ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ব্রহ্মপুত্র নদের উচাখিলা বটতলা এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। ২০২০ সালে উচ্চ আদালতের নির্দেশে বন্ধ হওয়া বালুঘাটে আবারও ড্রেজার বসিয়ে কার্গো ও নৌযানের মাধ্যমে বালু তোলা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগের আরও চাঞ্চল্যকর দিক হলো, যাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ওই বালুঘাটে বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন, সেই রফিকুল ইসলামই এখন এ কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের চররামমোহন গ্রামের কাছে বটতলা বালুঘাটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হলে উজানচরণও পাড়ার আব্দুল কাদিরের ছেলে রফিকুল ইসলাম ২০২০ সালে হাইকোর্টে রিট করেন। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ২২ জুন আদালত বটতলা বালুঘাটে বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দেন। রিট পিটিশন নম্বর ১৬৬/২০২০।
তবে অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার পালাবদলের পর আদালতের নির্দেশে বন্ধ থাকা ওই বালুঘাটে আবারও বালু উত্তোলন শুরু হয়েছে। রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে স্থানীয় কয়েকজন এ কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। তাঁদের মধ্যে রাজিবপুর এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে মো. কামাল হোসেন, মো. আল মামুন, রজব আলীর ছেলে মো. ফরিদ মিয়া, মো. মারফত আলীর ছেলে মো. জাহেদ আলী, মো. শামছুদ্দিনের ছেলে মো. আল আমিন, হাসেম মাস্টারের ছেলে মো. রিপন মিয়া, হাসমত আলীর ছেলে ইসরাফিল মিয়া, উচাখিলা এলাকার আহাম্মদ আলীর ছেলে মো. হাবিবুর রহমান হবি এবং চরআলগি গ্রামের উছমান আলীর ছেলে মো. রতনসহ আরও কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে।
বটতলা এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বড় বড় কার্গো ও নৌযান নিয়ে নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকা থেকে ড্রেজার মেশিনের সাহায্যে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সারারাত ধরে চলে এ কার্যক্রম। প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি তাঁদের।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, নদীর তীর রক্ষায় সরকারি অর্থায়নে জিও ব্যাগ দিয়ে নির্মিত বাঁধের আশপাশ থেকে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে নদীভাঙন তীব্র হওয়ার পাশাপাশি বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়বে। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসনকে ম্যানেজ করে একটি চক্র অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে স্থানীয়দের পক্ষে মিজান নামে এক ব্যক্তি জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আজিম উদ্দিন জানান, বর্তমানে জেলায় কোনো বালুমহাল ইজারা দেওয়া নেই। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি অভিযোগটি আমলে নিয়ে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) বালু উত্তোলন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি আদালতের আদেশ অমান্য করে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।