মাহে রমজান উপলক্ষে যশোরের একটি মসজিদে এবার একসাথে ১৭০০ মুসল্লি ইতিকাফে বসেছেন। তাদের মধ্যে ৭৫ জন বিদেশি নাগরিক। বিশ্বের নানা প্রান্তের আটটি দেশ থেকে এসেছেন এসব মুসল্লি।
মুমিনরা ইতিকাফে বসেন সাধারণত রমজান মাসের শেষ দশকে।
এটিকে সুন্নত ইতিকাফ (সুন্নতে মুয়াক্কাদা) বলে। নফল ইতিকাফে (বছরের যে কোন সময়) এই ইবাদত করা যায়। যশোরের আশরাফুল সাদারিস কম্পাউন্ডে অবস্থিত মসজিদে প্রথম রমজান থেকেই নফল ইতিকাফে বসার জন্য হাজির হতে থাকেন বিপুল মুসল্লি। সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের সতিঘাটা এলাকার এই মসজিদটিতে দিন যাওয়ার সাথে সাথে ইতিকাফে বসা মুসল্লির সংখ্যা বাড়তে থাকে।
সর্বশেষ এই মসজিদে এক হাজার সাতশ মুসল্লি ইতিকাফে বসেছেন। তাদের মধ্যে বিশ্বের নানা প্রান্তের আটটি দেশ থেকে এসেছেন ৭৫ জন। তারা এসেছেন ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমার, সিঙ্গাপুর, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, আমেরিকা এবং পানামা থেকে।
মসজিদের পরিচালনা কর্তৃপক্ষ আশরাফুল মাদারিসের মহাপরিচালক মাওলানা নাসীরুল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেছেন, দেশে বেশ কয়েক বছর এমন বড় পরিসরে ইতিকাফ হচ্ছে।
তাদের মসজিদে এতবড় পরিসরে প্রথম ইতিকাফ বসে ২০২৩। তিনি জানান, এর আগে-পরে ঢাকা-নারায়নগঞ্জ লিংক রোডের সাইনবোর্ড, চট্ট্রগ্রাম, সিলেট, বগুড়া, যশোরের মাছনা মাদরাসা-সংলগ্ন মসজিদ প্রভৃতি স্থানে এমন বড় পরিসরে ইতিকাফে বসেছেন মুসল্লিরা।
আশরাফুল মাদারিসের বিশাল কম্পাউন্ডের পশ্চিম-উত্তর অংশে রয়েছে চারতলাবিশিষ্ট একটি সুপরিসর মসজিদ। এই মসজিদটিতে একযোগে সহস্রাধিক মুসল্লি ইতিকাফ করতে পারেন অনায়াসে।
আশরাফুল মাদারিসের শিক্ষা সচিব হাফেজ মাওলানা সাব্বির আহমাদ গণমাধ্যমকে জানান, শায়খুল হাদিস মাহমুদুল হাসান গাঙ্গুরির (র.) সিলসিলার অনুসারীরাই মূলত এখানকার ইতিকাফে শামিল হন।
দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক শায়খ ইবরাহিম আফ্রিকি এখন এই সিলসিলার প্রধান ব্যক্তিত্ব। এই বুজুর্গ যেখানে যান, দেশে-বিদেশের উলামা ও অনুসারীরা সেখানে ছুটে যান তার সান্নিধ্য পেতে। এবার যশোরের আশরাফুল মাদারিস প্রাঙ্গণের মসজিদে এসেছেন শেখ ইবরাহিম আফ্রিকি।
ফলে, দেশের ৬৪ জেলার সবক’টি তো বটেই, বিদেশ থেকেও তার অনুসারীরা এসে হাজির হয়েছেন এখানে। ইতিকাফ চলাকালে নামাজের আগে শেখ ইবরাহিম আফ্রিকিসহ দেশ-বিদেশের প্রখ্যাত আলেমরা নসিহত পেশ করছেন। অন্য ভাষায় দেওয়া নসিহত অথবা জুমার খুতবা বাংলায় তর্জমা করে দেওয়া হয় মুসল্লিদের বোঝার সুবিধার্থে।
বিপুল সংখ্যক এই মুসল্লির ইতিকাফ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে মাদরাসা ও মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে। সেহরি, ইফতারি ও রাতের খাবার আয়োজন করা হয় তাদের নিজস্ব কম্পাউন্ডে।
মাদরাসার শিক্ষক ও স্টাফ এবং এক হাজার ৮০০ শিক্ষার্থীর উল্লেখযোগ্য অংশ এই স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করছেন। কম্পাউন্ডের নির্দিষ্ট স্থানে খাদ্য প্রস্তুতের সুবিশাল আয়োজন করা হয়েছে।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, বাংলাদেশি মুসল্লিদের জন্য যে খাবারের আয়োজন করা হয়, বিদেশিরা তা খেতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। সে কারণে তাদের নিজ দেশের মানুষের খাদ্যাভাস অনুযায়ী খাদ্য প্রস্ততের চেষ্টা করা হয়।
যশোর শহরের দড়াটানা মসজিদের খতিব মুহাদ্দিস মুফতি আমানুল্লাহ কাসেমী বলেন, ইতিকাফে বসা মুসল্লিদের খেদমতে যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে এখানকার খানকায়ে মাহমুদিয়ার ব্যবস্থাপনায়।