• খেলা
  • `ফাইন টাচেও’ নিষ্প্রভ আফিফের ব্যাট

`ফাইন টাচেও’ নিষ্প্রভ আফিফের ব্যাট

খেলা ১ মিনিট পড়া
`ফাইন টাচেও’ নিষ্প্রভ আফিফের ব্যাট

প্রায় দেড় বছর পর পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজদিয়ে জাতীয় দলে ফিরেছিলেন আফিফ হোসেন। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের মিডল অর্ডার প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে না পারায় সেই জায়গা থেকেই তাকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেয় টিম ম্যানেজমেন্ট।

যদিও ঘরোয়া ক্রিকেটে খুব একটা আলো ছড়াতে পারেননি আফিফ। বিসিএলে একটি সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন বটে, কিন্তু সেই সেঞ্চুরি নিয়েও আছে প্রশ্ন!

তবু প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু তাকে দেখেছিলেন দলের জন্য ‘ফাইন টাচ’ হিসেবে।

তার অভিজ্ঞতা নতুন করে কাজে লাগবে, এমন প্রত্যাশাই ছিল নির্বাচকদের। কিন্তু তিন ম্যাচের সিরিজে দুই ম্যাচে সুযোগ পেয়ে আফিফ যা দেখালেন, তা বেশ হতাশাজনকই। পাকিস্তান সিরিজের আগে গত ফেব্রুয়ারিতে ওয়ানডে ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হয় বিসিএল। সেই টুর্নামেন্টের একটি ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন আফিফ।

তবে হাফ সেঞ্চুরির পর দুইবার জীবন পান তিনি। মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ও নাঈম শেখ দুজনের ভুলেই নতুন জীবন পান আফিফ। সেই সুযোগ পেয়েও হয়তো সেঞ্চুরি পাওয়া কঠিন হয়ে যেত, যদি না শেষ দিকে নাঈম শেখ যেন ইচ্ছে করেই বলটাকে বাউন্ডারি লাইন টাচ করতে দিলেন! জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল দুই রানের। সেঞ্চুরির জন্য তখন বড় শট দরকার ছিল আফিফের।

তিনি পুল করে বল সীমানার দিকে পাঠান। সেখানে থাকা নাঈম সহজ বলটি ছেড়ে দিলে বল গড়িয়ে বাউন্ডারি পার হয়। তাতেই আফিফের সেঞ্চুরির সঙ্গে সাউথ জোনের জয়ও নিশ্চিত হয়ে যায়। মূলত সেই ইনিংসের পরই প্রায় দেড় বছর পর জাতীয় দলে সুযোগ পান আফিফ। এর আগে টানা ম্যাচ খেলেও আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি তিনি।

টানা ১৪ ওয়ানডেতে হাফ সেঞ্চুরি করা আফিফ ২০২৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের পর দল থেকে বাদ পড়েন। একই সিরিজে টি-টোয়েন্টি দল থেকেও ছিটকে যান। টানা ৬২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার পরও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে স্থায়ী জায়গা করে নিতে না পারার বিরল রেকর্ডও রয়েছে তার ঝুলিতে। জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পর ঘরোয়া ক্রিকেটেও খুব বেশি নজরকাড়া পারফরম্যান্স ছিল না আফিফের। সর্বশেষ বিসিএলে তিনি খেলেছেন মাত্র একটি ইনিংস। তবু সেই পারফরম্যান্সেই তাকে নিয়ে আশাবাদী হয়ে ওঠেন নির্বাচকরা। ১০৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতার কথাও সামনে আনা হয়।

আফিফকে দলে ফেরানো প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচক লিপু বলেছিলেন, ‘আমরা মিডল অর্ডারে বেশ কিছু খেলোয়াড়কে সুযোগ দিয়েছিলাম, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাদের মধ্যে কয়েকজন নিজেদের জায়গা ধরে রাখার মতো পারফরম্যান্স করতে পারেনি। সেই ভাবনা থেকেই আফিফ হোসেনকে দলে ফেরানো হয়েছে। সে অভিজ্ঞ এবং বর্তমানে ভালো ফর্মে আছে।’

তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে আফিফের মাঠে নামতেই প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির ফারাকটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সিরিজের প্রথম ম্যাচে খেলার সুযোগ পাননি আফিফ। দ্বিতীয় ম্যাচে সুযোগ পেয়ে ১৫ বলে করেন ১৪ রান। ইনিংসটি দেখে মনে হয়েছে, বেশ অস্বস্তি নিয়েই ব্যাটিং করছিলেন তিনি। পুরো সময়টাই যেন ছন্দ খুঁজে পেতে লড়াই করেছেন।

সেই অস্বস্তি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে সিরিজের শেষ ম্যাচে। দুই ওপেনার ১০৫ রানের জুটি গড়লেও বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত তিনশ পার করতে পারেনি। বাকি রান তুলতে গিয়ে চাপে পড়ে যায় দল। লিটন, তাওহীদ ও আফিফদের পরিকল্পনাহীন ব্যাটিং সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়। রবিবার কিছুটা নিচের দিকে ব্যাটিং করতে নামেন আফিফ। রিশাদকে আগে পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু তিনি গোল্ডেন ডাক হলে ক্রিজে নামেন আফিফ। স্লগ ওভারে ৮ বল খেলে তাকে বেশ অস্বস্তিতে দেখা যায়। মনে হচ্ছিল, কোনোভাবে উইকেট টিকিয়ে রাখতেই ব্যস্ত তিনি। আগের ম্যাচের মতোই ছন্দহীন ছিল তার ব্যাটিং। কী করতে চাইছিলেন, সেটাও স্পষ্ট ছিল না।

প্রধান নির্বাচকের ‘ফাইন টাচ’ হিসেবে দলে ফেরানো আফিফের এমন ব্যাটিং তাই অবাকই করেছে অনেককে। দেড় বছর পর জাতীয় দলে ফেরা এই ব্যাটার নিউজিল্যান্ড সিরিজে জায়গা ধরে রাখতে পারবেন কি না—এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।

Tags: ফাইন টাচেও নিষ্প্রভ আফিফের ব্যাট