• বিনোদন
  • রহস্যময়ী সিয়েনা রোজ কি তবে রক্ত-মাংসের মানুষ নন? মিউজিক চার্টে ঝড় তোলা গায়িকার নেপথ্যে কি ‘এআই’?

রহস্যময়ী সিয়েনা রোজ কি তবে রক্ত-মাংসের মানুষ নন? মিউজিক চার্টে ঝড় তোলা গায়িকার নেপথ্যে কি ‘এআই’?

বিনোদন ১ মিনিট পড়া
রহস্যময়ী সিয়েনা রোজ কি তবে রক্ত-মাংসের মানুষ নন? মিউজিক চার্টে ঝড় তোলা গায়িকার নেপথ্যে কি ‘এআই’?

সোশ্যাল মিডিয়ায় নেই উপস্থিতি, অথচ স্পটিফাইতে মাসিক শ্রোতা ৩০ লাখ; জ্যাজ ও সোল ঘরানার এই নতুন তারকার গানের গভীরে লুকিয়ে থাকা যান্ত্রিক ত্রুটি জন্ম দিচ্ছে বড় প্রশ্নের।

বর্তমান ডিজিটাল যুগে রাতারাতি তারকা বনে যাওয়া নতুন কিছু নয়। কিন্তু একজন গায়িকা, যার কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নেই, নেই কোনো লাইভ কনসার্ট বা মিউজিক ভিডিওর অস্তিত্ব, অথচ তিনি মিউজিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোর ‘Viral Top 50’ তালিকায় রাজত্ব করছেন—এমন ঘটনা সত্যিই বিস্ময়কর। রহস্যময়ী এই গায়িকার নাম সিয়েনা রোজ। অল্পদিনেই শ্রোতাদের পছন্দের শীর্ষে উঠে আসা এই শিল্পীকে ঘিরে এখন বিশ্বজুড়ে জোর গুঞ্জন—সিয়েনা রোজ কি আসলেই কোনো মানুষ, নাকি নিছক একটি ‘AI’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সৃষ্টি?

অবিশ্বাস্য উত্থান ও অভাবনীয় ‘Song Output’

সিয়েনা রোজের জনপ্রিয়তা কোনো সাধারণ মাপকাঠিতে মাপা কঠিন। জনপ্রিয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম স্পটিফাই-তে (Spotify) তাঁর মাসিক শ্রোতার সংখ্যা বর্তমানে প্রায় তিন মিলিয়ন বা ৩০ লাখ। তাঁর ‘Into the Blue’ গানটি ইতিমধ্যে ৫০ লাখবারের বেশি শোনা হয়েছে। কিন্তু গোলযোগ বেঁধেছে তাঁর গান প্রকাশের গতি নিয়ে।

তথ্যমতে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে তিনি অন্তত ৪৫টি গান আপলোড করেছেন। সঙ্গীত জগতের কিংবদন্তি প্রিন্স (Prince), যিনি তাঁর বিরামহীন সৃষ্টির জন্য পরিচিত ছিলেন, তাঁর পক্ষেও এত অল্প সময়ে এতগুলো ‘High-Quality’ গান প্রকাশ করা কার্যত অসম্ভব ছিল। এই বিশাল ‘Data Output’ মূলত ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই সৃজনশীলতার নেপথ্যে কোনো মানব মস্তিষ্কের চেয়ে ‘Machine Learning’ অ্যালগরিদম বেশি সক্রিয়।

প্রযুক্তির চোখে ধরা পড়া ‘এআই’ সিগনেচার

মিউজিক স্ট্রিমিং জায়ান্ট ‘ডিজার’ (Deezer) সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি গান শনাক্ত করার জন্য একটি বিশেষ টুল বা সফটওয়্যার তৈরি করেছে। তাদের গবেষণায় সিয়েনা রোজের অধিকাংশ অ্যালবাম ও গান ‘Computer-Generated’ হিসেবে ধরা পড়েছে। জ্যাজ ও সোল ঘরানার এই গানগুলো শুনতে অনেকটা নোরা জোনস বা অ্যালিসিয়া কিজের মতো মসৃণ মনে হলেও, কারিগরি বিশ্লেষণে বেরিয়ে এসেছে অন্য তথ্য।

ডিজারের গবেষক গ্যাব্রিয়েল মেসগের-ব্রোকাল বিবিসিকে জানিয়েছেন, সুনো (Suno) বা উডিও (Udio)-র মতো ‘AI’ অ্যাপগুলোতে গান তৈরির সময় একটি বিশেষ ধরনের ‘White Noise’ বা ঝিরঝিরে শব্দ তৈরি হয়। সিয়েনা রোজের ‘Breathe Again’ বা ‘Under the Rain’ গানগুলোতে কান পাতলেই এক অদ্ভুত যান্ত্রিক হিশহিশ শব্দ শোনা যায়। গবেষকদের মতে, এটি আসলে সফটওয়্যারের নিজস্ব ‘Mathematical Signature’, যা গান তৈরির সময় নিখুঁতভাবে মুছে ফেলা সম্ভব হয় না।

রহস্যময় ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট ও ‘Uncanny Valley’

সিয়েনা রোজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ইন্টারনেটে কোনো তথ্য নেই। তাঁর একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট সচল থাকলেও বর্তমানে সেটি বন্ধ। সেখানে থাকা ছবিগুলো ভালো করে লক্ষ্য করলে ‘AI-Generated Images’-এর চিরচেনা বৈশিষ্ট্যগুলো ধরা পড়ে—অস্বাভাবিক আলো, অবাস্তব শারীরিক গঠন এবং এক ধরনের যান্ত্রিক শূন্যতা, যাকে প্রযুক্তির ভাষায় ‘Uncanny Valley’ বলা হয়। কোনো রক্ত-মাংসের মানুষের অনুপস্থিতিতে এমন একটি ‘Digital Persona’ তৈরি করা এখনকার ‘Deepfake’ প্রযুক্তির যুগে খুবই সহজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শ্রোতা ও সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া

টিকটকের জনপ্রিয় মিউজিক সমালোচক ‘এলোসি৫৭’ বলেন, “শুরুতে সিয়েনার গানগুলো আমার বেশ ভালো লেগেছিল। কিন্তু বারবার শোনার পর মনে হলো এর মধ্যে প্রাণের অভাব রয়েছে, সবকিছু যেন বড্ড বেশি খাপছাড়া।” এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একজন শ্রোতা লিখেছেন, “স্পটিফাই আমাকে সিয়েনা রোজের গান সাজেস্ট করেছিল। সুরগুলো মাখনের মতো মসৃণ হলেও কয়েকটা গান শোনার পরই বুঝলাম এটি আসলে যান্ত্রিক বা ‘Mechanical’। মানুষের গলার যে স্বাভাবিক সূক্ষ্ম চড়াই-উতরাই থাকে, তা এখানে অনুপস্থিত।”

সঙ্গীত শিল্পের নতুন সংকট?

সিয়েনা রোজের এই ঘটনাটি মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে ‘Job Creation’ এবং সৃজনশীলতার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে। যদি ‘Tech Giant’ কোম্পানিগুলো বা কোনো ব্যক্তি স্রেফ এআই ব্যবহার করে এভাবে চার্ট দখল করে নেয়, তবে প্রকৃত মেধাবী শিল্পীরা অস্তিত্ব সংকটে পড়বেন। অ্যালগরিদমের মাধ্যমে মিউজিক চার্ট ম্যানিপুলেট করার এই প্রবণতা সঙ্গীত জগতের নৈতিকতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে।

সিয়েনা রোজ কেবল একজন গায়িকা নন, তিনি এখন একটি রহস্যময় ‘Case Study’। প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় একজন কাল্পনিক সত্তা কীভাবে বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ শ্রোতার কানে পৌঁছে যেতে পারে, তিনি তারই উদাহরণ। শেষ পর্যন্ত প্রমাণিত হলে এটি হবে মিউজিক স্ট্রিমিং ইতিহাসের অন্যতম বড় ‘Digital Hoax’ বা ডিজিটাল প্রতারণা।

Tags: music industry artificial intelligence machine learning sienna rose ai music spotify viral digital identity streaming charts tech mystery deepfake voice