বিশ্বখ্যাত ব্রডওয়ে মঞ্চ কাঁপানো এক তরুণ প্রতিভার অকাল প্রয়াণে শোকস্তব্ধ আন্তর্জাতিক বিনোদন জগৎ। মাত্র ২৫ বছর বয়সেই না-ফেরার দেশে চলে গেলেন মার্কিন অভিনেত্রী ইমানি ডিয়া স্মিথ (Imani Dea Smith)। তবে এটি কেবল স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। গত ২১ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির একটি বাসভবন থেকে এই অভিনেত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে জানা গেছে, নিজের দীর্ঘদিনের প্রেমিকের হাতেই প্রাণ দিতে হয়েছে এই সম্ভাবনাময় তারকাকে।
রক্তাক্ত উদ্ধার ও চিকিৎসকদের ব্যর্থ চেষ্টা
পুলিশি সূত্র মারফত জানা গেছে, ঘটনার দিন স্থানীয় প্রশাসনের কাছে একটি ‘Emergency Call’ আসে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ইমানিকে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে। অভিনেত্রীর শরীরে একাধিক ‘Sharp-force injuries’ বা ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলে থাকা ‘First Responders’ তাকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি; চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গ্রেফতার ঘাতক প্রেমিক: নেপথ্যে কী কারণ?
এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে ইমানির প্রেমিক জর্ডন ডি জ্যাকসন-স্মলকে (Jordan D. Jackson-Small) ইতোমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে সরাসরি খুনের (Homicide) অভিযোগ আনা হয়েছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, ইমানি ও জর্ডন দীর্ঘদিনের পরিচিত ছিলেন। কোনো ব্যক্তিগত কলহ বা ‘Relationship Dispute’ থেকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত কি না, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
‘দ্য লায়ন কিং’ ও ইমানির উজ্জ্বল ক্যারিয়ার
ইমানি ডিয়া স্মিথ বিশ্ব বিনোদন অঙ্গনে অত্যন্ত পরিচিত মুখ ছিলেন। বিশ্বখ্যাত ‘Disney’ অ্যানিমেটেড ফিল্মের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত কালজয়ী ব্রডওয়ে নাটক ‘The Lion King’-এ শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করে তিনি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। আফ্রিকান সংস্কৃতির আদলে তৈরি পোশাক ও সেট দিয়ে সাজানো এই প্রোডাকশনটি ব্রডওয়ের ইতিহাসের অন্যতম ‘Highest-grossing’ বা ব্যবসায়িক সফল কাজ হিসেবে স্বীকৃত। ইমানির সাবলীল অভিনয় তাকে অতি অল্প সময়েই দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে দিয়েছিল।
মাতৃত্ব ও শোকের ছায়া
ব্যক্তিগত জীবনে ইমানি ছিলেন তিন বছরের এক শিশু সন্তানের জননী। তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার, সহকর্মী এবং ভক্ত-অনুরাগীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) তার সহকর্মীরা শোক প্রকাশ করে বলছেন, এটি কেবল একটি প্রাণ হারানো নয়, বরং শিল্পের জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি। হলিউড তথা মার্কিন বিনোদন অঙ্গনে অপরাধের এই ক্রমবর্ধমান গ্রাফ নিয়ে আবারও শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার মোটিভ (Motive) উদ্ঘাটনে তারা নিবিড়ভাবে তদন্ত চালাচ্ছেন। এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের এভাবে অকালে ঝরে পড়া কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না ব্রডওয়ে কমিউনিটি।