• দেশজুড়ে
  • ঈদযাত্রায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে চরম ভোগান্তির আশঙ্কা: সচল মাত্র ৩টি ঘাট, বেহাল অবকাঠামো

ঈদযাত্রায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে চরম ভোগান্তির আশঙ্কা: সচল মাত্র ৩টি ঘাট, বেহাল অবকাঠামো

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
ঈদযাত্রায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে চরম ভোগান্তির আশঙ্কা: সচল মাত্র ৩টি ঘাট, বেহাল অবকাঠামো

পদ্মা সেতু চালুর পরও কমেনি গুরুত্ব; তবে ফেরি স্বল্পতা, নাব্যতা সংকট ও ভঙ্গুর ব্যবস্থাপনায় বিপাকে পড়তে পারেন কয়েক লাখ ঘরমুখো মানুষ।

রাজবাড়ী: পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। তবে প্রতিবছরের মতো এবারও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার অন্যতম প্রবেশদ্বার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ঈদযাত্রায় চরম ভোগান্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফেরিঘাটের তীব্র সংকট, অ্যাপ্রোচ রোডের বেহাল দশা, নাব্যতা সংকট এবং প্রশাসনিক দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে এই নৌরুট ব্যবহারকারী যাত্রী ও চালকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ।

জরাজীর্ণ অবকাঠামো ও ঘাটের সংকট পদ্মা সেতু চালুর পর এই রুটে যানবাহনের চাপ কিছুটা কমলেও ঈদের সময় চিত্রটি সম্পূর্ণ বদলে যায়। সরেজমিনে দেখা গেছে, দৌলতদিয়া প্রান্তে থাকা মোট ৭টি ফেরিঘাটের মধ্যে বর্তমানে সচল রয়েছে মাত্র ৩টি (ঘাট নম্বর ৩, ৪ ও ৭)। বাকি ৪টি ঘাট গত কয়েক বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সচল থাকা ঘাটগুলোর অবস্থাও তথৈবচ। ফেরি থেকে নামার পর মূল সড়কে ওঠার সংযোগ সড়কগুলো ধুলোবালি ও খানাখন্দে জর্জরিত। এতে পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাস চলাচলে যেমন সময় বেশি লাগছে, তেমনি ‘Mechanical Breakdown’-এর ঝুঁকিও বাড়ছে।

পদ্মার নাব্যতা ও পন্টুনের জটিলতা মার্চের মাঝামাঝিতে পদ্মার পানি কমে যাওয়ায় নদীর তলদেশে অসংখ্য ডুবোচর জেগে উঠেছে। এর ফলে ফেরি চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। বিশেষ করে দৌলতদিয়া প্রান্তে পন্টুন থেকে নদীর পানির স্তর অনেক নিচে নেমে যাওয়ায় পন্টুনের সংযোগ সড়ক বা র‍্যাম্প (Ramp) অত্যন্ত খাড়া হয়ে পড়েছে। ভারী যানবাহন বিশেষ করে তেলবাহী লরি বা বড় বাসগুলো পন্টুন থেকে ওপরে ওঠার সময় মাঝপথেই ফেঁসে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ‘Wrecker’ বা র‍্যাকার দিয়ে গাড়ি টেনে তুলতে হচ্ছে, যা ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটের সৃষ্টি করছে।

যাত্রী নিরাপত্তা ও অতিরিক্ত ভাড়ার আতঙ্ক ভুক্তভোগী যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, প্রতি ঈদেই এই রুটে সক্রিয় হয়ে ওঠে বিশাল এক সিন্ডিকেট। বাস মালিক সমিতি ও স্থানীয় ছোট যানবাহনের চালকরা মিলে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করে। এছাড়া ঘাটে পর্যাপ্ত আলোর অভাব এবং নষ্ট হয়ে পড়ে থাকা ‘CCTV Camera’ বা ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার সুযোগ নিয়ে ছিনতাইকারী ও পকেটমারদের দৌরাত্ম্য বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘Monitoring’ জোরদার না করলে সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

বিআইডব্লিউটিসি ও পুলিশের প্রস্তুতি এতসব সংকটের মাঝেও আশার কথা শুনিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিআইডব্লিউটিসি (BIWTC) দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. সালাহউদ্দিন জানিয়েছেন, "ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে এবার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে মোট ১৬টি ফেরি চলাচল করবে। বর্তমানে ৩টি ঘাট সচল থাকলেও ঈদের আগে প্রয়োজনীয় মেরামত কাজ সম্পন্ন করা হবে।"

অন্যদিকে, আইন-শৃঙ্খলার বিষয়ে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ বলেন, "ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের বিশেষ ‘Security Plan’ গ্রহণ করা হয়েছে। ঘাটে মোবাইল পেট্রোল, ফিক্সড চেকপোস্ট এবং সাদা পোশাকে ডিবি পুলিশ মোতায়েন থাকবে। এছাড়া নৌ-পুলিশের বিশেষ টিম সার্বক্ষণিক জলপথে টহলে থাকবে।"

তবে সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের মতে, কেবল পরিকল্পনা নয়, মাঠ পর্যায়ে দ্রুত অবকাঠামো সংস্কার এবং চাঁদাবাজি বন্ধ করতে না পারলে এবারও দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট ‘মরণফাঁদ’ হিসেবেই থেকে যাবে।