আট বছরেও নির্মাণ হয়নি ভেঙে পড়া সেতু, ড্রামের ভেলায় ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার

আপলোড সময় : ২৮-১০-২০২৬ , আপডেট সময় : ২৮-১০-২০২৬ ০৫:২৬:০৭ অপরাহ্ন

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের পূর্বধনিরাম আবাসনের নালার ওপর নির্মিত সেতুটি ভেঙে পড়ার আট বছর পেরিয়ে গেলেও পুনর্নির্মাণ করা হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীসহ আশপাশের পাঁচ সহস্রাধিক মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ড্রামের ভেলায় নালা পারাপার হচ্ছেন। এতে প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের মাধ্যমে ৩১ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। ১৪ ফুট প্রস্থ ও ৪৫ ফুট দৈর্ঘ্যের সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর দুই পাড়ের মানুষের চলাচলের জন্য এটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে মাত্র তিন মাসের মাথায় সেতুটি নালায় ধসে পড়ে। এরপর থেকে সেটি আর পুনর্নির্মাণ করা হয়নি।

নালার ওপারে পূর্বধনিরাম আবাসন প্রকল্পে নয়টি ব্যারাকে ৯০টি পরিবার বসবাস করে। এ ছাড়া নামাচর, বুড়ির চর, আইয়ুবের চর ও পশ্চিম ধনিরামের কয়েক হাজার মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে ধরলা নদী এবং উত্তর ও পূর্ব দিকে নালার কারণে তাঁদের চলাচলে নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। সেতুটি ভেঙে পড়ায় বিকল্প উপায় না পেয়ে তাঁরা নিজেরাই ড্রামের ভেলা তৈরি করে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন।

পশ্চিম ধনিরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া জানায়, ড্রামের ভেলায় করে স্কুলে যাওয়া কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। মাঝেমধ্যে ভেলা থেকে পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়। বন্যার সময় স্কুলে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

স্থানীয় ভ্যানচালক মজিবর (৩৫), মন্টু ইসলাম (৩৫), মনভোলা রায় (৪৫) ও আব্দুল হোসেন (৪০) জানান, সেতুটি ভেঙে পড়ার প্রায় আট বছর হলেও নতুন করে নির্মাণের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। ভেলায় পারাপারের সময় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। সেতুটি চালু থাকলে সহজে কাঠসহ বিভিন্ন মালামাল পরিবহন করে জীবিকা নির্বাহ করা যেত। এখন যাতায়াতের ভোগান্তিতে তাঁদের আয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বড়ভিটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মিন্টু বলেন, সেতু না থাকায় আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দাসহ স্থানীয়রা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। সেখানে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সিরাজউদ্দৌলা বলেন, ওই সময় বন্যার পানিতে সেতুর দুই প্রান্তের মাটি ধসে পড়ায় সেতুটি ভেঙে যায়। বর্তমানে আগের নকশা অনুযায়ী সেখানে নতুন সেতু নির্মাণ করা কঠিন। তবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পাদকীয় :

 সম্পাদক ও প্রকাশক : এসএম শহীদ উল্লাহ, নির্বাহী সম্পাদক : শারমিন সুলতানা, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এসকে তমিজ উদ্দিন

অফিস : ১৯৩/১ (৩য় তলা) মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল : 01753492430, ই-মেইল : ajkerawaz73@gmail.com

অফিস :