আমির হামজার প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে ইসিতে আবেদন

আপলোড সময় : ০৫-১১-২০২৬ , আপডেট সময় : ০৫-১১-২০২৬ ০৯:৪৪:৪২ অপরাহ্ন

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মুফতি আমির হামজার নির্বাচনী হলফনামা ও আয়কর রিটার্নে আর্থিক ও সম্পত্তিসংক্রান্ত একাধিক অসংগতি, তথ্য গোপন এবং ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা ও নির্বাচন বাতিলের দাবি জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে আবেদন করেছেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক ছাত্রদল নেতা।

গত মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্বাচন ভবনে আবেদনটি জমা দেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পশ্চিম আব্দালপুর এলাকার বাসিন্দা মো. সিরাজুল ইসলাম। তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৫-২০০৬ শিক্ষাবর্ষের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ২০০৯-১০ মেয়াদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

আবেদনে আমির হামজার ব্যাংক হিসাবের স্থিতি, ওয়াজ মাহফিল ও আদ-দ্বীন হাসপাতাল থেকে পাওয়া সম্মানী, নগদ অর্থ, কৃষি ও আবাসিক সম্পত্তি, স্ত্রীর সম্পদ, গাড়ি, বাড়িভাড়া, পারিবারিক ব্যয় এবং নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, নির্বাচনী হলফনামা, আয়কর রিটার্ন এবং সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির নথিপত্রের মধ্যে একাধিক ক্ষেত্রে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।

সিরাজুল ইসলামের অভিযোগ, ২০২৫ সালের ৩০ জুন আমির হামজার ব্যাংক হিসাবে কোনো অর্থ না থাকার তথ্য আয়কর রিটার্নে দেখানো হলেও প্রকৃতপক্ষে ওই হিসাবে প্রায় ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৯৯৭ টাকা জমা ছিল। আবেদনে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির কুষ্টিয়া শাখায় তাঁর একটি ব্যাংক হিসাবের উল্লেখ করে এ দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনী হলফনামায় ব্যাংকের নাম ও হিসাব নম্বর উল্লেখ না করার বিষয়টিকেও তথ্য গোপন হিসেবে দেখানো হয়েছে।

আয়ের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আবেদনকারী। তাঁর দাবি, আমির হামজা প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এক লাখ টাকা সম্মানী পান। এ ছাড়া বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে প্রতিবার তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা সম্মানী পাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। আবেদনকারীর মতে, এসব আয় ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে যাচাই করা সম্ভব। অথচ নির্বাচনী হলফনামা বা আয়কর রিটার্নে এসব আয়ের উল্লেখ নেই। আয়কর রিটার্নে তাঁর বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৮ লাখ ৬১ হাজার টাকা, যার পুরোটাই হামজা এন্টারপ্রাইজের কাপড় ও বইয়ের ব্যবসা থেকে এসেছে বলে উল্লেখ রয়েছে।

নগদ অর্থের হিসাবেও দুই নথির মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্যের অভিযোগ আনা হয়েছে। নির্বাচনী হলফনামায় আমির হামজার হাতে নগদ অর্থ দেখানো হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ১৭০ টাকা। অন্যদিকে আয়কর রিটার্নে নগদ অর্থের পরিমাণ ৩৮ লাখ ৪৫ হাজার ১৭০ টাকা উল্লেখ রয়েছে। দুই হিসাবের মধ্যে পার্থক্য ৩৬ লাখ টাকা।

স্ত্রী তামান্না সুলতানার সম্পদের তথ্য নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন আবেদনকারী। তাঁর দাবি, নির্বাচনী হলফনামায় স্ত্রীর আয়কর রিটার্নের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। হলফনামায় স্ত্রীর কৃষিজমির পরিমাণ ১২ কাঠা বা ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ এবং মূল্য দুই লাখ টাকা দেখানো হয়েছে। কিন্তু স্ত্রীর আয়কর রিটার্নে জমির পরিমাণ ১২০ শতাংশ এবং মূল্য ১৭ লাখ টাকা উল্লেখ রয়েছে বলে আবেদনে দাবি করা হয়েছে। এতে জমির পরিমাণে প্রায় ১০০ শতাংশ এবং মূল্যে ১৫ লাখ টাকার পার্থক্য রয়েছে।

সম্পাদকীয় :

 সম্পাদক ও প্রকাশক : এসএম শহীদ উল্লাহ, নির্বাহী সম্পাদক : শারমিন সুলতানা, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এসকে তমিজ উদ্দিন

অফিস : ১৯৩/১ (৩য় তলা) মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল : 01753492430, ই-মেইল : ajkerawaz73@gmail.com

অফিস :