• রাজনীতি
  • তারেক রহমানকে কাছে পেয়ে ঢাকা-৪ আসনের যে দাবি তুলে ধরলেন রবিন

তারেক রহমানকে কাছে পেয়ে ঢাকা-৪ আসনের যে দাবি তুলে ধরলেন রবিন

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
তারেক রহমানকে কাছে পেয়ে ঢাকা-৪ আসনের যে দাবি তুলে ধরলেন রবিন

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সরাসরি সামনে পেয়ে ঢাকা-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী তানভীর আহমেদ রবিন তার এলাকার নানা সমস্যার প্রতিকারের জন্য নির্দিষ্ট দাবি ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেছেন।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা পূরণের স্বার্থে তিনি তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ও পরিকল্পনার দিকে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) জুরাইন–দয়াগঞ্জ লিংক রোডে আয়োজিত ঢাকা-৪ আসনের নির্বাচনী পথসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব দাবি তুলে ধরেন।

তানভীর আহমেদ রবিন বলেন, ঢাকা মহানগরের ১৫টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নাগরিক বঞ্চিত এলাকা হলো শ্যামপুর–কদমতলী।

যুগের পর যুগ ধরে এই এলাকার মানুষ চরম কষ্টের মধ্যে বসবাস করছে, কিন্তু তাদের দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষা এলেই আমাদের এলাকার রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায়। তখন নামাজ পড়া যায় না, ব্যবসা করা যায় না, এমনকি ঘরে বসবাস করাও কঠিন হয়ে পড়ে। কোটি কোটি টাকা বরাদ্দের কথা শোনা গেলেও বাস্তবে জলাবদ্ধতা থেকে মানুষ আজও মুক্ত হয়নি। তিনি আরও বলেন, শ্যামপুর–কদমতলীর পানি মূলত দুটি পথে নিষ্কাশিত হয়—এক অংশ বুড়িগঙ্গা নদীতে এবং বড় অংশ নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে। এ সমস্যা সমাধানে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরকে নিয়ে একটি সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তবে বর্তমান সরকার সেই উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তানভীর আহমেদ রবিন বলেন, ১৯৯১ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই এলাকার গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখনন করেছিলেন।

আজ সেই খাল পুনরুদ্ধার ও আধুনিকায়ন জরুরি। খালের দুই পাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করে এলাকাবাসীর চলাচল সহজ করার অঙ্গীকার তিনি ইতোমধ্যে করেছেন। স্বাস্থ্যসেবার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, এই এলাকায় মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে এই এলাকার মানুষ অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। অথচ আজ এখানে একটি সরকারি হাসপাতাল বা কার্যকর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র নেই।

নিয়মিত ট্যাক্স ও ফি দিয়েও মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। তিনি শ্যামপুর–কদমতলীতে একটি সরকারি হাসপাতাল স্থাপনের জোর দাবি জানিয়ে বলেন, আগামী দিনে বিএনপি সরকার গঠন করলে এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে এই দাবি বাস্তবায়ন হবে, এই আশা আমরা রাখি।

গ্যাস ও পানির সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে স্থাপিত গ্যাস লাইনের কোনো রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় আজ মা-বোনেরা রান্নার গ্যাস পাচ্ছেন না। রাজধানী ঢাকায় বসবাস করেও মানুষ কাঠের চুলায় রান্না করছে, এটি লজ্জাজনক।

কর্মসংস্থান বিষয়ে তিনি বলেন, চাকরির অভাবে আজ আমাদের সন্তানরা হতাশ হয়ে পড়ছে। কেউ কেউ কিশোর গ্যাং ও অপরাধের পথে যাচ্ছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত শ্যামপুর শিল্প এলাকায় ৪২টি কারখানা চালু থাকলেও বর্তমানে মাত্র ১৮টি কোনোভাবে টিকে আছে। এসব কারখানা পুনরায় চালু করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।

তিনি বলেন, এই এলাকায় ১০ থেকে ১৫ লাখ মানুষের বসবাস। অথচ নেই কোনো খেলার মাঠ, পার্ক বা কমিউনিটি সেন্টার। বুড়িগঙ্গা নদীর তীর ঘিরে কর্মসংস্থান ও বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে।

যোগাযোগ ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, অপরিকল্পিত ফ্লাইওভার ও দেয়ালের কারণে মানুষ চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে এবং দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে। দ্রুত ফুটওভারব্রিজ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

২০১৪ সালে কিছু জমি খাস ঘোষণার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তানভীর আহমেদ রবিন বলেন, এর ফলে মানুষ জমি নামজারি ও হস্তান্তর করতে পারছে না। এতে পারিবারিক ও আর্থিক সংকট বাড়ছে। এই সমস্যার ন্যায়সঙ্গত সমাধান প্রয়োজন।

সবশেষে তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ বিএনপিকে বিজয়ী করবে। ইনশাআল্লাহ তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন। তখন শ্যামপুর–কদমতলীর দীর্ঘদিনের সব বঞ্চনার অবসান ঘটবে।

তিনি এলাকাবাসীর উদ্দেশে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা পাশে থাকার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন।