দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিধিবদ্ধ নীতি-নিয়মে চলবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর দেশে ফিরে সরকার গঠনের পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে তিনি একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ ও মানবিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কঠোর বার্তা প্রধানমন্ত্রী বলেন, "ফ্যাসিবাদী সময়কালের দুর্নীতি ও দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও দুর্বল শাসন কাঠামোর মধ্য দিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। জনগণের মনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।" তিনি বিশেষ করে জুয়া এবং মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সব ধরনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন।
রমজানে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও জনসেবা পবিত্র রমজান উপলক্ষে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রমজানকে যেন ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফা লাভের মাস হিসেবে গণ্য না করেন। দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে মাফিয়া সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এছাড়া ইফতার, তারাবি ও সেহরির সময় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
সংসদ সদস্যদের জন্য কৃচ্ছতা সাধনের দৃষ্টান্ত প্রধানমন্ত্রী একটি বৈপ্লবিক ঘোষণা দিয়ে জানান, বিএনপি থেকে নির্বাচিত কোনো সংসদ সদস্য সরকারি সুবিধা নিয়ে ‘ট্যাক্স ফ্রি’ গাড়ি আমদানি করবেন না এবং কোনো সরকারি প্লট সুবিধা নেবেন না। তিনি মনে করেন, ন্যায়পরায়ণতার আদর্শ বাস্তবায়নে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। জনগণের ওপর কৃচ্ছতা সাধনের আহ্বান জানানোর আগে সরকার ও দলের পক্ষ থেকেই এই দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে।
যানজট নিরসন ও রেল ব্যবস্থার উন্নয়ন রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরগুলোর যানজট নিয়ন্ত্রণে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে নতুন সরকার। প্রধানমন্ত্রী জানান, নৌ, সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে সমন্বয় এনে রেল ব্যবস্থাকে সহজ ও নিরাপদ করা হবে, যাতে নগরকেন্দ্রিক জনসংখ্যার চাপ হ্রাস পায়।
দক্ষ জনশক্তি ও কর্মসংস্থানের অঙ্গীকার তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, বিশাল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তর করতে পারলে বিশ্ববাজার আমাদের জন্য উন্মুক্ত হবে। তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগে টিকে থাকতে মেধায়-জ্ঞানে যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সব নাগরিকের সমান অধিকারের ঘোষণা ভাষণের শেষে প্রধানমন্ত্রী ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাংলাদেশির সমান অধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, "দল-মত নির্বিশেষে এই দেশ আমাদের সবার। এই সরকার আপনাদেরই সরকার। প্রতিটি নাগরিকের অধিকার এখানে সমান।"