অনলাইনে কেনার পর বাক্স-প্যাকেট বাইরে ফেলা বিপদ

আপলোড সময় : ০৭-০৫-২০২৬ , আপডেট সময় : ০৮-০৫-২০২৬ ০৪:৪১:৪৬ অপরাহ্ন
বর্তমান সময়ে অনলাইন শপিং অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, টেলিভিশন থেকে শুরু করে ছোটখাটো গ্যাজেট কিংবা প্রসাধনী সবই এখন কয়েক ক্লিকেই পৌঁছে যায় বাসার দরজায়।

তবে পণ্য হাতে পাওয়ার আনন্দে অনেকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় একেবারেই খেয়াল করেন না। সেটি হলো পণ্যের বাক্স, প্যাকেট, কুরিয়ার লেবেল বা রসিদ কীভাবে ফেলা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অসাবধানভাবে এসব বাইরে ফেলে দিলে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস থেকে শুরু করে চুরি, প্রতারণা এমনকি নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

অনলাইন কেনাকাটার প্যাকেটের গায়ে সাধারণত ক্রেতার নাম, মোবাইল নম্বর, ঠিকানা এবং কখনো কখনো অর্ডার সংক্রান্ত তথ্যও থাকে। অনেকেই পণ্য বের করেই বাক্স বা পলিথিন ডাস্টবিনে ফেলে দেন, কিন্তু এসব তথ্য অপরাধীদের হাতে গেলে তা অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষ করে পরিচয় চুরি, ভুয়া ফোনকল, প্রতারণামূলক ডেলিভারি কিংবা টার্গেটেড স্ক্যামের মতো ঘটনা বাড়ছে।

ধরুন, আপনি দামি একটি স্মার্টফোন বা টেলিভিশন কিনেছেন। সেই পণ্যের বড় ব্র্যান্ডেড বাক্স যদি বাসার বাইরে দৃশ্যমান স্থানে ফেলে রাখা হয়, তাহলে সহজেই বোঝা যায় ওই বাসায় নতুন ও মূল্যবান পণ্য এসেছে। এতে চোর বা অপরাধীদের নজরে পড়ার আশঙ্কা বাড়ে। বিদেশে এমন বহু ঘটনার উদাহরণ রয়েছে যেখানে উৎসবের মৌসুমে বাসার সামনে ফেলে রাখা ইলেকট্রনিক পণ্যের বাক্স দেখে চোরেরা বাসা টার্গেট করেছে।

শুধু নিরাপত্তাই নয়, পরিবেশের জন্যও এই অভ্যাস ক্ষতিকর। অনলাইন শপিংয়ের কারণে প্লাস্টিক, থার্মোকল ও কার্ডবোর্ড বর্জ্যের পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে। অনেকেই পুনর্ব্যবহার না করে এসব খোলা জায়গায় ফেলে দেন, যা পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্যাকেজিং উপকরণ আলাদা করে রিসাইক্লিংয়ের জন্য দেওয়া হলে পরিবেশের ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, কুরিয়ার লেবেল বা ইনভয়েসে থাকা কিউআর কোড, অর্ডার নম্বর কিংবা ফোন নম্বর থেকেও প্রতারকরা তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। পরে সেই তথ্য ব্যবহার করে তারা ভুয়া কাস্টমার কেয়ার পরিচয়ে ফোন দিতে পারে বা ফিশিং লিংক পাঠাতে পারে। অনেক সময় ব্যবহারকারীরা বুঝতেই পারেন না কীভাবে তাদের তথ্য অন্যের হাতে পৌঁছেছে।

এ ধরনের ঝুঁকি এড়াতে কয়েকটি সহজ সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। প্যাকেট ফেলার আগে অবশ্যই নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর থাকা অংশ ছিঁড়ে বা কেটে ফেলতে হবে। সম্ভব হলে কাগজের তথ্য নষ্ট করে তারপর ডাস্টবিনে ফেলতে হবে। বড় ইলেকট্রনিক পণ্যের বাক্স সরাসরি বাইরে না রেখে কেটে ছোট করে ফেলা ভালো। পাশাপাশি পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ আলাদা করে রিসাইক্লিং বিনে ফেলা উচিত।


অনলাইন কেনাকাটা যেমন জীবনকে সহজ করেছে, তেমনি সচেতনতার অভাবে ছোট একটি অসতর্কতাও বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই পণ্য হাতে পাওয়ার পর শুধু ব্যবহার নয়, তার প্যাকেট কীভাবে ফেলা হচ্ছে সেটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। একটু সচেতনতাই ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

সম্পাদকীয় :

 সম্পাদক ও প্রকাশক : এসএম শহীদ উল্লাহ, নির্বাহী সম্পাদক : শারমিন সুলতানা, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এসকে তমিজ উদ্দিন

অফিস : ১৯৩/১ (৩য় তলা) মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল : 01753492430, ই-মেইল : ajkerawaz73@gmail.com

অফিস :