বাণিজ্য চুক্তির রূপরেখায় অগ্রগতি, ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা ‘ভালো হয়েছে’ বললেন কার্নি

আপলোড সময় : ০২-১১-২০২৬ , আপডেট সময় : ০২-১১-২০২৬ ০৩:২৩:৪৫ অপরাহ্ন

কানাডার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক শুল্ক আরোপে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কে যখন টানাপোড়েন চলছে, তখন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানালেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে তাঁর আলোচনা ‘ভালো হয়েছে’। রোববার তিনি এ কথা বলেন।

বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর দিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় কার্নি বলেন, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি বাণিজ্য চুক্তির রূপরেখা নিয়ে সম্প্রতি যে গঠনমূলক আলোচনা চলছিল, সর্বশেষ আলোচনায় তা আরও এগিয়েছে।

তাঁর ভাষায়, ‘এ লক্ষ্য অর্জনে আগামী কয়েক সপ্তাহ আমাদের দুই দেশের প্রতিনিধিদল কাজ করবে।’

দ্বিতীয় মেয়াদে বন্ধু ও প্রতিদ্বন্দ্বী—দুই ধরনের দেশের পণ্যেই শুল্ক বসিয়ে বিশ্ববাণিজ্যে বড় রদবদল ঘটিয়েছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় বাণিজ্য অংশীদার কানাডাও বারবার তাঁর শুল্কনীতির নিশানায় পড়েছে।

গত আগস্টে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে গেলে কানাডার নানা পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে এর কিছু শুল্ক তুলে নেওয়া হয়েছে।

মার্কিন ভোটারদের কাছে জীবনযাত্রার খরচ ও পণ্যের ক্রয়ক্ষমতা বড় একটি ইস্যু। দেশটিতে মূল্যস্ফীতি বাড়ার পেছনে ট্রাম্পের শুল্কনীতিরও ভূমিকা রয়েছে।

আগস্টে আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর যে শুল্ক বসানো হয়, তার আওতায় পড়ে হকি খেলার স্টিক থেকে সিমেন্ট পর্যন্ত প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

জবাবে কানাডাও সমপরিমাণ মার্কিন পণ্যে পাল্টা শুল্ক বসায়। এর প্রতিক্রিয়ায় পরে কিছু পণ্যে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক চাপান ট্রাম্প।

কানাডার সঙ্গে শিগগিরই নতুন একটি বাণিজ্য চুক্তি হতে পারে বলে গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন ট্রাম্প, যদিও এর বিস্তারিত তিনি খোলাসা করেননি।

রোববার কার্নির সঙ্গে সর্বশেষ আলোচনার কথা ট্রাম্পও নিশ্চিত করেছেন। আইওয়ায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচার অনুষ্ঠানে রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের তিনি জানান, কানাডার সঙ্গে ‘খুব ভালো একটি চুক্তির রূপরেখা’ তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমরা এমন একটি চুক্তির ধারণা পেয়েছি, যা আমাদের কৃষক ও দেশের জন্য দারুণ হবে এবং কানাডার জন্যও ভালো হবে।’

তিনি আরও জানান, প্রস্তাবিত চুক্তিতে কিস্টোন এক্সএল পাইপলাইন নির্মাণের বিষয়টিও থাকবে। এ প্রকল্পের বিরোধিতায় পরিবেশবাদীরা বহু বছর ধরেই সরব, আর সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে প্রকল্পটি স্থগিত করা হয়েছিল।

ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি অনিশ্চিত এবং ঘন ঘন বদলায় বলে অন্য মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও মজবুত করছে কানাডা।

গত শুক্রবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও কানাডা নতুন এক অংশীদারত্বের ঘোষণা দিয়েছে, যার আওতায় ইইউর প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ হওয়ার সুযোগ পাবে কানাডা। তবে এই পদবি ব্যবহার নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে কিছু মতপার্থক্য রয়েছে।

সম্পাদকীয় :

 সম্পাদক ও প্রকাশক : এসএম শহীদ উল্লাহ, নির্বাহী সম্পাদক : শারমিন সুলতানা, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এসকে তমিজ উদ্দিন

অফিস : ১৯৩/১ (৩য় তলা) মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল : 01753492430, ই-মেইল : ajkerawaz73@gmail.com

অফিস :