বয়স ষাট ছুঁইছুঁই, কিন্তু পর্দার আবেদন বা শারীরিক ফিটনেসে এখনো তরুণদের টেক্কা দিতে পারেন তিনি। কথা হচ্ছে বলিউড মেগাস্টার আমির খানকে নিয়ে। সম্প্রতি তার নতুন লুক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই চলছে তুমুল আলোচনা। জিম বা ভারী কোনো শরীরচর্চা ছাড়াই মাত্র কয়েক মাসে ১৮ কেজি ওজন কমিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। তবে এই রূপান্তরের নেপথ্যে কোনো ম্যাজিক নয়, বরং কাজ করেছে বিজ্ঞানের এক বিশেষ খাদ্যাভ্যাস।
ব্যায়াম ছাড়াই আমূল ভোলবদল
বলিউডে আমির খান মানেই ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’। চরিত্রের প্রয়োজনে ওজন বাড়ানো বা কমানোর ক্ষেত্রে তার জুড়ি নেই। তবে এবারের পরিবর্তনটি ছিল একেবারেই আলাদা। হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমির জানিয়েছেন, গত কয়েক মাসে তিনি এক চিমটিও ব্যায়াম করেননি। অথচ তার শরীর থেকে ঝরে গেছে ১৮ কেজি মেদ। এর রহস্য লুকিয়ে আছে তার ‘অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি’ (Anti-inflammatory) বা প্রদাহ-বিরোধী ডায়েটে।
লক্ষ্য ছিল মাইগ্রেন মুক্তি, বোনাস ওজন হ্রাস
আশ্চর্যের বিষয় হলো, ওজন কমানো আমিরের মূল উদ্দেশ্য ছিল না। অভিনেতা দীর্ঘ সময় ধরে যন্ত্রণাদায়ক মাইগ্রেনের সমস্যায় ভুগছিলেন। এই দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক কষ্ট থেকে মুক্তি পেতেই তিনি বিশেষ এই ডায়েট শুরু করেন। আমির বলেন, “আমি মাইগ্রেনের চিকিৎসার জন্য এই ডায়েট শুরু করেছিলাম। কিন্তু দেখলাম, শরীরের ওজন নিজে থেকেই ১৮ কেজি কমে গেছে। বর্তমানে আমার মাইগ্রেনের সমস্যাও অনেক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।” মূলত সুস্থ থাকার চেষ্টা করতে গিয়েই তিনি ফিরে পেয়েছেন তার কাঙ্ক্ষিত তারুণ্য।
বিজ্ঞানের চোখে প্রদাহ-বিরোধী ডায়েট
পুষ্টিবিদদের মতে, শরীরে ‘ক্রনিক ইনফ্ল্যামেশন’ (Chronic Inflammation) বা দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ তৈরি হলে ইনসুলিন (Insulin) ও লেপটিন (Leptin) হরমোনের কার্যকারিতা ব্যাহত হয়। এর ফলে শরীরে মেদ জমার প্রবণতা বেড়ে যায় এবং বিপাক হার বা মেটাবলিজম (Metabolism) কমে যায়। অতিরিক্ত চিনি, প্রক্রিয়াজাত খাবার (Processed Food) এবং মানসিক চাপের ফলে এই প্রদাহ সৃষ্টি হয়। আমির যখন ডায়েটে পরিবর্তন এনে শরীর থেকে এই প্রদাহ দূর করলেন, তখন শরীরের বাড়তি মেদ প্রাকৃতিকভাবেই গলতে শুরু করে। উল্লেখ্য, এর আগে বলিউড অভিনেত্রী বিদ্যা বালানও একই পদ্ধতিতে চমকপ্রদভাবে ওজন কমিয়েছিলেন।
খাবার তালিকা থেকে যা বাদ দিয়েছেন আমির
নিজেস্ব ডায়েট চার্ট (Diet Chart) থেকে আমির খান বেশ কিছু খাবার কঠোরভাবে বর্জন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে:
চিনিযুক্ত পানীয়: কোল্ড ড্রিংকস বা কৃত্রিম চিনিযুক্ত প্যাকেটজাত জুস।
রিফাইন অয়েল: সয়াবিন তেল বা অত্যন্ত পরিশোধিত তেল।
প্রক্রিয়াজাত খাবার: ফাস্ট ফুড, প্রক্রিয়াজাত মাংস বা সসেজ।
দুগ্ধজাত পণ্য: দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার পুরোপুরি এড়িয়ে চলেছেন তিনি।
সাদা আটা ও চাল: ময়দা বা সাদা চালের পরিবর্তে ঘরোয়া স্বাস্থ্যকর শস্য বেছে নিয়েছেন।
জীবনযাত্রায় পরিবর্তনই আসল চাবিকাঠি
আমির খানের এই রূপান্তর প্রমাণ করে যে, কেবল জিমে গিয়ে ঘাম ঝরানোই ফিটনেসের একমাত্র পথ নয়। বরং সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও শরীরের অভ্যন্তরীণ কলকব্জা ঠিক রাখলে ঘরোয়াভাবেই ওজন নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। ঘরোয়া এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে আমির যে উদাহরণ তৈরি করেছেন, তা এখন অনেক স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৬০ বছর বয়সে এসেও তার এই লীন অ্যান্ড ফিট (Lean and Fit) লুক আবারও প্রমাণ করল—কেন তিনি বলিউডের সেরাদের সেরা।