বলিউডের স্পষ্টভাষী অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত নীনা গুপ্তা আবারও সমাজের রূঢ় বাস্তবতাকে তুলে ধরলেন। শুভঙ্কর মিশ্রার সঙ্গে এক আলাপচারিতায় তিনি জানান, ভারতীয় পুরুষদের কাছে বিয়ের ক্ষেত্রে কনের কুমারীত্ব এখনো একটি বড় মাপকাঠি।
আধুনিকতার আড়ালে রক্ষণশীলতা সঞ্চালক যখন বর্তমান যুগে কুমারীত্বের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন করেন, তখন নীনা গুপ্তা পালটা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, “এখন কী বদলেছে? কে বলেছে মানুষ খুব উদার হয়েছে? আমাদের দেশে অনেক কিছুই আসলে বদলায়নি।” তার মতে, যারা আধুনিক পোশাক পরে বা সুন্দর ভাষায় কথা বলে, তারা ভারতের প্রকৃত চিত্র নয়। তারা সংখ্যালঘু। আসল ভারতে এখনো নারীরা অনেক ক্ষেত্রে পরাধীন।
পারিবারিক অভিজ্ঞতায় নারী স্বাধীনতা নারীরা বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে কতটা চাপের মধ্যে থাকেন, তা বোঝাতে গিয়ে নীনা নিজের পরিবারের কিছু উদাহরণ টেনে আনেন। তিনি জানান, তার এক আত্মীয়ের মেয়ে মুম্বাইয়ের মতো শহরে থেকেও শ্বশুরবাড়িতে নিজের পছন্দের গুরুর ছবি রাখতে পারেননি শাশুড়ির আপত্তিতে। এমনকি তার ভাতিজিকে তার নিজের বাবা-মায়ের ছবি বিছানার পাশের টেবিলে রাখতে দেওয়া হয়নি। এই ছোট ছোট বিষয়গুলোই প্রমাণ করে যে, সমাজে নারীর অবস্থার পরিবর্তন হতে এখনো দীর্ঘ পথ বাকি।
নীনা গুপ্তার ব্যক্তিগত সংগ্রাম আশির দশকে ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি ক্রিকেটার ভিভ রিচার্ডসের সঙ্গে প্রেম এবং পরবর্তীতে বিয়ে না করেই সন্তান মাসাবার জন্ম দিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন নীনা। সেই সময়কার রক্ষণশীল সমাজে একা মা হিসেবে তিনি যে লড়াই করেছেন, তা আজও অনেকের কাছে অনুপ্রেরণা। ২০০৭ সালে তিনি বিবেক মেহরাকে বিয়ে করে নতুনভাবে জীবন শুরু করেন। পেশাদার জীবনে ‘সাথ সাথ’ সিনেমা দিয়ে শুরু করে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে পর্দায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন এই অভিনেত্রী।