পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিনের মধ্যরাতে কলকাতার কালীঘাটে তাঁর বাসভবনের সামনে সংঘর্ষ ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বিজেপি-সমর্থিত দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে তাঁকে হত্যার চেষ্টা করার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন অভিষেক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র্যাফ) মোতায়েন করা হয়।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাত থেকেই অভিষেকের জন্মদিন উপলক্ষে কালীঘাটের বাসভবনের সামনে ভিড় করেন তৃণমূল কংগ্রেসের শত শত নেতা-কর্মী ও সমর্থক। অভিযোগ অনুযায়ী, রাত ২টার দিকে একদল বিজেপি কর্মী সেখানে এসে ‘চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। এ সময় অভিষেকের ব্যানার ও কাটআউট ছিঁড়ে ফেলা হয়। এতে বাধা দিতে গেলে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তবে উত্তেজনা না কমায় পরে পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হয় এবং র্যাফ মোতায়েন করা হয়। একপর্যায়ে অভিষেক নিজেই বাড়ির নিচে নেমে আসেন। এ সময় তাঁর বাসভবনের সামনে বিজেপি কর্মীরা আবারও স্লোগান দিলে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান শুরু হয়। রাত ২টা থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বাড়ির বাইরে অবস্থান করেন তিনি।
এ সময় কালীঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলাই বাগের সঙ্গে অভিষেকের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। পুলিশ বারবার তাঁকে বাড়ির ভেতরে চলে যাওয়ার অনুরোধ জানালেও তিনি তা উপেক্ষা করেন।
পরে সংবাদমাধ্যমের সামনে অভিষেক অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে কার্যালয় ভাঙচুর এবং তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, দলের কর্মীরা প্রতিরোধ গড়ে তুলে তাঁকে রক্ষা করেছেন। এ ঘটনার ভিডিও তাঁর কাছে রয়েছে বলেও জানান তিনি। পুলিশের সামনেই হামলা চালানো হয়েছে এবং এক পুলিশ সদস্যকে চড় মারা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন অভিষেক।
তিনি আরও দাবি করেন, হামলাকারীদের কাছে রিভলবার ছিল। এ ঘটনায় তাঁদের দলের এক কর্মীর বুড়ো আঙুল থেঁতলে গেছে এবং আরেকজনের চোখের নিচের হাড় ভেঙে গেছে। হামলার সময় বড় বড় ইটের টুকরো ছোড়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অভিষেকের ভাষ্য, তাঁর ওপর এটি প্রথম হামলা নয়; পুরো পশ্চিমবঙ্গেই বিজেপি এমন তাণ্ডব চালাচ্ছে।
পুলিশের ভূমিকা ও বিচারব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তৃণমূলের এই নেতা। তিনি বলেন, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা, একশ্রেণির মানুষের অত্যাচার এবং কলকাতা হাইকোর্টের নীরবতার বিরুদ্ধে তাঁদের লড়াই চলবে। নিজের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত নন উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন সংসদ সদস্যের ওপর এভাবে হামলা হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
এর আগে মধ্যরাতেই নিজের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টে ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ করে বিজেপির বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছিলেন অভিষেক।