সরকারের আশ্বাসেও থামছে না ফ্রান্সের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

আপলোড সময় : ০৪-১১-২০২৬ , আপডেট সময় : ০৪-১১-২০২৬

দুই সপ্তাহের ছুটি শেষে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে ফেরার পর ফ্রান্সে উচ্চবিদ্যালয় পর্যায়ের বিক্ষোভ আবার শুরু হয়েছে। তবে আগের সপ্তাহগুলোর তুলনায় এবার আন্দোলনের পরিসর অনেকটাই ছোট। সোমবার (২ নভেম্বর) দেশটির ৩ হাজার ৭০০টি উচ্চবিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ৪১টি অবরুদ্ধ ছিল, যা মোট বিদ্যালয়ের প্রায় এক শতাংশ।

প্যারিস, মার্সেই ও রেনসের কয়েকটি বিদ্যালয় অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়। এর আগে ছুটির আগের সপ্তাহগুলোতে শত শত বিদ্যালয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছিলেন শিক্ষার্থীরা। ফ্রান্স ইন্টার রেডিওকে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দ গেফ্রে বলেন, অবরোধ বা অবরোধের চেষ্টার ঘটনা এখন খুবই সীমিত পর্যায়ে রয়েছে। কয়েকটি বিচ্ছিন্ন বিদ্যালয়ে এমন ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবাদ করার অধিকার শিক্ষার্থীদের রয়েছে, তবে বিদ্যালয়ে প্রবেশে বাধা দেওয়া বেআইনি বলে জানান তিনি।

শিক্ষাবর্ষের ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কয়েক লাখ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন এখন ঝুঁকির মুখে। সরকার কোনোভাবেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে দিতে পারে না।

গত সেপ্টেম্বরে প্যারিসের শহরতলি থেকে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন পরে পুরো ফ্রান্সে ছড়িয়ে পড়ে। গত মাসে আন্দোলনের দাবি শিক্ষার গণ্ডি ছাড়িয়ে জীবনযাত্রার ব্যয়সংক্রান্ত অসন্তোষের সঙ্গেও যুক্ত হয়। এতে বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন ও আন্দোলনকারী গোষ্ঠীও সম্পৃক্ত হয়। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সংখ্যালঘু সরকারের জন্য পরিস্থিতি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। কয়েকটি শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয় এবং কোথাও কোথাও দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।

শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে জরাজীর্ণ বিদ্যালয় সংস্কার, পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, বিশ্ববিদ্যালয়ে আসনসংখ্যা বাড়ানো এবং সামাজিকভাবে বৈষম্যমূলক বলে বিবেচিত বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ব্যবস্থা বাতিল করা।

আন্দোলনের মুখে গত সপ্তাহে সরকার কয়েকটি পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৮ সালের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পারকোর্সআপ প্ল্যাটফর্ম ধাপে ধাপে প্রতিস্থাপন, শিক্ষা খাতে পরিকল্পিত পদ বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত বাতিল এবং অতিরিক্ত ৫০০টি পদ সৃষ্টি। পাশাপাশি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে প্রতি শ্রেণিতে সর্বোচ্চ ২৮ জন শিক্ষার্থী রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। স্কুল সংস্কারে ৪০০ কোটি ইউরো এবং উচ্চশিক্ষায় ১৫ হাজার নতুন আসন তৈরির ঘোষণাও দিয়েছে সরকার।

তবে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা এসব উদ্যোগকে যথেষ্ট মনে করছেন না। আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা। লে লিসিওঁ সংগঠনের সভাপতি পিয়েরে সুরজাত রোববার বলেন, তাঁরা বিদ্যালয় অবরোধের কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।

এদিকে ইউনিয়ন সিন্ডিক্যাল লিসিওঁ ও স্টুডেন্ট ইউনিয়ন মঙ্গলবার এবং বৃহস্পতিবার নতুন করে বিদ্যালয় অবরোধের ডাক দিয়েছে। অন্যদিকে ইউএনইএফ স্টুডেন্ট ইউনিয়ন মঙ্গলবারকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য ‘কালো দিন’ ঘোষণা করে দেশজুড়ে অবরোধ কর্মসূচির আহ্বান জানিয়েছে।

সম্পাদকীয় :

 সম্পাদক ও প্রকাশক : এসএম শহীদ উল্লাহ, নির্বাহী সম্পাদক : শারমিন সুলতানা, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এসকে তমিজ উদ্দিন

অফিস : ১৯৩/১ (৩য় তলা) মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল : 01753492430, ই-মেইল : ajkerawaz73@gmail.com

অফিস :