• জাতীয়
  • গ্যাস-পানি সংকটে ঢাকা-৫, নবীন কামালের মুখোমুখি প্রবীণ নবী

গ্যাস-পানি সংকটে ঢাকা-৫, নবীন কামালের মুখোমুখি প্রবীণ নবী

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
গ্যাস-পানি সংকটে ঢাকা-৫, নবীন কামালের মুখোমুখি প্রবীণ নবী

ঢাকা-৫ আসনে প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা ছাপিয়ে ভোটারদের কণ্ঠে উঠে আসছে তাদের নিজস্ব সমস্যার কথা।

গ্যাস, পানি ও জলাবদ্ধতা সংকটের সমাধান চান ভোটাররা। তাদের দাবি, যিনি এসব সমস্যার সমাধান করতে পারবেন, তিনিই ভোট পাবেন। তবে কেউ কেউ বলছেন, বিএনপির প্রার্থী এই আসনে আগেও একবার নির্বাচন করেছেন এবং এলাকার একজন প্রবীণ ব্যক্তিত্ব। অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী নতুন মুখ। সে ক্ষেত্রে বিএনপির প্রার্থী কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন।

সীমানা ও ভোটার জাতীয় সংসদের ১৭৮ নম্বর আসন। রাজধানীর দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থিত প্রায় সাড়ে চার লাখ ভোটারের এই আসনে সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীকে শক্তভাবে লড়তে হচ্ছে তাদের একসময়ের মিত্র জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর বিরুদ্ধে। তবে এই দুজনের বাইরে ভোটারদের আলোচনায় রয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা মার্কার প্রার্থীও।

ঢাকা-৫ আসনে প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা ছাপিয়ে ভোটারদের কণ্ঠে উঠে আসছে তাদের নিজস্ব সমস্যার কথা। ডেমরা-যাত্রাবাড়ী এলাকার এই আসনটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪৮, ৪৯, ৫০, ৬২, ৬৩, ৬৪, ৬৫, ৬৬, ৬৭, ৬৮, ৬৯ ও ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের সমন্বয়ে গঠিত। এই আসনে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৪ হাজার ৫৯৪ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৩৯৭ জন। তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার রয়েছেন ৫ জন।

সব মিলিয়ে মোট ভোটার সংখ্যা চার লাখ ১৯ হাজার ৯৯৬ জন। প্রার্থী যারা

এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ১১ জন প্রার্থী। তারা হলেন— গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক মার্কার প্রার্থী সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কাস্তে মার্কার প্রার্থী তোফাজ্জল হোসেন মোস্তফা, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের ছড়ি মার্কার প্রার্থী মো. তাইফুর রহমান রাহী, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)-এর কাঁচি মার্কার প্রার্থী শাহিনুর আক্তার সুমি, ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. ইবরাহীম, এলডিপির ছাতা প্রতীকের প্রার্থী মো. হুমায়ুন কবির, জাতীয় পার্টি (জেপি)-এর লাঙ্গল মার্কার প্রার্থী মীর আব্দুস সবুর, বাংলাদেশ লেবার পার্টির আনারস মার্কার প্রার্থী মো. গোলাম আজম, জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন, বিএনপির ধানের শীষ মার্কার প্রার্থী মো. নবী উল্লাহ নবী এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের ডাব মার্কার প্রার্থী মো. সাইফুল আলম।

ভোটাররা যা বলছেন

সামসুল হক খান স্কুল এলাকার বাসিন্দা জাকের হোসেন বলেন, এই এলাকায় নবী উল্লাহ নবী একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ। তিনি এর আগেও ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন এবং নাগরিকদের সঙ্গে ছিলেন।

কিন্তু অপর প্রার্থী কামাল হোসেনের নাম ৫ আগস্টের পরেই প্রথম শুনেছি। তার আগে শুনিনি। তাই প্রবীণ হিসেবে কিছুটা নবী সাহেবের পাল্লা ভারী। তবে যাত্রাবাড়ী এলাকায় বিএনপির ভোট বেশি থাকলেও ডেমরায় জামায়াতের অনেক গুপ্ত ভোটার রয়েছে। তবু এতে খুব বেশি প্রভাব পড়বে না। প্রায় একই সুরে কথা বলেন যাত্রাবাড়ী এলাকার ব্যবসায়ী সিদ্দিকুর রহমান জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন, যাত্রাবাড়ীর মাটি বিএনপির ঘাঁটি। এখানে অন্য কেউ পাত্তা পাবে না।

তবে রাজনীতি নয়, এলাকার সমস্যাকে গুরুত্ব দিতে চান দনিয়া এলাকার গৃহবধূ আমরীন আরাফাত। তিনি গ্যাস ও পানি সংকটকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। যিনি এই দুই সমস্যার সমাধান করতে আশ্বাস দেবেন, তাকেই ভোট দেবেন বলে জানান তিনি। তার মতে, গত কয়েক বছর ধরে এই এলাকার বাসিন্দারা গ্যাস সংকটে জর্জরিত। এর সঙ্গে রয়েছে জলাবদ্ধতা। সামান্য বৃষ্টিতেই অনেক এলাকা পানিবন্দী হয়ে যায়। তাই প্রার্থীদের এসব বিষয়ে জোর দেওয়ার আহ্বান জানান এই নারী ভোটার। ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকার তরুণ ভোটার কাইমুল হক জানান, একসময় দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি প্রাধান্য পেত। এখন সেই দিন নেই। এখন যিনি স্মার্টভাবে মাদক নির্মূল, গ্যাস ও পানি সংকটসহ এলাকার সমস্যার সমাধান করতে পারবেন, মানুষ তাকেই ভোট দেবে। এখানে নবীন-প্রবীণের বিষয় নয়। ঢাকা-৫ আসনে অনেক মাদ্রাসা রয়েছে। জুলাই আন্দোলনে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল। মাদ্রাসাছাত্র আবরার নইম বলেন, মাদ্রাসাকেন্দ্রিক ভোট ইসলামী দলগুলোর দিকেই যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী সুবিধা পেতে পারেন। প্রার্থীদের বক্তব্য

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা সমন্বয় কমিটির ঢাকা-৫ আসনের আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন যাত্রাবাড়ী থানা বিএনপির আহ্বায়ক জামশেদুল আলম শ্যামল। সদস্যসচিব হিসেবে রয়েছেন ফেরদৌস হোসেন রনি।

নিজের অবস্থান প্রসঙ্গে বিএনপির প্রার্থী নবী উল্লাহ নবী বলেন, ১৯৯১ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে এখানে মাতৃসদন হাসপাতাল করেছেন। ডেমরা ব্রিজও খালেদা জিয়া করেছেন। অন্য কোনো সংসদ সদস্য সরকারি হাসপাতাল, সরকারি কলেজ, খেলাধুলার মাঠ বা বিনোদনের জন্য কিছুই করেননি। নাগরিক সুবিধা থেকে ঢাকা-৫ আসনের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন বঞ্চিত। বর্তমানে নতুন সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে গ্যাস ও পানি সংকট। অথচ এই এলাকার ওপর দিয়েই সারা দেশের গ্যাসলাইন গেছে। গত ১৮ বছর যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা এই গ্যাস-পানি সমস্যা নিয়ে কিছুই করেনি। প্রায় ১২ লাখ মানুষের বসবাস এই এলাকায়। অল্প বৃষ্টি হলেই পানি উঠে যায়, মানুষ জলাবন্দী হয়ে পড়ে। ইনশাআল্লাহ নির্বাচিত হলে জনগণের এই আকাঙ্ক্ষা পূরণের চেষ্টা করব। সরকার যদি আসনভিত্তিক চাহিদা অনুযায়ী বাজেট দেয়, তাহলে আমরা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারব।

দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, এই এলাকার অন্যতম সমস্যা হলো ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পয়ঃনিষ্কাশন সংকট। এই সমস্যা দীর্ঘদিনের। অপরিকল্পিত ও অদূরদর্শী নেতৃত্বের কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিরা যদি আগে দায়িত্ব পালন করতেন, তাহলে এই অব্যবস্থাপনা থাকত না। মানুষের কষ্ট লাঘব করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। নির্বাচিত হলে সর্বপ্রথম জনদুর্ভোগ লাঘবের কাজ করব।

Tags: গ্যাস পানি কামাল মুখোমুখি সংকটে ঢাকা-৫ নবীন প্রবীণ নবী