পুরস্কারের চেয়ে অভিনয়েই মনোযোগ তুষির

আপলোড সময় : ৩০-১০-২০২৬ , আপডেট সময় : ৩০-১০-২০২৬

আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার, ওটিটিতে পুরোনো সিনেমার নতুন করে যাত্রা এবং মুক্তির অপেক্ষায় একাধিক চলচ্চিত্র ও ওয়েব সিরিজ—সব মিলিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন অভিনেত্রী নাজিফা তুষি। তবে সাফল্য কিংবা পুরস্কারের হিসাবের চেয়ে চরিত্রের প্রতি ভালোবাসা এবং নিজের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করাকেই বেশি গুরুত্ব দেন তিনি। অভিনয়ে ভিন্নতা আনা এবং নতুন চরিত্রে নিজেকে তুলে ধরার চেষ্টাই এখন তাঁর পথচলার অন্যতম অনুপ্রেরণা।

২০১৬ সালের ২৯ এপ্রিল নির্মাতা রেদওয়ান রনির ‘আইসক্রিম’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তুষির। অভিনয়জীবনের শুরুতে এই সিনেমা ছিল তাঁর জন্য নতুন অভিজ্ঞতা ও নিজেকে আবিষ্কারের সুযোগ। এক দশক পর সিনেমাটি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পাওয়ায় নতুন করে দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। সময়ের সঙ্গে বদলেছে তাঁর অভিনয়ের পরিসরও। ‘হাওয়া’ সিনেমায় গুলতি চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি পাওয়ার পর থেকে বেছে বেছে কাজ করছেন এই অভিনেত্রী। কাজের সংখ্যা বাড়ানোর বদলে গল্প, চরিত্র ও অভিনয়ের সুযোগকে প্রাধান্য দিচ্ছেন তিনি।

তুষির সাম্প্রতিক অর্জনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত ‘রইদ’ সিনেমার জন্য আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পাওয়া। কানাডার মোজাইক ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের দ্বাদশ আসরে সিনেমাটি তিনটি বিভাগে পুরস্কার জেতে। এতে ‘সাদুর বউ’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন তুষি। গ্রামীণ জীবনের প্রেক্ষাপট, সম্পর্কের জটিলতা ও রহস্যময় আবহে নির্মিত সিনেমাটিতে তাঁর চরিত্রটি ছিল প্রচলিত নায়িকাসুলভ উপস্থিতির বাইরে। চরিত্রটির অনুভূতি, জীবনযাপন ও অন্তর্গত টানাপোড়েন পর্দায় ফুটিয়ে তুলে অভিনয়ের ভিন্ন একটি দিক তুলে ধরেছেন তিনি। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি তুষির ব্যক্তিগত অর্জনের পাশাপাশি সিনেমাটির কলাকুশলীদের পরিশ্রমেরও স্বীকৃতি। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের মনোযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে। আসন্ন অস্কারের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বিভাগে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন হিসেবেও পাঠানো হয়েছে ‘রইদ’।

পুরস্কার পাওয়াকে আনন্দ ও অনুপ্রেরণার বিষয় হিসেবে দেখছেন তুষি। তাঁর কাছে পুরস্কারের প্রত্যাশা নিয়ে কাজ করার চেয়ে চরিত্রটি যথাযথভাবে পর্দায় তুলে ধরাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অভিনয়ের মাধ্যমে সেই চরিত্র দর্শক ও বিচারকদের স্বীকৃতি পেলে তা বাড়তি আনন্দ যোগ করে। এই অর্জন অভিনেত্রী হিসেবে তাঁর দায়িত্ববোধও বাড়িয়েছে বলে মনে করেন তিনি। এদিকে চলতি বছরের ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া রায়হান রাফীর ‘প্রেশার কুকার’ এখন ওটিটিতেও দেখা যাচ্ছে। ঢাকার নাগরিক জীবনের চাপ, সামাজিক দ্বন্দ্ব ও নারীর ব্যক্তিগত সংগ্রামকে কেন্দ্র করে নির্মিত সিনেমাটিতে চার নারীর জীবন পাশাপাশি তুলে ধরা হয়েছে। প্রেক্ষাগৃহের পর ওটিটিতে মুক্তির ফলে সিনেমাটি আরও বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পেয়েছে।

তুষির নতুন কাজের তালিকায় রয়েছে ‘অ্যানি’ নামের একটি মিনি সিরিজ। ‘রেহানা মরিয়ম নূর’খ্যাত নির্মাতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের পরিচালনায় নির্মিত এই সিরিজে ভিন্ন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে দেখা যাবে তাঁকে। ডিস্টোপিয়ান গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র অ্যানি একজন নার্স। পাঁচ ভাইবোনকে মানুষ করার সংগ্রামের মধ্যে রহস্যময় এক রোগের বিস্তার তাঁর জীবনকে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে ফেলে। রোগটির প্রভাবে পুরুষদের মধ্যে নারীদের প্রতি ঘৃণা ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে নতুন সংকটের মুখোমুখি হন তিনি।

জার্মানির কোলনে সেরিয়েনক্যাম্প ফেস্টিভ্যালের ‘উইমেন ইন সিরিজ’ বিভাগে সিরিজটির বিশ্ব প্রিমিয়ার হয়েছে। এখন বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য আইস্ক্রিনে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে এটি।

এ ছাড়া রায়হান রাফী পরিচালিত ‘আন্ধার’ সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন তুষি। এতে ‘নদী’ চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। চরিত্রটি নিয়ে আগে নিজের ভালো লাগার কথা জানিয়ে এই অভিনেত্রী বলেছিলেন, এটি তাঁর সবচেয়ে প্রিয় চরিত্রগুলোর একটি। চরিত্রটির মধ্য দিয়ে নানা ধরনের আবেগ নিয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

‘আন্ধার’ নিয়ে নিজের প্রত্যাশা প্রসঙ্গে তুষি জানিয়েছেন, প্রতিটি সিনেমায় কাজ করার সময়ই তাঁর ভালো লাগা ও ভালোবাসা তৈরি হয়। শুটিং শেষ হওয়ার পরও সেই অনুভূতি থেকে যায়। তবে সিনেমার ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে নিজের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করার চেষ্টা করেন তিনি। এরপর সিনেমাটি দর্শকের হাতে ছেড়ে দেন। তাঁদের ভালো লাগলে দেখবেন, আর ভালো না লাগলে নিজেদের মতামত জানাবেন—এটাই তাঁর ভাবনা। সিনেমাটি নিয়ে আশাবাদী বলেও জানিয়েছেন অভিনেত্রী। সম্প্রতি এন রাশেদ চৌধুরীর সাহিত্যনির্ভর সিনেমা ‘সখী রঙ্গমালা’র কাজও শেষ করেছেন তুষি। ফলে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা সিনেমা ও সিরিজের পাশাপাশি নতুন কাজের মধ্য দিয়েও অভিনয়ের পরিসর বাড়ছে তাঁর।

সম্পাদকীয় :

 সম্পাদক ও প্রকাশক : এসএম শহীদ উল্লাহ, নির্বাহী সম্পাদক : শারমিন সুলতানা, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এসকে তমিজ উদ্দিন

অফিস : ১৯৩/১ (৩য় তলা) মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল : 01753492430, ই-মেইল : ajkerawaz73@gmail.com

অফিস :