন সুদহারে বিনিয়োগ করা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে মো. শাহীন ইকবাল বলেন, বন্ডের মাধ্যমে সাড়ে ৭ শতাংশ হারে অর্থ সংগ্রহ করা হলেও তা ৯ শতাংশ হারে বিনিয়োগ করা হবে। বন্ড ইস্যু ও পরিচালনার বিভিন্ন খরচের কারণে এর চেয়ে কম সুদহারে ঋণ দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান তিনি। তবে ব্যাংকের কোনো মার্জিন ছাড়াই অর্থায়নের চেষ্টা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পরিবেশবান্ধব খাতে অর্থায়নের সম্ভাবনা তুলে ধরে তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, বর্তমানে অনেক শিল্পকারখানায় জ্বালানির ১৫ থেকে ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসে। এতে জ্বালানি খরচ কমে। ফলে গ্রিন বন্ডের মাধ্যমে ঋণ পাওয়ার সুযোগ উদ্যোক্তাদের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে আরও উৎসাহিত করতে পারে।

বন্ডের অভিহিত মূল্য কমিয়ে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুযোগ বাড়ানো যেত কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হলে অল্প পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।

সম্পাদকীয় :

 সম্পাদক ও প্রকাশক : এসএম শহীদ উল্লাহ, নির্বাহী সম্পাদক : শারমিন সুলতানা, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এসকে তমিজ উদ্দিন

অফিস : ১৯৩/১ (৩য় তলা) মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল : 01753492430, ই-মেইল : ajkerawaz73@gmail.com

অফিস :