ক্যাম্পাস জীবনের আবহে পবিত্র রমজান এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। বিশেষ করে আবাসিক হলের ডাইনিংয়ের ব্যস্ততা আর শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে সেহরি খাওয়ার দৃশ্য এক চিরাচরিত রূপ। তবে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ভাষা শহিদ আব্দুস সালাম হলের ডাইনিংয়ে ঘটল এক ব্যতিক্রমী ঘটনা। কোনো প্রটোকল বা আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাতে পাত মিলিয়ে সেহরি খেলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (Vice-Chancellor) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল।
সারপ্রাইজ ভিজিট ও আন্তরিক আলাপচারিতা
রমজানের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রা এবং হলের সুযোগ-সুবিধা সশরীরে পর্যবেক্ষণ করতে এই ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’ বা অনানুষ্ঠানিক সফরের সিদ্ধান্ত নেন উপাচার্য। ভোররাতে হলের ডাইনিংয়ে উপাচার্যকে দেখে রীতিমতো অবাক হন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। কোনো বিশেষ আয়োজন নয়, বরং ডাইনিংয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত খাবার দিয়েই নিজের সেহরি সম্পন্ন করেন তিনি। খাবারের টেবিলে বসেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অত্যন্ত সহজ-সরল ও আন্তরিক আলাপচারিতায় (Interaction) মেতে ওঠেন ড. ইসমাইল।
খাবারের মান ও শিক্ষার্থীর কল্যাণে বিশেষ নজর
সেহরির অবসরে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সরাসরি তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন। পড়াশোনার পরিবেশ, হলের আবাসন ব্যবস্থা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—ডাইনিংয়ের খাবারের গুণগত মান সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেন। ড. ইসমাইল শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময়ই শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। রমজান মাসে যেন সুস্থ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে তারা সেহরি ও ইফতার করতে পারে, সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
উপাচার্যের এই ঝটিকা সফরে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ভাষা শহিদ আব্দুস সালাম হলের প্রভোস্ট (Provost) ও হল প্রশাসনের অন্যান্য সদস্যরা। হল প্রশাসন থেকে জানানো হয়, রমজান মাস উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ও পুষ্টিকর মেনু নির্ধারণ করা হয়েছে এবং খাবারের মান বজায় রাখতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।
পিতার স্নেহে শিক্ষার্থীদের পাশে উপাচার্য
নিজের এই সফরের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, “শিক্ষার্থীরা আমার সন্তানের মতো। তারা দূরে থেকে ক্যাম্পাসে পড়াশোনা করছে, তাদের ঠিকমতো যত্ন নেওয়া হচ্ছে কি না বা তারা কী খাচ্ছে—তা তদারকি করা আমার অভিভাবকসুলভ দায়িত্ব। খাবারের মান যথেষ্ট সন্তোষজনক মনে হয়েছে এবং এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছি। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক অগ্রগতি এবং মানসিক সুস্থতাকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।”
শিক্ষার্থী মহলে ইতিবাচক সাড়া
প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একজন ব্যক্তিকে নিজেদের মাঝে সাধারণের মতো বসে খাবার খেতে দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। হলের একাধিক ছাত্র জানান, উপাচার্যের এমন উপস্থিতি তাঁদের সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। তাঁদের মতে, এটি কেবল একটি সেহরি খাওয়া নয়, বরং প্রশাসনের সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দূরত্ব ঘুচিয়ে ফেলার একটি বলিষ্ঠ উদাহরণ।
উপাচার্য ড. ইসমাইল ক্যাম্পাসে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সুন্দর, ইতিবাচক এবং রাজনীতিমুক্ত শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। তাঁর এই উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।