নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অবস্থিত ঐতিহাসিক পানামনগরী দিনের বেলায় দেশি-বিদেশি পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকলেও সন্ধ্যা নামার পর ডুবে যায় অন্ধকারে। পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার অভাবে ঐতিহাসিক স্থাপনাটির সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের মধ্যে। এ ছাড়া দর্শনার্থীদের প্রবেশপথে লোহার পাইপের বেষ্টনী নিয়েও উঠেছে সৌন্দর্যহানির অভিযোগ। তাঁদের দাবি, রাতে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দৃষ্টিনন্দন প্রবেশপথ নির্মাণ করা হোক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার পর পানামনগরীর বিভিন্ন স্থানে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় পুরো এলাকা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এতে অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যাপ্ত নজরদারি ও নিরাপত্তার অভাবে ঐতিহাসিক স্থাপনাটির সুরক্ষা বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সোনারগাঁ শাখার সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পানামনগরী। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এটি অধিগ্রহণ করলেও যথাযথ সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সীমানাপ্রাচীর ও চারপাশে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জার ব্যবস্থা না থাকায় ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি কার্যত অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। অনতিবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
অন্যদিকে পানামনগরীর প্রবেশপথ নিয়েও অসন্তোষ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ, প্রবেশ টিকিট সংগ্রহের পর মূল প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় যেতে লোহার পাইপ দিয়ে তৈরি বেষ্টনী পার হতে হয়। এতে দর্শনার্থীদের স্বাভাবিক চলাচলে বিড়ম্বনা তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি ঐতিহাসিক স্থাপনাটির সৌন্দর্য ও নান্দনিক পরিবেশও ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন তাঁরা।
স্থানীয় বাসিন্দা বাকির জুয়েল বলেন, ‘রাতের বেলায় পানামনগরীর ভেতরে দুষ্কৃতকারীদের আনাগোনা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রবেশদ্বারে লোহার পাইপের পরিবর্তে সৌন্দর্যবর্ধক ও দৃষ্টিনন্দন একটি গেট নির্মাণ করা হলে ভালো হতো।’
এ বিষয়ে পানামনগরীর সহকারী কাস্টোডিয়ান মো. তানজিলুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’