বলিউডে অভিনেতা, নির্মাতা ও গায়ক—সব পরিচয় ছাপিয়ে এবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পা রাখতে চলেছেন ফারহান আখতার। কিংবদন্তি ব্যান্ড দ্য বিটলসকে কেন্দ্র করে নির্মিতব্য স্যাম মেন্ডেসের চার পর্বের চলচ্চিত্র প্রকল্পে তিনি সেতারসম্রাট পণ্ডিত রবিশঙ্করের রূপ ধারণ করবেন।
‘স্বপ্নের মতো’ এক সুযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বড় ঘোষণাটি শেয়ার করে ফারহান তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানান, এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ প্রকল্পের অংশ হতে পেরে তিনি অত্যন্ত সম্মানিত। বিটলস এবং পণ্ডিত রবিশঙ্করের সৃজনশীলতা যে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করছে, সে কথা স্মরণ করে ফারহান নির্মাতা স্যাম মেন্ডেসের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তাঁর ভাষায়, এটি তাঁর কাছে একটি ‘স্বপ্নের মতো ব্যাপার’।
বিটলসের কাহিনি নিয়ে চার চলচ্চিত্র ‘দ্য বিটলস: আ ফোর-ফিল্ম সিনেম্যাটিক ইভেন্ট’ শিরোনামের এই প্রকল্পে ব্যান্ডের প্রতিটি সদস্যের জীবন ও দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা চারটি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হবে। এতে পল ম্যাকার্টনির চরিত্রে পল মেসকাল, জন লেননের চরিত্রে হ্যারিস ডিকিনসন, রিঙ্গো স্টারের চরিত্রে ব্যারি কিওগান এবং জর্জ হ্যারিসনের ভূমিকায় অভিনয় করবেন জোসেফ কুইন। ষাটের দশকের বিশ্বসংগীত কাঁপানো এই ব্যান্ডের ভাঙনের পরও তাঁদের প্রভাব আজও বিশ্বজুড়ে অটুট।
রবিশঙ্কর ও জর্জ হ্যারিসন: এক সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধ পণ্ডিত রবিশঙ্কর কেবল একজন ভারতীয় সংগীতজ্ঞ নন, বরং তিনি ছিলেন পাশ্চাত্য ও প্রাচ্যের সংগীতের এক মহান সেতুবন্ধ। বিটলস সদস্য জর্জ হ্যারিসনের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব ও শিষ্যত্বের সম্পর্ক ব্যান্ডটির সংগীতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিল। ‘নরওয়েজিয়ান উড’ বা ‘উইদইন ইউ উইদাউট ইউ’-এর মতো গানে ভারতীয় বাদ্যযন্ত্রের প্রয়োগ সেই সময় বিশ্বসংগীতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। এছাড়া ১৯৭১ সালে তাঁদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ বৈশ্বিক মানবিক ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অংশ। ফারহান আখতারের জন্য এই চরিত্রটি শুধু অভিনয় নয়, বরং দুই সংস্কৃতির মিলনের প্রতীক বহন করার এক বড় দায়িত্ব।
হলিউডে ফারহানের বড় চ্যালেঞ্জ ফারহান এর আগে ২০২২ সালে মার্ভেল স্টুডিওসের ‘মিস মার্ভেল’ সিরিজে একটি ক্যামিও চরিত্রে অভিনয় করলেও, বড় পর্দায় কেন্দ্রীয় ঐতিহাসিক চরিত্রে এটিই তাঁর প্রথম কাজ। ‘দিল চাহতা হ্যায়’ দিয়ে পরিচালক হিসেবে শুরু করে ‘রক অন!!’ বা ‘ভাগ মিলখা ভাগ’-এর মতো ছবিতে নিজেকে প্রমাণ করা ফারহানের জন্য রবিশঙ্করের মতো ব্যক্তিত্বকে পর্দায় জীবন্ত করা এক বিশাল চ্যালেঞ্জ।
মুক্তি ও প্রত্যাশা প্রকল্পটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে এখনই ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ছবিটি ২০২৮ সালের এপ্রিলে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। সেতারের সুরে বিশ্বসংগীতের এক কিংবদন্তিকে ফারহান কীভাবে পর্দায় তুলে ধরবেন, এখন শুধু সেটিই দেখার অপেক্ষা।