​মিড-ডে মিলের বনরুটিতে অগ্রিম উৎপাদন তারিখ, গাড়ি জব্দ

আপলোড সময় : ০৭-০৬-২০২৬ , আপডেট সময় : ০৭-০৬-২০২৬

শাহেদ আহমেদ, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহকৃত মিড-ডে মিল কর্মসূচির বনরুটিতে অগ্রিম উৎপাদন তারিখ ব্যবহারের অভিযোগে একটি খাবারবাহী গাড়ি জব্দ করেছে প্রশাসন ও পুলিশ।

শুক্রবার (৫ জুন) রাত ৮টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাঁকাল চেকপোস্ট এলাকায় স্থানীয়দের সন্দেহের ভিত্তিতে বনরুটি বোঝাই একটি গাড়ি আটক করা হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়িটি জব্দ করে এবং বনরুটিগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণের উদ্দেশ্যে বনরুটিগুলো বহন করা হচ্ছিল। তবে প্যাকেটের গায়ে উল্লেখিত উৎপাদন তারিখ দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। কারণ, গাড়ি আটক হওয়ার দিন ছিল ৫ জুন, অথচ অধিকাংশ বনরুটির মোড়কে উৎপাদন তারিখ লেখা ছিল ‘০৬ জুন ২০২৬’।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্ত। তিনি বনরুটির প্যাকেট পরিদর্শন করে অগ্রিম উৎপাদন তারিখ ব্যবহারের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানান।

ইউএনও অর্ণব দত্ত বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিপুল পরিমাণ বনরুটি ভর্তি একটি গাড়ি আটক করা হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, এগুলো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা হচ্ছিল। কিন্তু প্যাকেটের গায়ে পরদিনের উৎপাদন তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া একটি ক্যাশ মেমোতে প্রায় ২৯ হাজার পিস বনরুটির হিসাব পাওয়া গেছে।

এদিকে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বনরুটিগুলো এখনো কোনো বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেনি। ফলে সময়মতো বিষয়টি শনাক্ত হওয়ায় সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

ঘটনার পর সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ গাড়িটি জব্দ করেছে। চালক ও হেলপারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। বনরুটি ও গাড়িটি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

ইউএনও অর্ণব দত্ত বলেন, “কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত কোনো ধরনের অনিয়ম, প্রতারণা বা জালিয়াতি বরদাশত করা হবে না। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ঘটনার পর অভিভাবক, শিক্ষক ও সচেতন মহলের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা সরকারি খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় কঠোর তদারকি, মান নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

সম্পাদকীয় :

 সম্পাদক ও প্রকাশক : এসএম শহীদ উল্লাহ, নির্বাহী সম্পাদক : শারমিন সুলতানা, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এসকে তমিজ উদ্দিন

অফিস : ১৯৩/১ (৩য় তলা) মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল : 01753492430, ই-মেইল : ajkerawaz73@gmail.com

অফিস :