ধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এখন খাদের কিনারায়। দীর্ঘদিনের ছায়াযুদ্ধ ছাপিয়ে সরাসরি সংঘাতে লিপ্ত ইরান ও ইসরায়েল। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (১৬ মার্চ) ভোরে ইরানের রাজধানী তেহরানে বড় ধরনের বিমান হামলা (Airstrike) শুরু করেছে দখলদার ইসরায়েলি বিমানবাহিনী। বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযানের খবর নিশ্চিত করেছে।
পাল্টাপাল্টি হামলায় রণক্ষেত্র তেহরান মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সোমবার ভোরে ইরান থেকে ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে বেশ কিছু শক্তিশালী মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়। এর ঠিক কয়েক মিনিটের মাথায় ‘Retaliation’ বা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তেহরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান। রাজধানীর কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু হামলা চালানো হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তেহরানের আকাশে দফায় দফায় বিস্ফোরণ ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যাচ্ছে, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
'টার্গেট' সন্ধানে ইসরায়েলি গোয়েন্দা ও বিমানবাহিনী ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো প্রতি মুহূর্তে ইরানের অভ্যন্তরে নতুন নতুন 'Strategic Targets' বা কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু খুঁজে বের করছে। এর আগে তারা দাবি করেছিল যে, ইরানের অভ্যন্তরে কয়েক হাজার সামরিক অবকাঠামো ও স্থাপনায় তারা সফলভাবে হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র এবং ড্রোন কন্ট্রোল ইউনিটগুলোকে ‘Precision Strike’-এর মাধ্যমে ধ্বংস করার দাবি করছে ইসরায়েল।
তৃতীয় সপ্তাহে সংঘাত: নেপথ্যে ২৮ ফেব্রুয়ারির সেই হামলা বর্তমান এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। সেদিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক বাহিনী ইরানে বড় ধরনের সাঁড়াশি অভিযান চালায়। এরপর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। যুদ্ধ এখন তৃতীয় সপ্তাহে পদার্পণ করেছে এবং দিন দিন এর তীব্রতা বাড়ছে। ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের দাবি, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রভাব খর্ব করতেই এই ‘Military Operation’ পরিচালনা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানের কেন্দ্রস্থলে এই ধরণের প্রত্যক্ষ হামলা ইরানকে একটি বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের (Regional War) দিকে ঠেলে দিতে পারে। পারস্য উপসাগরে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এই যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তেহরানে হামলার পর ইরান কতটুকু ‘Counter-attack’ বা পাল্টা আঘাত হানতে সক্ষম হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামীর বিশ্ব পরিস্থিতি।