জ্যাকটরের বিশেষত্ব: ডেটা সোভারেন্টি জ্যাকটর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে বড় প্ল্যাটফর্মগুলো যোগাযোগ সহজ করলেও ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্যের বাণিজ্যিক ব্যবহারের উদ্বেগ বাড়ছে। এই প্ল্যাটফর্মটি কেবল একটি নতুন অ্যাপ নয়, বরং ব্যবহারকারীর তথ্যের ওপর তাদের নিজস্ব অধিকার বা 'ডেটা সোভারেন্টি' নিশ্চিত করার একটি কাঠামো হিসেবে কাজ করবে। এটি ইতোমধ্যেই গুগল প্লে স্টোর এবং অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে সাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
নর্ডিক অভিজ্ঞতা ও জিরো-নলেজ আর্কিটেকচার জ্যাকটরের প্রধান স্থপতি সুনীল কুমার সিং ফিনল্যান্ডে ২০ বছর ধরে ডিজিটাল গভর্নেন্স এবং সোশ্যাল ট্রাস্ট নিয়ে কাজ করেছেন। নর্ডিক অঞ্চলের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি এই প্ল্যাটফর্মের নকশা করেছেন। জ্যাকটরের প্রধান বিশেষত্ব হলো এর 'জিরো-নলেজ সার্ভার আর্কিটেকচার'। এর অর্থ হলো, প্ল্যাটফর্মটির নির্মাতারাও ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য দেখতে পারেন না।
সাইবার নিরাপত্তা ও মাল্টি-লেয়ার এনক্রিপশন ব্যবহারকারীর আপলোড করা ছবি বা ভিডিওর অপব্যবহার ও অনুমতিহীন প্রচার রোধে প্ল্যাটফর্মের 'নো-ইউআরএল' মিডিয়া ফ্রেমওয়ার্ক এবং মাল্টি-লেয়ার এনক্রিপশন কার্যকর ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোতে, যেখানে সাইবার নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল মর্যাদা একটি উদ্বেগের বিষয়, সেখানে নারীদের জন্য এটি একটি শক্তিশালী সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আর্থিক স্বাধীনতা ও কর্মসংস্থান প্রথাগত স্টার্টআপের মতো জ্যাকটর ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বা সরকারি অনুদানের ওপর নির্ভরশীল নয়। সুনীল সিংয়ের মতে, বিনিয়োগকারীর মুনাফার চাপ অনেক সময় ব্যবহারকারীর তথ্য বিক্রির বা নজরদারির পথ তৈরি করে। আর্থিক স্বাধীনতা জ্যাকটরকে নজরদারি-ভিত্তিক বাণিজ্যিক মডেল থেকে মুক্ত থাকতে সহায়তা করছে। এর পাশাপাশি, বাংলাদেশে জ্যাকটরের কার্যক্রম স্থানীয় তরুণদের জন্য উচ্চতর প্রযুক্তিগত কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করছে। এনক্রিপশন, লোকলাইজেশন এবং প্ল্যাটফর্ম গভর্নেন্সের মতো বিশেষায়িত ক্ষেত্রে দক্ষ জনবল তৈরির মাধ্যমে তরুণরা আঞ্চলিক ডিজিটাল অবকাঠামো নির্মাণে অংশীদার হতে পারবে।