ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৌসুমী। নব্বইয়ের দশকে চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর অভিনয়, সৌন্দর্য ও সাবলীল উপস্থিতি দিয়ে জয় করেছেন অসংখ্য দর্শকের হৃদয়। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে উপহার দিয়েছেন বহু জনপ্রিয় সিনেমা। পর্দায় নানা চরিত্রে নিজেকে ভিন্নভাবে তুলে ধরে তৈরি করেছেন স্বতন্ত্র অবস্থান। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এই অভিনেত্রী। দেশটিতে পেয়েছেন স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি। আজ তার জন্মদিন। বিশেষ এই দিনে নিজের জীবনের ভুল-শেখা, চলচ্চিত্রজীবনের অভিজ্ঞতা এবং ঢালিউডে নারী শিল্পীদের অবস্থান নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।
জীবনের নানা ভুল প্রসঙ্গে মৌসুমী বলেন, চলার পথে মানুষ অনেক ভুল করে, যা একসময় অনুশোচনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে ভুলেরও প্রয়োজন রয়েছে। কারণ, ভুল থেকেই মানুষ নিজের সীমাবদ্ধতা বুঝতে পারে এবং তা থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ পায়। নিজের জীবনেও এমন অনেক ভুল হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেসব ভুল শুধরে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেই আজকের অবস্থানে আসতে পেরেছেন। তার মতে, ভুলের মধ্য দিয়েই একজন মানুষ পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
অভিনেত্রীর ভাষ্য, ভুল করলে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। তবে সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করাও জীবনেরই অংশ। ভুল-ভ্রান্তি, আনন্দ-বেদনা, সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না নিয়েই মানুষের জীবন। আর এসব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই সবাইকে এগিয়ে যেতে হয়।
চলচ্চিত্র অঙ্গনে কাজের সময়কার পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়েও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন মৌসুমী। তিনি বলেন, একসময় জ্যেষ্ঠ ও নবীন শিল্পীরা একসঙ্গে দলবদ্ধ হয়ে কাজ করতেন। ফলে নিজেদের মধ্যে খুব বেশি নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করতে হতো না। তবে চলচ্চিত্র অঙ্গন থেকে শিল্পীদের জন্য শতভাগ নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়নি। নিজেদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিজেদেরই করতে হয়েছে।
মৌসুমীর মতে, চলচ্চিত্র অঙ্গনে নানা ধরনের রাজনীতি রয়েছে। ছোটখাটো বিষয় নিয়েও সেখানে দলাদলি ও বিরোধ তৈরি হয়। এসব জটিলতা এড়াতে এবং বিপদে একে অন্যের পাশে দাঁড়াতে শিল্পীরা নিজেদের মধ্যে দলগত সম্পর্ক বজায় রাখতেন। তবে একসঙ্গে কাজ করা শিল্পীদের মধ্যে ঈর্ষা বা প্রতিযোগিতার নেতিবাচক মনোভাব ছিল না বলেও জানান তিনি।
নারী শিল্পীদের প্রতি চলচ্চিত্র অঙ্গনের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন এই অভিনেত্রী। তার মতে, চলচ্চিত্রশিল্প নারী অভিনয়শিল্পীদের প্রাপ্য সম্মান সব সময় দেয়নি। শাবানা, ববিতা কিংবা তিনি নিজে—প্রত্যেকেই নিজেদের যোগ্যতা ও কাজের মাধ্যমে সম্মান অর্জন করেছেন। নারী শিল্পীরা যে অবস্থান তৈরি করেছেন, তা মূলত নিজেদের মেধা, দক্ষতা ও পরিশ্রমের ফল।