ভারতের আসাম রাজ্যের গুয়াহাটিতে হোটেলের ইজারাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে একই পরিবারের চার সদস্যসহ পাঁচজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে শহরের ব্যস্ত জিএস রোডের ‘হোটেল বিলাস ইন’-এ এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনার এক ঘণ্টার মধ্যেই হোটেলটির ইজারাদার ও প্রধান অভিযুক্ত ঘনাকান্ত গগৈকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, হোটেলের ইজারা চুক্তি ও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে এ হামলা চালানো হয়। আটকের সময় অভিযুক্তের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তলও উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত পাঁচজনের মধ্যে চারজন হোটেলটির মালিক পরিবারের সদস্য। অন্যজন তাঁদের গ্রামের বাসিন্দা।
গুয়াহাটির পুলিশ কমিশনার পার্থ সারথি মহান্ত জানান, প্রায় এক বছর আগে ‘হোটেল বিলাস ইন’ ইজারা নিয়েছিলেন ঘনাকান্ত গগৈ। ইজারা ও সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধ থেকেই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
গুলিবর্ষণের ঘটনায় মোট ছয়জন গুলিবিদ্ধ হন। তাঁদের মধ্যে চারজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে নারায়ণ দাস (৪৮) গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আহত অপর ব্যক্তি সত্যেন্দ্র পাঠক (৪২) ডান কাঁধে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
গুয়াহাটির ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আসাম রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতি গৌরব গগৈ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে এ ঘটনার দায়ভার গ্রহণের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার প্রতি আহ্বান জানান।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ ও অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।