সাগর-রুনি হত্যা: জিয়াউল ও রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য পেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ

আপলোড সময় : ২৮-১০-২০২৬ , আপডেট সময় : ২৮-১০-২০২৬ ০৫:২৬:০৫ অপরাহ্ন

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। তবে তদন্তে কারও নাম বা সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে আসা অপরাধে জড়িত থাকার চূড়ান্ত প্রমাণ নয় বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি টাস্কফোর্সের তদন্তসংক্রান্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করা হয়। প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও তথ্য যাচাইয়ের জন্য রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার তদন্তে আরও সময় দিয়েছেন আদালত। বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের বেঞ্চ ২০২৭ সালের ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত সময় মঞ্জুর করেন। ওই দিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহাকে আদালতে হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদন দাখিলের পর অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের জানান, জিয়াউল আহসানের বরিশালের বাড়িতে তল্লাশির সময় প্রায় ৩০০টি সিডি উদ্ধার করা হয়েছিল। সেগুলোর তথ্য যাচাই-বাছাই করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে টাস্কফোর্সের আরও সময় প্রয়োজন।

তিনি বলেন, জিয়াউল আহসানের বাড়িতে তল্লাশির সময় কী ধরনের তথ্য পাওয়া গিয়েছিল, তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। এ কারণে তানভীর হাসান জোহাকে আগামী ২৯ এপ্রিল আদালতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় আদালত রুদ্ধদ্বার শুনানিতে তাঁর বক্তব্য শুনবেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী। সাগর-রুনির পরিবারের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শিশির মনির। রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

এর আগে গত ২৬ এপ্রিল মামলার তদন্তের জন্য ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছিল। পরে গত বছরের ২৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় দেন হাইকোর্ট।

২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত থেকে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‍্যাব) সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পরে মন্ত্রণালয় চার সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করে। এতে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধানকে আহ্বায়ক করা হয়। অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন পুলিশ সদর দপ্তর ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক পদমর্যাদার দুজন কর্মকর্তা এবং র‍্যাবের পরিচালক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি। পরদিন সকালে তাঁদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ১২ ফেব্রুয়ারি রুনির ভাই নওশের আলী রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন।

সম্পাদকীয় :

 সম্পাদক ও প্রকাশক : এসএম শহীদ উল্লাহ, নির্বাহী সম্পাদক : শারমিন সুলতানা, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এসকে তমিজ উদ্দিন

অফিস : ১৯৩/১ (৩য় তলা) মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল : 01753492430, ই-মেইল : ajkerawaz73@gmail.com

অফিস :